জনতার নেতা হয়ে উঠছেন মিতুল হাকিম

 রাজবাড়ি প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২০-০৫-০৫ , ০২:১৬ পিএম

জনতার নেতা হয়ে উঠছেন মিতুল হাকিম রাজবাড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিম

করোনাভাইরাসের মহা দুর্যোগে এলাকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়ে জনতার নেতা হয়ে উঠছেন তরুন আওয়ামী লীগ নেতা আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিম। রাজবাড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এই তরুন নেতা রাজবাড়ি -২ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা জিল্লুল হাকিমের ছেলে।

করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত পিতার নির্বাচনী এলাকাতেই রয়েছেন তিনি। রাজবাড়ি জেলার পাংশা,বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলা নিয়ে রাজবাড়ি ২ আসন। সরকারী ত্রান পৌছানোর আগেই এলাকার এমপি জিল্লুল হাকিম ও তার ছেলে মিতুল হাকিম নিজেদের অর্থে কেনা সমাগ্রী নিয়ে দাড়িঁয়েছেন চিকিৎসক, সাংবাদিক ,এলাকার দরিদ্র মানুষ, শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের পাশে। এগিয়ে দিয়েছেন উদার সাহায্যের হাত। মিশে রয়েছেন নির্বাচনী এলাকার জনতার সাথে। নিজেরা খাদ্য পৌঁছে দিচ্ছেন মানুষের বাড়িতে। দরিদ্র মানুষের এই অভাব-অনটনের সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানোর কারনে মিতুল হাকিম স্থান করে নিয়েছেন এলাকাবাসীর হৃদয়ে।

বালিয়াকান্দি উপজেলার রফিকুল ইসলাম নামে এক স্কুল শিক্ষক সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বেশ কিছু নেতা রয়েছেন যারা নিজেদেরকে আওয়ামী লীগ হিসেবে পরিচয় দেন এবং নির্বাচনের সময় হলে এলাকায় কিছু পোষ্টার ছাপিয়ে দলীয় মনোনয়ন চান। এই দুর্যোগের সময়ে তাদের একজনকে দেখা যায়নি; তারা কেউ এক ‍মুঠো চাল নিয়ে অভাবী মানুষের কাছে আসেননি।’

তিনি বলেন, ‘মিতুল হাকিম একজন তরুন নেতা, তিনি জনপ্রতিনিধি নন। দলীয় মনোনয়নও চাননি। এই দুর্দিনে তিনি যেভাবে মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এলাকাবাসী এখন তার ভেতরে একজন সত্যিকারের জনদরদীর প্রতিচ্ছবি দেখছেন। পিতার মতই তিনি ভালোবাসেন এলাকার মানুষকে’।

কালুখালী উপজেলার আবদুস সালাম নামে এক ব্যবসায়ী সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘ক’দিন ধরে দেখছি ধানকাটার একটি ভিডিও ফেসবুকে ঘুরছে। একজন কৃষক নেতা ধানকাটার নামে ফটোসেশন করেছেন। কৃষকদের দাবী,  ফটোসেশন করতে গিয়ে তাদের ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে।’

ওই সব নেতাদের উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘পারলে জিল্লুল হাকিম এবং তার ছেলের মত কিছু খাবার নিয়ে অভাবী মানুষের পাশে দাঁড়ান। দুই খানা ছবি ফেসবুকে দিয়ে দরিদ্র মানুষের সাথে উপহাস করবেন না।’

দেশের একটি মাত্র সংসদীয় এলাকা রাজবাড়ি -২ যেখানের তিনটি উপজেলাতে করোনাভাইরাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত চিকিৎসকরা সক্রিয় রয়েছেন। শুরু থেকেই আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিম চিকিৎসকদের পিপিইসহ করোনা প্রতিরোধক সামগ্রী পৌঁছে দেন। একইসাথে পিপিইসহ সামগ্রী দেয়া হয় রাজবাড়ি জেলার গণমাধ্যম কর্মীদের। রাজবাড়ি জেলার যে সকল চিকিৎসকদেরকে করোনার কারনে ঢাকায় সরকারী নির্দশে অবস্থান করতে হচ্ছে তাদেরকেও করোনা প্রতিরোধক সামগ্রী পৌঁছে দেন তিনি।

