শফি-কুদ্দুসের অবৈধ অস্ত্রেই অশান্ত চট্টগ্রাম নগরীর একাংশ

 রোমান শেখ
আপডেট: ২০২০-০৮-০৫ , ০১:১১ পিএম

শফি-কুদ্দুসের অবৈধ অস্ত্রেই অশান্ত চট্টগ্রাম নগরীর একাংশ ছবি: নাগরিক পত্রিকা

ফিকুল ইসলাম ওরফে গ্যারেজ শফি। অন্যজন কুদ্দুস ওরফে কানা কুদ্দুস। অনেকে বলে মুদ্রার এপিট-ওপিঠ ওরা। দুজনের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, জায়গা দখল-বেদখলসহ রয়েছে আড়াই ডজন মামলা। ১২ বছর আগে জিরো শফি-কুদ্দুসদের এখন পা মাটিতে পড়েনা! হত্যা, অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজি, জায়গা দখল-বেদখলসহ নানান অপকর্ম করে হয়েছেন বিশাল অর্থ-বৈভরের মালিক। তাদের অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহারে কয়েকদিন পরপর অশান্ত হয় চট্টগ্রাম নগরীর শেরশাহ-বায়েজিদের বৃহত্তর এলাকাগুলো। দাপটের সঙ্গে এরা এসব অপকর্ম করে গেলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী যেন ছুঁ-তেই পারছে না তাদের।

সম্প্রতি নাগরিক পত্রিকায় শফি-কুদ্দুসের অস্ত্রের মজুদ ও তার বাহিনীর অপকর্মের বিষয়ে অনুসন্ধান চালায়। আর এ অনুসন্ধানে শফি-কুদ্দুস ও তাদের বাহিনীর অস্ত্রের মজুদ সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসে। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে এসব অস্ত্রের ব্যবহার সম্পর্কে জানলেও এসব অস্ত্রের মজুদ কোথায়- সে সম্পর্কে কোনও তথ্য নেই তাদের কাছে।

পুলিশ বলছে, স্থানীয় সন্ত্রাসী শফি এবং কুদ্দুস ও তাদের ছত্রছায়ায় থাকা অনেকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও জায়গা দখল-বেদখলসহ নানান অপকর্মের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে মামলা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী বিভিন্ন সময়ে এসব মামলায় আসামিদের ধরতে অভিযান চালিয়ে বেশ কয়েকটি অস্ত্র উদ্ধার করেছে।

তবে, সূত্রের দাবি, এ পর্যন্ত যেসব অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে সেসব দেশিয় তৈরি অস্ত্র। শফি-কুদ্দুস এসব অস্ত্র তাদের থার্ড লেভেলের (মাঠ পর্যায়ে) সন্ত্রাসীদের ব্যবহার করতে দেয়। যা কেবল বিভিন্ন ব্যবসায়ী, ভবন নির্মান, জায়গার মালিকসহ টার্গেট করা বিভিন্ন মানুষ ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা দাবি এবং ছিনতাই কাজে ব্যবহার করা হয়। ফাঁকা গুলি ছুঁড়ে বিকট শব্দ ছড়িয়ে এরা ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এসব দেশিয় তৈরি অস্ত্র দিয়ে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শেরশাহ ও বায়েজিদ এলাকায় শফি-কুদ্দুসের উত্থানের পর থেকে এ পর্যন্ত যেসব হত্যাকাণ্ড হয়েছে সেসব হত্যাকাণ্ডে ভারী এবং বিদেশি অস্ত্রের ব্যবহার হয়েছে। এছাড়া তাদের আধিপত্য বিস্তার ও প্রতিপক্ষের সাথে লড়াই করতে ভারী অস্ত্রের মজুদ রেখেছে শফি-কুদ্দুস। আর এসব ভারী অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে- ২টি একে-২২, রাইফেল ১টি, শর্টগান ৩টি ও পিস্তল ৭টি। এছাড়াও দেশিয় তৈরি এলজি ও বন্দুক রয়েছে অসংখ্য।

সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর থেকে এ পর্যন্ত শেরশাহ-বায়েজিদ এলাকায় সরকারদলীয় ৯জন নেতা-কর্মী ও সমর্থক খুন হয়েছেন। আর প্রতিটি খুনেই ব্যবহার হয়েছে বিদেশি অত্যাধুনিক অস্ত্র। ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদলকেও খুন করা হয় বিদেশি অত্যাধুনিক অস্ত্রের ব্যবহারে।

