আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৯-১১ , ০৯:৩৪ এএম
ছবি: সিটিজেন নিউজ
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর। জঙ্গি সংগঠন আল-কায়েদার সঙ্গে জড়িত ১৯ জঙ্গি চারটি বিমান ছিনতাই করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি স্থানে। সকাল ৮টা ৪৬ মিনিটে আমেরিকান এয়ারলাইনসের ‘ফ্লাইট-১১’ বোস্টন থেকে উড়ে এসে হামলে পড়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের উত্তর ভবনটিতে।
মার্কিনিরা তখনো বুঝে উঠতে পারেনি, তাদের মাটিতে কতটা ভয়াবহ হতে পারে সন্ত্রাসবাদীরা। পৃথিবীর আর সব দেশের মানুষের মতো মার্কিনিরাও ধারণা করতে পারেনি যে প্রবল প্রতাপশালী সামরিক শক্তিধর যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা বেষ্টনীকে এড়িয়ে দেশটির ইতিহাসের জঘন্যতম হামলা হতে পারে—তা-ও যেসব স্থান নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে দেওয়ার কথা, সেসব স্থানে।
প্রতিবছর ১১ সেপ্টেম্বর যেন বারবার সেই দুঃসহ স্মৃতির কথাই মনে করিয়ে দেয়। সে স্মৃতি শুধু যে মার্কিনিদের, তা নয়—আরো ৭৮টি দেশের নাগরিকদেরও, যাদের দেশের মানুষ প্রাণ হারিয়েছিল সেই ভয়াল হামলায়। আর ওই হামলার দিনটি সারা বিশ্বে ‘নাইন-ইলেভেন’ নামে পরিচিত।
জানা যায়, হামলা চালানোর আগে সকাল ৮টা ১৯ মিনিটে একজন ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট সতর্ক করেন, তাদের উড়োজাহাজ ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েছে। তিনি জানান, ককপিট থেকে কোনো উত্তর আসছে না এবং ছিনতাইকারীদের কাছে বিস্ফোরক রয়েছে। এ ছাড়া জানানো হয়, এক যাত্রীসহ দুজন অ্যাটেনডেন্টকে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে। পরে জানা যায়, হামলার শিকার হওয়া ওই যাত্রীর নাম ড্যানিয়েল লেউইন। তিনি ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ধারণা করা হয়, তিনি ছিনতাইকারীদের কাছ থেকে উড়োজাহাজের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং নাইন-ইলেভেনের হামলায় তিনিই প্রথম ভুক্তভোগী।

এ হামলার বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতে না বুঝতেই ১৭ মিনিট পর ৯টা ৩ মিনিটে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের দক্ষিণ ভবনে আছড়ে পড়ে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট-১৭৫। সেটিও বোস্টন থেকে উড়ে এসে হামলা চালায়। পরে জানা যায়, উড়োজাহাজটি ছিনতাইয়ের পরই একজন অ্যাটেনডেন্ট ইউনাইটেড এয়ারলাইনস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, উড়োজাহাজ ছিনতাইয়ের কবলে পড়েছে এবং দুজন পাইলটই নিহত হয়েছেন। তবে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়েও শেষরক্ষা হয়নি কারো।
ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে এ দুই নারকীয় হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন দুই হাজার ৭৫৩ জন মানুষ। এ ছাড়া ভবনে আটকেপড়া অনেকেই বাঁচার জন্য ভবন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়েন। সে হামলায় মারা যাওয়া ব্যক্তিদের বয়স ছিল ২ থেকে ৮৫ বছরের মধ্যে।
ওই হামলার পরই তাৎক্ষণিকভাবে জরুরি উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হয়। কিন্তু হামলার পর ভবন ধসে পড়ায় ভবনে থাকা অন্যদের সঙ্গে নিহত হন উদ্ধারকাজে অংশ নেওয়া নিউইয়র্ক ফায়ার সার্ভিসের ৩৪৩ কর্মী, নিউইয়র্ক সিটির ২৩ পুলিশ কর্মকর্তা ও বন্দর কর্তৃপক্ষের ৩৭ কর্মকর্তা। এ ছাড়া হাজারো মানুষকে আহত অবস্থায় ভর্তি করা হয় বিভিন্ন হাসপাতালে।
এ দুই ভয়াবহ হামলার এক ঘণ্টার মধ্যে ৯টা ৩৭ মিনিটে ওয়াশিংটনে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তর পেন্টাগনে হামলে পড়ে আরো একটি উড়োজাহাজ। ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের ডালাস থেকে উড়ে আসা আমেরিকান এয়ারলাইনসের ফ্লাইট-৭৭-এর যাত্রীদের জিম্মি করে এ হামলা চালায় সন্ত্রাসীরা। ওই বিমানে তখন ছয়জন ক্রুসহ ৫৮ যাত্রী ছিলেন। এ হামলায় সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ১২৫ জন নিহত হন। এ ছাড়া উড়োজাহাজে থাকা পাঁচ জঙ্গিসহ সব যাত্রীই নিহত হন।
একের পর এক হামলার মধ্যেই নিউজার্সি অঙ্গরাজ্যের নেওয়ার্ক থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার সানফ্রান্সিসকোর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট-৯৩ ছিনতাই করে জঙ্গিরা। পরে বিমানটি বিধ্বস্ত হয় পশ্চিম পেনসিলভানিয়ার শ্যাংকসভিল এলাকার একটি মাঠে। এতে বিমানে থাকা ৪৪ জনের সবাই নিহত হন।
ধারণা করা হয়, হামলাকারীরা তাদের উদ্দেশ্য অনুযায়ী প্লেন হামলাটি চালাতে পারেনি। প্লেন ছিনতাইয়ের পরই যখন ক্রু ও যাত্রীরা নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন, তখনই বিমানটি ইচ্ছাকৃতভাবে বিধ্বস্ত করা হয়। জানা গেছে, ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের ফ্লাইট-৯৩ ছিনতাইয়ের পরই এক ছিনতাইকারী ঘোষণা দেয়, ‘ভদ্র মহোদয়া ও মহোদয়রা, আমি ক্যাপ্টেন বলছি। দয়া করে বসে থাকুন। আমাদের কাছে বোমা রয়েছে, তাই বসুন।’
যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক এসব হামলায় সেদিন প্রাণ হারিয়েছিল অন্তত তিন হাজার মানুষ। ধারণা করা হয়, ওসামা বিন লাদেনের সংগঠন আল-কায়েদা এ হামলায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করে। ২০১১ সালের ২ মে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওসামা বিন লাদেনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী। লাদেন সেখানে একটি বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.