নাগরিক পত্রিকায় প্রতিবেদন
নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০৮-২৭ , ০১:২৪ পিএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
নাগরিক পত্রিকায় প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের পর ফৌজদারি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত কথিত শিক্ষক মো: মহিদুল ইসলামকে রক্ষায় বাগেরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (এডিপিইও) মো: আমিনুল ইসলামের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন ওঠায় পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।
খুলনা বিভাগীয় উপপরিচালক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, সহকারী শিক্ষক মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাজা এবং অন্যান্য মামলা নিয়ে বাগেরহাট জেলা শিক্ষা অফিসের এডিপিইও মো: আমিনুল ইসলামের তদন্তটি সঠিক হয়নি মর্মে নাগরিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশ করলে ডিজি মহোদয় পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তাকে এবার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মিথ্যা প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে- এমনটা প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নাগরিক পত্রিকায় গত ১ জুলাই ‘প্রতারণা মামলায় সাজা: স্থায়ী চাকরি হারাতে পারেন কথিত শিক্ষক মহিদুল’ শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এলে বিষয়টি তদন্তের জন্য এডিপিইও মো: আমিনুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আদালতের নথি যাচাই না করে অভিযুক্ত মহিদুলের দেওয়া একটি কাগজের ওপর ভিত্তি করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের অর্থ আত্মসাতের মামলায় বাগেরহাটের আদালত ২০২৪ সালের ২৩ এপ্রিল মহিদুল ইসলামকে তিন মাসের সাজা দেন। সংশ্লিষ্ট মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী ও ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারাও মামলার নম্বর, রায় ও সাজা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন। অথচ এডিপিইও’র প্রতিবেদনে ওই সাজা মামলার অস্তিত্ব নেই বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে তদন্তকারী কর্মকর্তা আমিনুল ইসলামের কাছে পত্রিকায় প্রকাশিত মামলার নম্বর সংশ্লিষ্ট আদালতে গিয়ে যাচাই না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি সরাসরি কোনও উত্তর দেননি। বরং অভিযুক্ত শিক্ষক একটি কাগজ দেখিয়েছেন উল্লেখ করে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এমনকি মামলার তথ্য যাচাইয়ের পরিবর্তে স্কুলে গিয়ে তদন্ত করার কারণও তিনি ব্যাখ্যা করেননি।
এডিপিইও’র প্রতিবেদনে মহিদুলের বিরুদ্ধে পাঁচটি মামলা থাকার কথা উল্লেখ করা হলেও নাগরিক পত্রিকার অনুসন্ধানে তার বিরুদ্ধে একাধিক সক্রিয় মামলার তথ্য ও মামলা নম্বর প্রকাশ করা হয়। এর মধ্যে প্রতারণা, অর্থ আত্মসাৎ, চুরি, অগ্নিসংযোগ, হত্যাচেষ্টা, লুটপাট ও সশস্ত্র ডাকাতির অভিযোগসংক্রান্ত তথ্যও উঠে আসে।
বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাসরীন আকতার জানিয়েছেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা উভয় পক্ষের তথ্য ক্রসচেক বা যাচাই করলেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
এদিকে, এডিপিইও আমিনুল ইসলামের প্রতিবেদনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার পর মহাপরিচালকের নির্দেশে বিষয়টি পুনঃতদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে এবার আদালতের নথি, মামলার নম্বর, রায়ের কপি এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র সরেজমিনে যাচাই করে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে কি না, মিথ্যা প্রতিবেদন দাখিলের জন্য এডিপিইও আমিনুল ইসলামের ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে কিনা—সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।
উল্লেখ্য, এর আগে নাগরিক পত্রিকার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত করে কথিত শিক্ষক মহিদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। এরপর তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগের নথি নিয়ে নাগরিক পত্রিকায় ধারাবাহিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এ সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন পড়ুন:
জজের বন্ধু সেজে স্কুল শিক্ষক মহিদুলের প্রতারণা; টাকা আত্মসাৎ
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে তিন মাস আত্মগোপনে ছিলেন স্কুল শিক্ষক মহিদুল
অগ্নিসংযোগ, চুরি, ছিনতাইসহ ডজন মামলার আসামী শিক্ষক মহিদুল
প্রতারণা মামলায় সাজা: স্থায়ী চাকরি হারাতে পারেন কথিত শিক্ষক মহিদুল
সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষক মহিদুলের চাকরি বাঁচাতে মিথ্যা প্রতিবেদনে রক্ষাচেষ্টা এডিপিইও’র
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.