আর বাদল হত্যাকাণ্ডে বিদেশি পিস্তল ব্যবহার করা হয়েছে-এমনটাই বলছেন জৈষ্ঠ্য আইনজীবী চন্দন বিশ্বাস। তিনি মেহেদী হত্যা মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী।

চন্দন বিশ্বাস নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, ‘বাদলকে হত্যাকাণ্ডে বিদেশি পিস্তলের ব্যবহার করা হয়েছে।’

মেহেদী হাসান বাদলের স্ত্রী নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, ‘মেহেদীকে হত্যায় একটি গুলি করা হয়। যে গুলি মেহেদীর ঘাঁড়ে করা হলে মাড়ির দাঁত ভেদ করে কানের উপর দিয়ে বের হয়। বাদলের স্ত্রী বলেন, মেহেদী হত্যাকাণ্ডে ভয়ঙ্কর শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শেরশাহ-বায়েজিদকে দীর্ঘদিন যাবৎ শফি এবং কুদ্দুস বাহিনী অশান্ত করে রেখেছে। চাঁদাবাজি, অস্ত্র, জায়গা দখল-বেদখল থেকে শুরু করে এমন কোনও অপকর্ম নেই যে তারা করছে না। সম্প্রতি শফি বিদেশ থেকে ফিরে এশিয়া এ্যাপরেলসে তার ঝুঁট ও লেবার সাপ্লাইয়ের ব্যবসা শফি-কুদ্দুস তাদের নিয়ন্ত্রণে নিতে হুমকি দিচ্ছে’ বলেও জানান মেহেদীর স্ত্রী মোবাশ্বেরা বেগম।

জানা যায়, মেহেদী হাসান হত্যার পর প্রধান আসামি গোলাম রসুল সাদ্দামকে গোয়েন্দা পুলিশ সেসময় গ্রেফতার করলেও তার কাছ থেকে কোনও অস্ত্র উদ্ধার করতে পারেনি। এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি বিদেশি পিস্তল সাদ্দাম নিজ মাথায় ঠেকিয়ে তোলা ওই অস্ত্রের সন্ধান এখনও বের করতে পারেনি পুলিশ।

বায়েজিদ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, ছবিটি অনেক আগের। সম্প্রতি সাদ্দাম ১৩ মামলার আসামি সাদ্দামকে বায়েজিদ বোস্তামী পুলিশ গ্রেফতার করলে তার কাছ থেকে একটি দেশিয় তৈরি এলজি এবং একটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। বিদেশি ওই অস্ত্রের সন্ধান বা তথ্যের জন্য সাদ্দামকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানান তিনি।

তবে, সাদ্দামের প্রদর্শন করা সেভেন পয়েন্ট সিক্স ফাইভ নামে ওই অস্ত্রটি সাদ্দামের ছোট ভাই আজমের হেফাজতে আছে বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা যায়, বিভিন্ন সময়ে দায়ের হওয়া হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, জায়গা দখলসহ প্রায় আড়াই ডজন মামলায় আসামি হন শফি ও কুদ্দুস। শফি নিজের জিবন বাঁচাতে বিভিন্ন সময়ে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও বিভিন্ন পরিকল্পনা ও আধিপত্যের জানান দিতে হঠাৎ হঠাৎ দেশে এসে অবস্থান করে। কুদ্দুস দেশে থাকলেও বড় ধরনের অপকর্ম করে কিছু দিনের জন্য গাঁ ঢাকা দিলেও সময়-সুযোগে আবার এলাকায় ফিরে ত্রাস শুরু করে।

অস্ত্রের ধরণ ও সংখ্যা

অনুসন্ধানে জানা যায়, শফি এবং কুদ্দুসের দলে প্রায় ৩০ জন সদস্যের দুটি গ্রুপ আছে। শফির ও কুদ্দুসের নিজ হেফাজতে রয়েছে ২টি একে-২২, রাইফেল ১টি, শর্টগান ৩টি ও পিস্তল ৭টি। এসবের মধ্যে শফির হেফাজতে রয়েছে- ২টি একে-২২, রাইফেল ১টি, শর্টগান ২টি এবং পিস্তল ৪টি। আর কুদ্দুসের হেফাজতে রয়েছে-১টি শর্টগান এবং ৩টি পিস্তলসহ দেশিয় তৈরি কিছু এলজি ও বন্দুক।

