নকশা বহির্ভূত রৌফাবাদের ১৩ তলা ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে: সিডিএ

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-০৯-২০ , ০৫:৪২ পিএম

নকশা বহির্ভূত রৌফাবাদের ১৩ তলা ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে: সিডিএ ছবি: নাগরিক পত্রিকা

সম্পূর্ণ নকশা বহির্ভূত ১৩ তলার বহুতল ভবনটি ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ (সিডিএ)। পশ্চিম ষোলশহরের পাহাড়িকা আবাসিকে অবস্থিত পিচ পার্ক ও ড্রিম নেস্ট ডেভেলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচলক মুসলীম উদ্দিন রুবেলকে সিডিএ গত ৩০ জুলাই নোটিশ করেছে। যেখানে তার নির্মিত ভবনটি নকশা বহির্ভূত উল্লেখ করে সাত দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর কথা বলা হলেও- এ সংক্রান্ত কোনও জবাব দেয়নি মুসলীম উদ্দিন রুবেল।

সিডিএ’র অথরাইজড অফিসার-১ ও সদস্য সচিব ইমারত কমিটির-১ এর কাজী কাদের নেওয়াজ নাগরিক পত্রিকাকে জানান, রৌফাবাদে নির্মিত ১৩ তলার ওই ভবনটি সম্পূর্ণ নকশা বহির্ভূত করে নির্মাণ করা হচ্ছে-এমন তথ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়। পরে ভবনটিতে বড় ধরনের ত্রুটি ধরা পড়ে।

ভবনটি চট্টগ্রাম নগরীর পশ্চিম ষোলশহরের পাহাড়িকা আবাসিকের মৌজা লে-আউট প্লট নং-৩ (ব্লক-এ) ও প্লট ১০ (ব্লক-বি)তে অবস্থিত।

২৫.৪৭.১৫০০,০৭২,২৭,৩৮/২০২৬ নং স্মারকের নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ইমারত নির্মাণ আইন ১৯৫২ ও তৎসংশোধনী আইন ১৯৮৭ এর ৩বি ধারা মোতাবেক ভনটির উত্তরে ২.৫০, ২.০৪, ৩.৩১ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.৬০, ১.০০, ২.৩১ মিটার খালি রাখা হয়েছে। দক্ষিণে ১.৮৩ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.৬০ মিটার খালি রাখা হয়েছে। পূর্বে ১.৫০ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.৬০ মিটার খালি রাখা হয়েছে। পশ্চিমে ৩.০০ মিটার রাখার পরিবর্তে ০.৩০ মিটার খালি রাখা হয়েছে। তাছাড়া, ভবন দুটির মধ্যবর্তী দূরত্ব ৪.৮৮ মি. রাখার স্থলে ১.৬৮ মি. রাখা হয়েছে এবং সম্মুখবর্তী রাস্তা ১৮.২৯ মি. দেখিয়ে নকশা অনুমোদন করা হলেও বাস্তবে ১২.০০ মি. রয়েছে।

অথরাইজড অফিসার জানান, ইমারত নির্মাণ আইন, ১৯৫২ (ই.বি আইন-২, ১৯৫২, যা ১৯৮৭ সালের ১২নং আইনের মাধ্যমে সংশোধিত) এর ৩বি ধারা অমান্য করায় নির্মাণাধীন ভবনটি কেন ভেঙে ফেলা হবে না- তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ করি। তবে, তিনি ওই নোটিশের কোনও জবাব প্রদান করেননি। একই নোটিশে, অনুমোদনের শর্তাবলী লংঘনের দায়ে ভবনটির নকশা ব্যতিক্রমী অংশ ও রাস্তার জন্য ছাড়কৃত জায়গায় নির্মিত অংশ অপসারণ ব্যতিত সকল ধরনের নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

সিডিএ’র ইস্যু করা চিঠিটি (৩০ জুলাই) কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিলেও ভবনটির নির্মাণ কাজ চলছে বলে বিশ্বস্ত একটি সূত্র নাগরিক পত্রিকাকে নিশ্চিত করে।

সিডিএ’র নিষেধাজ্ঞার পরও নির্মাণ কাজ কেন করছেন- এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে পিচ পার্ক ও ড্রিম নেস্ট ডেভেলপার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচলক মুসলীম উদ্দিন রুবেলকে একাধিবার ফোনে কল করা হয়। কিন্তু তিনি ফোনটি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।  

এ বিষয়ে প্রধান সিডিএ’র ইমারত নির্মাণ কমিটি – ১ এর প্রকৌশলী ও চেয়ারম্যান আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, এ ধরনের বিল্ডিং আমরা বহু ভেঙেছি। আইন অমান্য করে ভবন তৈরি করলে তার বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

তিনি নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষের আওতাধীন এ ধরনের যদি আরও কোনও ভবনের তথ্য থাকে তা প্রকাশ করে তাদের জানাতে অনুরোধ করেন।

এক প্রশ্নের জবাবে কাজী কাদের নেওয়াজ বলেন, যেহেতু ভবনটির মালিক কোনও জবাব দেননি সেহেতু চলতি মাসের (সেপ্টেম্বর) মধ্যে (আগামী কয়েকদিনের মধ্যে) এ বিষয়ের ওপর শুনানি আছে। শুনানি শেষে তাকে চূড়ান্ত নোটিশ প্রদান করা হবে। এতে ভবন মালিক যদি তার ভবনটি ভেঙে না ফেলেন তাহলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কতৃপক্ষ ভবনটি ভেঙে ফেলবে।

এ সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন পড়ুন:

নকশা বহির্ভূত রৌফাবাদের ১৩ তলা ভবনটি ভেঙে ফেলা হবে: সিডিএ