আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৮-২৭ , ১০:০৫ এএম
ছবি: সিটিজেন নিউজ
নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদে বাংলাদেশিসহ ৫১ মুসল্লিকে হত্যার দায়ে ব্রেন্টন ট্যারেন্টকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে। শ্বেতাঙ্গ শ্বেষ্ঠত্ববাদী ব্র্যান্টন ট্যারন্টকে (২৯) প্যারোলের সুযোগ ব্যতিত যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে বলেও জানাগেছে। নিউজিল্যান্ডে মৃত্যুদণ্ড না থাকায় দেশটির ইতিহাসে এই প্রথম কোনও ব্যক্তিকে এই পর্যায়ের সাজা দেয়া হলো।
অস্ট্রেলিয়ার সন্ত্রাসী ট্যারন্টকে হত্যা ছাড়াও ৪০ জনকে হত্যা চেষ্টা এবং সন্ত্রাসবাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে। ২০১৯ সালের ১৫ মার্চের নিউজিল্যান্ডের আল নূর ও লিনউড মসজিদে হামলাকালীন প্রার্থনারত মানুষদের হত্যার ঘটনা হেড ক্যামেরার সাহায্যে ১৭ মিনিট ধরে লাইভে প্রচার করে ট্যারন্ট, যা বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয়।
বিচারক ক্যামেরুন মান্দার রায় ঘোষণার সময় তার এই হামলাকে ‘অমানবিক’ বলে ঘোষণা করেন জানান, ‘তুমি একটি শিশুকে নির্বিচারে হত্যা করেছো। তোমাকে কোনও ক্ষমা প্রদান করা হবে না।’
এই রায় দেয়া পূর্বে চার দিনের শুনানিতে ৬০ জন ক্ষতিগ্রস্ত তাদের বিবৃতি দেন। বিবৃতির শেষ দিনে কোরআনের আয়াত পাঠ করা হয় এবং নিহত ব্যক্তিদের ছবি আদালত রুমে রাখা হয়।
পুত্রকে হারানো মেসন সালামা বলেন, ‘ট্যারন্ট নিউজিল্যান্ডে সন্ত্রাসবাদের তকমা লাগিয়েছেন এবং বিশ্বকে দুঃখে ভরে দিয়েছেন।’ ৩ বছরের পুত্রকে হারানো আদেন ইব্রাহিম বলেন, ‘তুমি আমার পুত্রকে হত্যা করেছে। এটি পুরো নিউজিল্যান্ডবাসীকে হত্যা করার মতোই বেদনাদায়ক। আমি কখনও তোমাকে ক্ষমা করবো না।’
বাবাকে হারানো সারা কাসেম ট্যারেন্টের চোখে চোখ রেখে বলেন, ‘আমি আমার বাবার কণ্ঠ শুনতে চাই। কিন্তু তুমি তা বন্ধ করে দিয়েছো।’ আবার কেউ কেউ ট্যারন্টকে ক্ষমা প্রদান করার কথা বলেন। তবে ট্যারন্ট ছিলো নির্বিকার কখনো কখনো মুখ ঢেকে রাখছিলো ও হাসি দিচ্ছিলো।
ট্যারেন্টের পক্ষে বক্তব্য উপস্থাপন করতে তাকে একজন আইনজীবী নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন আদালত। বৃহস্পতিবার শুনানির শেষ দিনে আত্মপক্ষ সমর্থন করে তার বক্তব্য দেওয়ার কথা থাকলেও সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে ট্যারেন্ট।
বিচারক জানান, ট্যারন্ট বলেছে, সে এখন তার চরমপন্থী মতাদর্শ থেকে সরে দাঁড়িয়েছে এবং তার হামলাকে অপ্রয়োজনীয় বলে মনে করছে। কিন্তু বিচারক আরও বলেন, তার মধ্যে কোনও অনুশোচনা বা ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য কোনও সহমর্মিতা নেই।
এই হত্যাকাণ্ডের পর পরই নিউজিল্যান্ডে দেশটির অস্ত্র আইন কঠোর করে। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জ্যাসিন্দা আর্ডেন এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে হামলাকারীর নাম উচ্চারণ করতে প্রত্যাখ্যান করেন। ট্যারন্ট প্রথমে আল নূর মসজিদে হামলা চালায় এরপর গাড়িতে করে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র হাতে লিনউড মসজিদে হামলা চালায়। এরপর আরেকটি মসজিদে যাওয়ার সময় দুই পুলিশ সদস্য তাকে আটকে দেন। ট্যারন্ট বলেছেন, বছরব্যাপী এই হামলার প্রস্তুতি নিয়েছেন তিনি। তার তিনটি মসজিদে হামলার পরিকল্পনা ছিলো এবং যত দ্রুত সম্ভব বেশি মানুষকে সে হত্যা করতে চেয়েছিলো।
যে আল নূর মসজিদে বেশি হতাহত হয়েছিলেন, সেখানে জুমার নামাজ আদায় করতে গিয়ে অল্পের জন্য বেঁচে ফেরেন নিউজিল্যান্ড সফররত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদস্যরা।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.