রৌফাবাদে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দুই কলোনীতে ২০টি মিটার চলছে জমির জাল কাগজে

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-১০-০৬ , ০২:০৩ পিএম

রৌফাবাদে ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দুই কলোনীতে ২০টি মিটার চলছে জমির জাল কাগজে ছবি: নাগরিক পত্রিকা

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের রৌফাবাদ এলাকার তিনটি প্লটের দুইট কলোনীতে চলছে অবৈধ বিদ্যুত। প্লটগুলোতে জাল দলিল দিয়ে মিটার সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে বলে দীর্ঘ দিনের অভিযোগ। প্লটগুলোর হোল্ডিং নম্বর হলো- ১২৬৯, ১২৭০, ১২৭১ । এর মধ্যে ১২৬৯, ১২৭০ হোল্ডিংয়ে ১৫ টি এবং ১২৭১ হোল্ডিংয়ে ৫টি ভাড়াঘর রয়েছে।

বেশ কয়েকবার হাত বদল হয়ে বর্তমানে হোল্ডিং নম্বর ১২৬৯, ১২৭০ সাগর, সাবা, শিপলু, রহিমা এবং হোল্ডিং নম্বর ১২৭১ রয়েছে সেলিম নামে ব্যক্তির অবৈধ দখল এবং নিয়ন্ত্রণে। এসব প্লট জেলা প্রশাসন তাদের নামে বরাদ্দ দেয়নি।

ত্রাণ ও পুনর্বাসনের মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, এসব প্লট উর্দুভাষী প্রতিটি পরিবারকে বসবাসের জন্য প্রস্থে ২৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট করে সরকারের ত্রাণ ও ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয় কতৃক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে কেবল বরাদ্দকৃত ব্যক্তি এবং তার পরিবার বা ওয়ারিশগণ বসবাস করতে পারবেন। অথচ নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে সরকারের ওইসব প্লট যেমন বেঁচা-বিক্রি চলছে; তেমনি চলছে বাণিজ্যিকভাবে ভাড়াঘর তৈরি করে ভাড়া দেওয়া প্রতিযোগিতা এবং জাল দলিলের মাধ্যমে অবৈধ প্রক্রিয়ার বিদ্যুত ও গ্যাসের ব্যবহার।

আইনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত উর্দুভাষীদের (বিহারি) ক্যাম্পে বা জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে ভাড়াঘর তৈরি করে ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ১২৬৯, ১২৭০ হোল্ডিংয়ে ১৫ টি এবং ১২৭১ হোল্ডিংয়ে ৫টি মিলে মোট ২০টি ভাড়াঘর রয়েছে। এসব ভাড়াঘর লম্বা সারি করে কলোনী আকারে তৈরি করা হয়েছে। এবং প্রতিটি ঘর বা রুমের জন্য একটি করে মিটার সংযোগ স্থাপন করে বিদ্যুত ব্যবহার করা হচ্ছে। যেসব মিটারের সংযোগ পেতে তারা সম্পূর্ণ জাল দলিল ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পিডিবির এক কর্মকর্তা নাগরিক পত্রিকাকে জানান, যেহেতু ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত উর্দুভাষীদের (বিহারি) ক্যাম্পে বা জায়গায় বাণিজ্যিকভাবে ভাড়াঘর তৈরি করে ভাড়া দেওয়া সম্পূর্ণ অবৈধ সেহেতু এখানে বিদ্যুতের প্রতিটি মিটার সংযোগ অবৈধ।

বর্তমানে আইনি প্রক্রিয়ায় ওই সকল প্লটে ব্যক্তিগত মিটার দেওয়ার বিষয়ে বলা হয়েছে, ‘যেহেতু বাসিন্দাদের নামে জমির কোনও দলিল, খতিয়ান বা হোল্ডিং ট্যাক্স রসিদ নেই (যা সাধারণ বিদ্যুৎ মিটারের জন্য বাধ্যতামূলক), সেহেতু কোনও ব্যক্তি ব্যক্তিগত মিটার পেতে বিশেষ মানবিক বা প্রশাসনিক অনুমতি সাপেক্ষে স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে "ক্যাম্পের বাসিন্দা" হিসেবে সাময়িক অনুমতি বা প্রিপেইড মিটার দেওয়া। এর পাশাপাশি জেলা প্রশাসন কতৃক উর্দুভাষীদের এডহক কমিটি এবং এসপিজিআরসি কমিটির সুপারিশের প্রয়োজনও বাধ্যতামূলক রয়েছে।’

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে চট্টগ্রাম ষোলশহর স্টেশনের বিক্রয় ও বিতরণ (বিপিডিবি) অঞ্চলের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছানা উল্লাহ নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, সরকার যাদের নামে প্লট বরাদ্দ দিয়েছেন তারাই বরাদ্দের প্রমাণপত্র এবং উর্দুভাষীদের সংগঠন বা কমিটির প্রত্যয়নপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্রসহ বিদ্যুত সংযোগ বা মিটারের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তিনি বলেন, এর বাইরে প্লটে বাণিজ্যিকভাবে কলোনী তৈরি করে প্রতিটি রুমের বা ঘরের জন্য আলাদাভাবে মিটার বা বিদ্যুত সংযোগ নেওয়ার কোনও সুযোগ নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কলোনী করে যারা বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুত সংযোগ ব্যবহারের বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

সূত্র মতে জানা যায়, বিদ্যুতের পাশাপাশি ওইসব প্লটে দীর্ঘদিন যাবত কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্টিবিউশনের গ্যাস সংযোগও ব্যবহার করে আসছে। সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের এসব প্লটে তারা কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় গ্যাস সংযোগ পেলেন সে বিষয়ে অনুসন্ধানের জন্য নাগরিক পত্রিকা ইতিমধ্যে তথ্য অধিকার আইনে মালিকানা যাচাইসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সরবরাহ করতে একটি আবেদন করেছে।

এ বিষয়ে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি চট্টগ্রামের ব্যবস্থাপক আইন শাখার রাফিউজ্জামান নাগরিক পত্রিকাকে জানান, সরকার উর্দুভাষীদের গ্যাস সংযোগে কোনও অনুমোতি দেয়নি। ফলে, সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ থাকলে অবশ্যই তাদের গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।

এ বিষয়ে ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন অধিশাখা, শৃঙ্খলা ও গোপনীয় অনুবেদন অধিশাখার যুগ্মসচিব আবু দাউদ মো: গোলাম মোস্তফা নাগরিক পত্রিকাকে জানান, উর্দুভাষী বাংলাদেশিদের পুনর্বাসন এবং ক্যাম্পগুলোর জায়গা নিয়ে এখনো স্থায়ী মালিকানা দেওয়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত জরিপ ও আইনি পর্যালোচনার অধীন। যেহেতু বরাদ্দপ্রাপ্তদের জমির পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক মালিকানা বা দলিল থাকে না, তাই সেখানে ঘর তুলে ব্যবসা বা ভাড়া দেওয়ার কোনও আইনি ভিত্তি যেমন নাই তেমনি সরকার এখনও তাদের বাণিজ্যিকভাবে গ্যাস ও বিদ্যুত ব্যবহারে কোনও অনুমোতি দেয়নি।

তিনি বলেন, সরকারি নিয়মের বাইরে গিয়ে যদি পুনর্বাসনের জায়গায় ভাড়াঘর তৈরি করা হয়, তবে স্থানীয় প্রশাসন বা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ (যেমন: জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস) যেকোনও সময় সেই বরাদ্দ বাতিল করার আইনি ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও অবৈধ স্থাপনা হিসেবে সেগুলো উচ্ছেদ করা হতে পারে।