প্রতারণা মামলায় সাজা: স্থায়ী চাকরি হারাতে পারেন কথিত শিক্ষক মহিদুল

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০৭-০১ , ০৪:১৪ পিএম

প্রতারণা মামলায় সাজা: স্থায়ী চাকরি হারাতে পারেন কথিত শিক্ষক মহিদুল ছবি: নাগরিক পত্রিকা

হিদুল ইসলাম ওরফে মহিদুল গাজী। বাগেরহাট জেলার মোড়েলগঞ্জ উপজেলার ১৩৬ নং পশ্চিম গাজিরঘাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক তিনি। কাগজে-কলমে পেশায় শিক্ষক হলেও তার এলাকায় যেন ফৌজদারি মামলা আর অপরাধের হালখাতা খুলে বসেছেন তিনি। শিক্ষকতা পেশায় ২০২০ সালের মার্চের ১১ তারিখ যোগদান করলেও নিজেকে জজের বন্ধু পরিচয় দিয়ে প্রতারণামূলক টাকা আত্মসাতের একটি মামলায় কারাভোগের কারণে সাময়িক চাকরিচ্যুত হয়েছেন তিনি।  

কথিত এই শিক্ষকের অপকর্ম নিয়ে নাগরিক আইপি টিভি এর আগে দুটি মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদন প্রচার করে। সেখানে মহিদুলের ৮টি মামলার নথিপত্র উল্লেখ করা হয়। যেসব মামলায় তাকে প্রধান আসামী হিসেবে চিহ্নিত করে পুলিশ ও পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের মতো দায়িত্বশীল সংস্থা সংশ্লিষ্ট আদালতে অপরাধ প্রমান হয়েছে বলে প্রতিবেদন দাখিল করে।

ঐসব মামলার মধ্যে প্রতারণামূলক টাকা আত্মসাতের একটি মামলায় কথিত শিক্ষক মহিদুলের বিরুদ্ধে তিন মাসের সাজা ঘোষণা করে আদালত। সিআর মামলা নং ১৮/২১ কচুয়া এসআর-৬৫০/২১।

সূত্র মতে, বাংলাদেশর আইনি কাঠামোতে "নৈতিক স্খলন" (Moral Turpitude) এবং "আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্তি" অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়। "প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাৎ" অপরাধের কারণে একজন শিক্ষক সরকারি চাকরিতে বহাল থাকতে পারে না।

এ বিষয়ে আইনে যা বলা হয়েছে: বাংলাদেশের সংবিধানের ১৩৫ (১) উপ-দফা (Proviso i) অনুচ্ছেদ স্পষ্ট বলা আছেযদি কোনও ব্যক্তি ফৌজদারি অপরাধে আদালত কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত (Conviction) হন, তবে তাকে কোনও কারণ দর্শানোর নোটিশ বা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই সরাসরি চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অপসারণ করা যাবে। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ক্ষেত্রে The Public Servants (Dismissal on Conviction) Ordinance, 1985-এর ধারা ৩ প্রযোজ্য।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী নাগরিক পত্রিকাকে জানান, কোনও সরকারি কর্মচারী বা শিক্ষক ফৌজদারি অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হয়ে আদালত কর্তৃক দণ্ডিত হলে, রায়ের দিন থেকেই তিনি চাকরি থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বরখাস্ত (Stand dismissed) হবেন এবং "নৈতিক স্খলনজনিত" কারণে তিনি শিক্ষক পদে নিয়োগ বা চাকরিতে বহাল থাকার যোগ্যতা হারাবেন।

তিনি বলেন, আইনি পরিভাষায় "নৈতিক স্খলন" (Moral Turpitude) বলতে এমন অপরাধকে বোঝায় যা সমাজ ও আইনের চোখে তীব্র চারিত্রিক অবক্ষয় হিসেবে গণ্য। চুরি, এবং প্রতারণা বা অর্থ আত্মসাৎ সরাসরি নৈতিক স্খলনের অন্তর্ভুক্ত। আইনে সাধারণত নৈতিক স্খলনের ক্ষেত্রে সাজার মেয়াদ ১ দিন হলেও সেটি চাকরিচ্যুতির জন্য যথেষ্ট।

তিনি আরও বলেন, একজন শিক্ষককে সমাজের আদর্শ এবং শিক্ষার্থীদের রোল মডেল মনে করা হয়। তাই আদালত যখন তাকে "প্রতারক" বা "অর্থ আত্মসাৎকারী" হিসেবে রায় দেয়, তখন তিনি শিক্ষকতার নৈতিক অধিকার এবং আইনি যোগ্যতাউভয়ই তাৎক্ষণিকভাবে হারান।

এ বিষয়ে বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিসার, নাসরিন আক্তার নাগরিক পত্রিকাকে জানান, অভিযুক্ত সহকারি শিক্ষক মহিদুলকে কারাভোগের কারণে তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। আমরা বেশ কয়েকটি টিভি এবং পত্রিকার প্রতিবেদনের আলোকে মহিদুলের বিষয়ে ইতিমধ্যে তদন্ত শুরু করেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসারকে এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ড. শফিকুল ইসলাম নাগরিক পত্রিকাকে জানান, ওই শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত অবস্থায় আছে। তার এসব ফৌজদারি এবং নৈতিক স্খলনের মামলার বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন:

জজের বন্ধু সেজে স্কুল শিক্ষক মহিদুলের প্রতারণা; টাকা আত্মসাৎ

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন স্কুল শিক্ষক মহিদুল

অগ্নিসংযোগ, চুরি, ছিনতাইসহ ডজন মামলার আসামী শিক্ষক মহিদুল