নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-০৯-০৭ , ০৪:২৬ পিএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
বাগেরহাটে শিক্ষা কর্মকর্তার ওপর ভরসা করে শিক্ষকের অপরাধের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন বলে অভিযোগে করেন মোরেলগঞ্জ উপজেলার দৈবজ্ঞহাটি ইউনিয়েনের পিয়ারা বেগম নামে এক গৃহবধূ। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এডিপিইও) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে তদন্তের অত্যন্ত গোপনীয় তথ্য অভিযুক্ত শিক্ষকের কাছে ফাঁস করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
তথ্য ফাঁসের এমন অভিযোগের কিছুদিন পর অভিযুক্ত শিক্ষক ওই সাক্ষীর ওপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে টাকা-পয়সা ও মোবাইল ছিনিয়ে নিয়েছে বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
এ ঘটনায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে গত ১ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় তদন্তের মাধ্যম বিচার চেয়ে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন ওই গৃহবধূ।
লিখিত ওই অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের জড়িত থাকার বিষয়ে পত্রিকায় লেখালেখির কারণে তদন্ত করছিলেন এডিপিইও আমিনুল ইসলাম। গত ২৮ জুলাই তিনি স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অত্যন্ত গোপনে জবানবন্দি ও সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এডিপিইও আমিনুল ইসলাম।
এর জের ধরে গত ১৮ আগস্ট অভিযুক্ত শিক্ষক ও তার সহযোগীরা পথরোধ করে সাক্ষী পিয়ারা বেগমের স্বামী হাদিস গাজীকে নির্মমভাবে মারধর করে এবং তার সাথে থাকা নগদ টাকা ও মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। হামলার সময় অভিযুক্ত শিক্ষক মহিদুল ইসলাম চিৎকার করে বলতে থাকেন, "তুই কেন আমার বিরুদ্ধে শিক্ষা অফিসারের কাছে সাক্ষী দিলি?"
নিয়ম অনুযায়ী এই তদন্ত সম্পূর্ণ গোপন রাখার আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও, তা লিখিত জবানবন্দিসহ কীভাবে আসামীর কাছে পৌঁছে যায়-এমন প্রশ্ন রাখেন ভুক্তভোগী পিয়ারা বেগম।
এই ঘটনার পর ভুক্তভোগী সাক্ষী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে নাগরিক পত্রিকাকে জানান। তিনি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস, উপপরিচালক খুলনা এবং মহাপরিচালক শিক্ষা অধিদপ্তর বরাবরে এডিপিইও এবং সহকারী শিক্ষক মহিদুলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
অভিযোগকারী পিয়ারা বেগম নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, ‘১৩৬ নং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মহিদুলের অত্যাচারে আমি তার বিরুদ্ধে ৫টি মামলা করি। তার বিরুদ্ধে আরও অনেক মামলা আছে। এ বিষয়ে পত্রিকায় লেখালেখি হলে এডিপিইও তদন্ত করতে আসলে আমাকে সাক্ষী দিতে বললে আমি সাক্ষী দিই। সাক্ষী দেওয়ার কারণে গত ১৮ আগস্ট আমার স্বামীকে মহিদুল ও তার ছোট ভাইসহ আরও কয়েকজন মিলে বেধড়রক মারধর করে টাকা, মোবাইল ছিনিয়ে নেয় মহিদুল।’
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বাগেরহাট জেলা প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা (এডিপিইও) আমিনুল ইসলাম নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, ‘‘আমি কোনও তথ্য ফাঁস করিনি।’’
সাক্ষী সুরক্ষার বিষয়ে তিনি অবগত আছেন-এমনটা জানিয়ে তিনি বলেন, সাক্ষী দেওয়ার কারণে যদি কোনও শিক্ষক মারধর করেন তবে অবশ্যই সেটি তিনি অন্যায় করেছেন এবং তার প্রচলিত আইনে শাস্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তারকে একাধিকবার মোবাইলে কল করে না পাওয়ায় তার কোনও বক্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।
এ সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন পড়ুন:
জজের বন্ধু সেজে স্কুল শিক্ষক মহিদুলের প্রতারণা; টাকা আত্মসাৎ
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন স্কুল শিক্ষক মহিদুল
অগ্নিসংযোগ, চুরি, ছিনতাইসহ ডজন মামলার আসামী শিক্ষক মহিদুল
প্রতারণা মামলায় সাজা: স্থায়ী চাকরি হারাতে পারেন কথিত শিক্ষক মহিদুল
সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষক মহিদুলের চাকরি বাঁচাতে মিথ্যা প্রতিবেদনে রক্ষাচেষ্টা এডিপিইও’র
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.