শফি-কুদ্দুসের দলে সক্রিয় অস্ত্রধারী যারা

অনুসন্ধানে জানা যায়, শফি ও কুদ্দুসের দলে প্রায় ৩০ জনের মতো সদস্য থাকলেও বিভিন্ন সময়ে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ বড় ধরনের অপরাধে সক্রিয় রয়েছে-মাসুদ ওরফে কার মাসুদ, সোহেল ওরফে পিস্তল সোহেল, মফিজ, বাবুল ওরফে ওয়াশা বাবুল, দুলাল ওরফে লাল দুলাল, দুলালের ভাই আলাল, হাবিব ওরফে হামকা হাবিব, সাদ্দাম (কারাগারে), শামিম আজাদ ওরফে ব্লেড আজাদ, সোলেমান বাদশা, তানভীর, লুৎফর, আফসার, আলমগীর, গিট্টু কসাই, শাহআলম, রনি, জনি, সাইফুল ও আনোয়ারের ভাগিনা বাবুল।

এদের মধ্যে, সোহেল ওরফে পিস্তল সোহেলের বিরুদ্ধে অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ৯টি, মফিজের বিরুদ্ধে অস্ত্রসহ ৪টি, বাবুল ওরফে ওয়াশা বাবুলের অস্ত্রসহ ২টি, দুলাল ওরফে লাল দুলালের অস্ত্রসহ ৬টি,  সাদ্দামের হত্যা, অস্ত্রসহ ১৩টি, শামিম আজাদ ওরফে ব্লেড আজাদের হত্যা, অস্ত্রসহ ২টি,  সোলেমান বাদশার হত্যা, অস্ত্রসহ ২টি, তানভীরের হত্যা, অস্ত্রসহ ২টি।

অন্যদের বিরুদ্ধে রয়েছে, ছিনতাই, বিভিন্ন স্পটে আতঙ্ক ছড়াতে ভাঙচুর, জায়গা দখল-বেদখলে মারামারি-ভাঙচুর, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের মামলা।

সূত্রের দাবি, ২টি একে-২২ এবং ১টি রাইফেল রয়েছে শফি ও কুদ্দুদের হেফাজতে। আর শর্টগান ৩টি ও ৭টি পিস্তলসহ দেশিয় তৈরি অসংখ্য এলজি ও বন্দুক রয়েছে তালিকায় নাম উঠে আসা দুটি গ্রুপ সদস্যদের হেফাজতে। এছাড়াও শফির আপন ভাই ইলিয়াস এবং রাজা দেশে আসলে এসব অস্ত্র তাদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। মূলত শফি দুবাই চলে গেলে সস্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণ করতে ইলিয়াস এবং রাজা দেশে চলে আসে। সূত্রটি বলছে, শফি যেকোনও সময় দেশ ত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে। আর শফি চলে গেলেই ইলিয়াস এবং রাজা দেশে ফিরবে।

রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড

শফিকুল ইসলাম ওরফে গ্যারেজ শফি ও কুদ্দুস ওরফে কানা কুদ্দুস চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ, যুবলীগ বা আওয়ামী লীগের কোনও অঙ্গ সংগঠনের সাথে জড়িত না। নগর যুবলীগের আহবায়ক মহিউদ্দিন বাচ্চু নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, আমার জানা মতে, শফি ও কুদ্দুস এরা নগর যুবলীগের সংগঠনের সাথে জড়িত না। তবে, শফি সংযুক্ত আরব আমিরাত যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক।

দলের নাম ভাঙিয়ে যদি কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে তবে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করেন। এদের সাথে দলের কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।

জানা যায়, শফি ও কুদ্দুদের সিন্ডিকেটে যারা রয়েছে তারাও আওয়ামী লীগের কোনও দল বা সংগঠনের সাথে জড়িত না। ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে এরা খুন, অস্ত্র ব্যবসা, ব্যবহার ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন ধরনে অপরাধ করে যাচ্ছে। এছাড়া, লুৎফর ও আফসার তালিকাভুক্ত বিএনপির নেতা বলেও একটি সূত্র নিশ্চিত করেছে। যারা বর্তমানে নিজেদের শফি-কুদ্দুসের দলে থেকে স্ব-ঘোষিত যুবলীগ নেতা বলে দাবি করে।

শফিকুল ইসলাম শফি নিজেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দাবি করে নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, আমি দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। রাজনীতি করতে গিয়ে গ্রুপিংয়ের শিকারে আমি বিভিন্ন সময়ে মামলায় অভিযুক্ত হয়েছি।

