নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০৬-৩০ , ১০:০৩ এএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, ঘের দখল, মাছ, গরু স্বর্ণাঙ্কার, টাকা চুরিসহ প্রায় ডজন মামলার আসামী শিক্ষক মহিদুল ইসলাম ওরফে মহিদুল গাজী। ভুক্তভোগিদের পাঠানো বিভিন্ন মামলার নথী পর্যালোচনা করে ৮টি সক্রিয় মামলার প্রমাণ পাওয়া গেছে কথিত ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
জজের বন্ধু সেজে টাকা আত্মসাতের একটি প্রতারণা মামলায় গত ৩০ মার্চ আদালত তাকে কারাগারে পাঠনোর নির্দেশ দিলে প্রায় ১৪ দিন কারাভোগ করেন মহিদুল। বিষয়টি নিয়ে জেলা শিক্ষা অফিস তদন্ত করে মহিদুলের কারাভোগের প্রমাণ পেয়ে তাকে চাকুরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করেন।
কথিত এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে নাগরিক পত্রিকা এর আগে আরও দুটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সম্প্রতি নাগরিক আইপি টিভিতে দুটি মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদন করা হলে এলাকার অনেক ভুক্তভোগি লোকজন তার বিরুদ্ধে আরও তথ্য সরবরাহ করতে থাকে।
১ম প্রতিবেদন: জজের বন্ধু সেজে স্কুল শিক্ষক মহিদুলের প্রতারণা; টাকা আত্মসাৎ
২য় প্রতিবেদন: প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন স্কুল শিক্ষক মহিদুল
ভুক্তভোগি এলাকাবাসীর পাঠানো বিভিন্ন মামলার কাগজ পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বরখাস্তকৃত স্কুল শিক্ষক মহিদুল চুরি, ছিনতাই, জায়গা দখল-বেদখল, ঘেরের মাছ ও গোয়ালের গরু চুরিসহ কয়েকটি দ্রুত বিচার আইনের মামলায় আসামী। এরমধ্যে অধিকাংশ মামলায় স্থানীয় থানা এবং পুলিশ ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশনের মত তদন্তকারী সংস্থা মহিদুলের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতি্বেদন (চার্জশীট) দিয়েছেন। যা বাদীর দায়ের করা মামলার সত্যতা পেয়েছে বলে উল্লেখ করে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
অভিযুক্ত শিক্ষক মহিদুলের বিরুদ্ধে নাগরিক পত্রিকার হাতে আসা বিভিন্ন মামলার নথী পর্যালোচনা করে ৮টি সক্রিয় মামলার অস্তিত্ব গেলেও স্থানীয়দের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আরও অসংখ্য মামলা রয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে মোড়েলগঞ্জ থানার মামলা নং- ১৯। দলবল নিয়ে অন্যের ঘরে বেআইনী অনুপ্রবেশ করে মারপিট, নারীদের শ্লীলতাহানী, ভয়ভীতি ও অন্যেদের অপরাধ সংঘঠিত করতে হুকুম দেওয়ার অপরাধে ১০ জন আসামীর মধ্যে অভিযুক্ত শিক্ষক মহিদুল ইসলাম প্রধান ও ১ নাম্বার আসামী উল্লেখ করা হয়েছে। যে মামলায় ইতিমধ্যে পুলিশ ঘটনার সত্যতা পেয়ে আদালতে মহিদুলের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেছেন।
মোড়েলগঞ্জ থানার মামলা নং-১২। খুনের উদ্দেশ্যে অন্যের পথরোধ করে তাকে বস্ত্রহীন করে মারপিট করে টাকা পয়সা ছিনিয়ে হত্যার হুমকির অপরাধে পুলিশ তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে ইতিমধ্যে আদালতে মহিদুলের বিরুদ্ধে চার্জশীট দাখিল করেছেন। যে মামলায় সকল আসামীর মধ্যে মহিদুল প্রধান ২ নাম্বার আসামী।
মোড়েলগঞ্জ থানার মামলা নং-২৬। মামলটি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ এবং একই উদ্দেশ্যে বেআইনিভাবে অন্যদের একই কাজে প্ররোচনা দিয়ে অপরাধ সংঘটিত করা। যা দ্রুত বিচার আইনের ২০১২ সংশোধনী ২০২২ এর ৪ ও ৫ ধারার অপরাধ। মামলাটিতে মহিদুলের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্তকারি সংস্থা সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রতিবেদন দিয়েছে। এ মামলায় মহিদুলকে প্রধান ২ নাম্বার আসামী হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
সিআর মামলা নং ১৮/২৫। এ মামলায় ১০ জন আসামীর মধ্যে মহিদুল প্রধান ১ নাম্বার আসামী উল্লেখ করা হয়েছে। মামলাটি বাগেরহাট নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন আছে। এ মামলাটি ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ও ১১৭ (গ) ধারার অপরাধ।
সিআর মামলা নং ১৮/২১ কচুয়া এসআর-৬৫০/২১। এনআই অ্যাক্টের ১৩৮ ধারার এ মামলায় মহিদুল একক আসামী এবং এ মামলায় প্রতারণামূলক টাকা আত্মসাৎ প্রমাণিত হওয়ায় মহিদুলকে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তিন মাসের সাজা ঘোষণা করেন।
সিআর মামলা নং-৩/২৫ মোড়েলগঞ্জ। নিজেকে জজের বন্ধু হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে প্রতারণামূলক টাকা আত্মসাতের ঘটনায় মহিদুল ১৪ দিন জেল খাটেন। মামলাটিতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতি্বেদন দাখিল করেছেন। এ মামলায় কারাভোগের কারণে মহিদুলকে জেলা শিক্ষা অফিস সাময়িক বরখাস্ত করেন।
মহিদুল চাকরি ফিরে পেতে ইতিমধ্যে এই মামলায় বাদীর সাথে আপোষ মিমাংসা করে বাদীর এক লাখ ৫৫ হাজার টাকার মধ্যে ৯০ হাজার ফেরত দিয়েছে বলে বাদী জানান।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নাসরিন আক্তার নাগরিক পত্রিকাকে জানান, একটি মামলায় কারাভোগের কারণে মহিদুল ইসলাম নামে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলার বিষয়ে একটি দুটি প্রতিবেদনের আলোকে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সত্যতা পেলে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে বলে জানান তিনি।
মহিদুলের বিরুদ্ধে এসব মামলা ছাড়া্ও আরও মামলা রয়েছে। সিআর মামলা নং-৪২/২৫। মামলাটিতে ৮জন আসামীর মধ্যে মহিদুল প্রধান ১ নাম্বার আসামী। মামলাটি দ্রুত বিচার আইনের ৪ ও ৫ ধারার।
সিআর পিটিশন মামলা নং-২৬/২৫। ১২জন আসামীর মধ্যে মহিদুল প্রধান ১ নাম্বার আসামী। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বাগেরহাট আদালতে বিচারাধিন আছে। এ মামলায় মহিদুলের বিরুদ্ধে অভিযাগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এতো মামলা, অভিযোগের বিষয়ে কী ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম নাগরিক পত্রিকাকে জানান, এমন শিক্ষক সমাজের জন্য ক্ষতিকর। এই শিক্ষক চাকরিতে থাকার অধিকার রাখে না। তিনি বলেন, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে মহিদুলের বিষয়ে দ্রুতি আইনগত পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মহিদুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার মোবাইলে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও মোবাইলটি বন্ধ থাকায় তার কোনও বক্তব্য সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.