শুনানিতেও অনুপস্থিত ভবন মালিক

রৌফাবাদে নকশা বহির্ভূত ১৩ তলা ভবন: চূড়ান্ত নোটিশের পর ভাঙার পরিকল্পনা সিডিএ’র

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-১০-১০ , ০৭:৫৩ এএম

রৌফাবাদে নকশা বহির্ভূত ১৩ তলা ভবন: চূড়ান্ত নোটিশের পর ভাঙার পরিকল্পনা সিডিএ’র ছবি: নাগরিক পত্রিকা

সম্পূর্ণ নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণাধীন ১৩ তলা বহুতল ভবনটি ভেঙে ফেলার প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। গত মাসে অনুষ্ঠিত শুনানিতেও ভবনটির মালিক ও পিচ পার্ক অ্যান্ড ড্রিম নেস্ট ডেভেলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুসলীম উদ্দিন রুবেল উপস্থিত না হওয়ায় তাকে চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার মাধ্যমে ভবনটি অপসারণের দিকে যাচ্ছে সিডিএ।

পশ্চিম ষোলশহরের পাহাড়িকা আবাসিক এলাকায় মৌজা লে-আউটের প্লট নং-৩ (ব্লক-এ) ও প্লট নং-১০ (ব্লক-বি)-এ নির্মাণাধীন এ ভবনটির বিরুদ্ধে অনুমোদিত নকশার একাধিক শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩০ জুলাই মুসলীম উদ্দিন রুবেলকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় সিডিএ। নোটিশে সাত দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হলেও তিনি কোনও জবাব দেননি।

সিডিএর অথরাইজড অফিসার-১ ও ইমারত নির্মাণ কমিটি-১-এর সদস্য সচিব কাজী কাদের নেওয়াজ নাগরিক পত্রিকাকে জানিয়েছিলেন, ভবনটি সম্পূর্ণ নকশাবহির্ভূতভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়। পরিদর্শনে ভবনটিতে বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়ে।

সিডিএর ২৫.৪৭.১৫০০,০৭২,২৭,৩৮/২০২৬ নম্বর স্মারকের নোটিশ অনুযায়ী, ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ ও তৎসংশোধনী আইন, ১৯৮৭-এর ৩বি ধারা অনুযায়ী ভবনের চারপাশে নির্ধারিত পরিমাণ জায়গা রাখা হয়নি।

নোটিশে বলা হয়, ভবনের উত্তরে যথাক্রমে ২.৫০, ২.০৪ ও ৩.৩১ মিটার জায়গা রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে রাখা হয়েছে ০.৬০, ১.০০ ও ২.৩১ মিটার। দক্ষিণে ১.৮৩ মিটারের পরিবর্তে রাখা হয়েছে ০.৬০ মিটার। পূর্বে ১.৫০ মিটারের পরিবর্তে ০.৬০ মিটার এবং পশ্চিমে ৩.০০ মিটারের পরিবর্তে মাত্র ০.৩০ মিটার জায়গা রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া ভবনের মধ্যবর্তী দূরত্ব ৪.৮৮ মিটার রাখার অনুমোদন থাকলেও বাস্তবে তা মাত্র ১.৬৮ মিটার। একইভাবে অনুমোদিত নকশায় সম্মুখবর্তী রাস্তার প্রস্থ ১৮.২৯ মিটার দেখানো হলেও সরেজমিনে এর প্রস্থ পাওয়া গেছে ১২.০০ মিটার।

এসব অনিয়মের কারণে ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২-এর ৩বি ধারা লঙ্ঘনের অভিযোগে কেন নির্মাণাধীন ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে না—তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় সিডিএ। পাশাপাশি অনুমোদনের শর্ত লঙ্ঘনের দায়ে নকশাবহির্ভূত অংশ ও রাস্তার জন্য ছাড়কৃত জায়গায় নির্মিত অংশ অপসারণ ছাড়া ভবনের সব ধরনের নির্মাণকাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তবে সিডিএর এই নির্দেশনার পরও ভবনটির নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে নাগরিক পত্রিকাকে জানিয়েছে একটি বিশ্বস্ত সূত্র।

এদিকে গত মাসে অনুষ্ঠিত শুনানিতেও ভবনটির মালিক মুসলীম উদ্দিন রুবেল উপস্থিত না হওয়ায় বিষয়টি এখন চূড়ান্ত নোটিশের দিকে এগিয়েছে বলে জানিয়েছেন সিডিএর ইমারত নির্মাণ কমিটি-১-এর চেয়ারম্যান ও প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল।

তিনি নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, “আইন অমান্য করে ভবন নির্মাণ করা হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের ভবন আমরা এর আগেও ভেঙেছি।”

তিনি বলেন, শুনানিতে অনুপস্থিত থাকার পর ভবনটির বিষয়ে সিডিএ চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। চূড়ান্ত নোটিশের পরও মালিক নিজে ভবনটি অপসারণ না করলে আইন অনুযায়ী সিডিএ ভবনটির নকশা বহির্ভূত অংশ ভেঙে ফেলা হবে।

সিডিএর নিষেধাজ্ঞার পরও নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মুসলীম উদ্দিন রুবেলকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

এ সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন পড়ুন: 

নকশা বহির্ভূত রৌফাবাদের ১৩ তলা ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে: সিডিএ