তিনি বলেন, আমি ২০১৩ সালে ইউএই (আরব আমিরাত শাখা) যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক পদে থাকলেও ২০০১ সাল থেকে পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করছি। রাজনীতির টানে মাঝে মাঝে দেশে আসা হলেও অস্ত্রের রাজনীতির সাথে আমার কোনও সম্পর্ক নেই বলে জানান শফিকুল ইসলাম শফি।

শফি নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, মেহেদীর স্ত্রী'র ব্যবসা আমি নিয়ন্ত্রণে নেয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমিরাতে আমার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা রয়েছে।

কুদ্দুস নাগরিক পত্রিকাকে জানান, আমার কোনও কর্মী বা সমর্থক নেই। আমার সাথে যারা রাজনীতি করে তারা সবাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শে সৈনিক। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র। আমার বিরুদ্ধে কোনও ব্যক্তিগত মামলা নেই।

কুদ্দুস বলেন, আমি বর্তমানে নগরীর ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে দীর্ঘ ধরে দায়িত্ব পালন করছি। এর আগেও আমি শেরশাহ ইউনিট যুবলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক পদে ছিলাম।

সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি-উত্তর) বিজয় বসাক নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, বহন ও উদ্ধারে পুলিশ শতভাগ তৎপর। এছাড়া দলের নাম ভাঙিয়ে যারা খুন, অস্ত্র ব্যবসা, চাঁদাবাজির মতো অপরাধ কর্মকাণ্ড করছে তাদের বিষয়ে আমাদের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা তথ্য সংগ্রহ করছে।

তিনি বলেন, শেরশাহ-বায়েজিদ এলাকায় যারা এসব অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার করছে তাদের একটি তালিকা আমাদের হাতে রয়েছে। এছাড়া নতুনভাবেও আমরা তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছি। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও অস্ত্র ব্যবহারকারীদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে জানান তিনি।

বিজয় বসাক বলেন, এখন পুলিশের সাথে জনসাধারণের যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেক সহজ হয়েছে। চাঁদাবাজি, মাদক, জায়গা দখল বা কোনও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কেউ করলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা হচ্ছে।

এক প্রশ্নের জবাবে বিজয় বসাক বলেন, যারা অপরাধ করে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে। তবে, এক্ষেত্রে একটু সময় লাগলেও চৌকস পুলিশ সদস্যরা সন্ত্রাসীদের প্রতিটি কৌশলকে বুঝে গ্রেফতার করতে সক্ষম হচ্ছে।

বায়েজিদ বোস্তামী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পরিত্রাণ তালুকদার নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, পুলিশি সকল কর্মকাণ্ডের মধ্যে অস্ত্র ব্যবসায়ী-ব্যবহার ও চাঁদাবাজির ঘটনা রোধে অন্যতম ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য এবং পত্র-পত্রিকার প্রতিবেদনগুলোকে আমরা সব সময় যাচাই-বাছাই করে অভিযান পরিচালনা করছি।

বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, শেরশাহ-বায়েজিদ এলাকায় গুটি কয়েক সন্ত্রাসীর জন্য বিচ্ছিন্ন কয়েকটি ঘটনা ঘটে। তবে, অস্ত্রে ও চাঁদাবাজদের বিষয়ে থানা পুলিশ যথেষ্ট তৎপর রয়েছে বলে জানান তিনি।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধির বক্তব্য

২ নং জালালাবাদ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাহেদ ইকবার বাবু নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, শেরশাহ-বায়েজিদ এলাকায় কয়েকটি গ্রুপ আছে। যারা বিভিন্ন শিল্প-প্রতিষ্ঠানে ছোট-খাটো ব্যবসা করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে সংঘর্ষে জড়ায়। তবে এসব ছোট-খাটো সন্ত্রাসীদের পেছন থেকে কয়েকজন বড় সন্ত্রাসী অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মতো অপরাধে শেল্টার দিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমি স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে এসব সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে নিজের তৎপরতা অব্যাহত রেখে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকেও তথ্য দিয়ে সহায়তা করছি।

এক প্রশ্নের জবাবে বাবু বলেন, স্থানীয় কাউন্সিলর হিসেবে আমাকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যেতে হয়। সেখানে বিভিন্ন অপরাধী বা সন্ত্রাসীরা ফটোসেশনের জন্য উপন্থিত হয়। অনেককে না চেনার কারণে তাৎক্ষনিক কোনও ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয়না।

শফি এবং কুদ্দুদের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার জানা মতে, শফি সংযুক্ত আরব আমিরাত যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং কুদ্দুস ২নং জালালাবাদ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। তবে, তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি সাহেদ ইকবাল বাবু।