জানা যায়, নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি হাট-বাজার ও মসজিদে মসজিদে হাত ধোয়ার বেসিনসহ সাবান সরবরাহ করা হয়। পাংশা পৌরসভাসহ বালিয়াকান্দি ও কালুখালী উপজেলা শহরে জীবানু নাশক স্প্রে করা হচ্ছে করোনার শুরু থেকেই। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে গ্রামের সাপ্তাহিক কাচাঁবাজারে হাটগুলো বসানো হয়েছে এলাকার স্কুল কলেজের বড় বড় মাঠে এবং দলীয় স্বেচ্ছাসেবক দিয়ে নির্দিষ্ট দূরত্বে বৃত্ত একে দেয়া হয়েছে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের জন্য।

এলাকার মানুষের চিকিৎসা সেবা দিতে চালু করা হয়েছে হটলাইন ও একাধিক মেডিকেল টিম। গ্রামের কোন বাড়ি থেকে সাধারণ রোগের জন্যও কেউ ফোন করলে সেখানে এ্যাম্বুলেন্স নিয়ে হাজির হন চিকিৎসক দল। একটি শ্লোগান সামনে আনা হয়েছে ‘ডাক্তারের কাছে রোগী নয়-রোগীর কাছে ডাক্তার।’ 

স্থানীয়রা জানায়, গণপরিবহন বন্ধ ও লকডাউন ঘোষনার পর থেকেই এমপি জিল্লুল হাকিম ও তার ছেলে মিতুল হাকিম দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী এলাকার পাংশা, বালিয়াকান্দিও কালুখালী এলাকার দিনের আয়ে তিন চলে এমন মানুষদের তালিকা তৈরি করে খাদ্য সহায়তা দেয়া শুরু করেন। খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে প্রায় ৩২ হাজার মানুষকে। এছাড়াও শিশুরা যাতে অপুষ্টিতে না ভোগে সে জন্য আলাদা করে দেয়া হচ্ছে শিশু খাদ্য। গর্ভবতী মায়েদের জন্য দেয়া হচ্ছে আলাদা সহায়াতা। ত্রান সহায়তার উপকরনের তালিকাও দীর্ঘ। এলাকার নির্বাচিত এমপি এবং তার ছেলে করোনার শুরু থেকে মাঠে থাকায় মানবিক কাজে আরও বেশী উৎসাহী হয়েছেন এলাকার সিভিল প্রশাসন, পুলিশ ও চিকিৎসকরা। প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ত্রান বিতরন করছেন উপজেলা প্রশাসনও।

করোনার শুরু থেকে এখন পর্যন্ত জীবনবাজী রেখে এলাকায় থাকা ও ত্রান বিতরন প্রসঙ্গে সাংসদ পুত্র আশিক মাহমুদ মিতুল হাকিম সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা নির্দেশ দিয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীদের মানুষের পাশে দাঁড়াতে আমি সে নির্দেশ পালন করছি সাধ্যমত।’

তিনি বলেন, আমার পিতা জিল্লুল হাকিমকে এলাকার মানুষ ভালোবেসে বারবার ভোট দিয়ে এমপি নির্বাচিত করেছেন। আমি মনে করি পিতার প্রতি এলাকার মানুষের সে ভালোবাসার দায় আমাদের পরিবার আবদ্ধ। জনগনের সে ঋন শোধ করার সময় এখন। সাধারণ মানুষ এখন বিপদে রয়েছে। আমি মনে করেছি বিপদের দিনে এলাকার মানুষ ছেড়ে ঢাকায় বসে থাকা এখন অমানুষের কাজ হবে।

তিনি আরও বলেন, সিদ্ধান্ত নিয়েছি করোনার প্রভাব শেষ না হওয়া পর্যন্ত এলাকাতেই থাকবো। সাধ্যমত সহায়াতা করার চেষ্টা করবো। আমি একা নই মৌসুমী পাখীর মত ক’জন নেতাবাদে দলের নেতাকর্মী-আমরা সবাই মিলে জনগনের পাশে আছি।’

রাজবাড়ি-২ আসনের সংসদ সদস্য জিল্লুল হাকিম সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘আমার আজও মনে আছে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের সময়ে ভোলায় ঘুর্নিঝড়ে প্রায় ১০ লাখ লোক মারা যায়। বঙ্গবন্ধু নির্বাচনী প্রচার বন্ধ রেখে দলীয় নেতাদের নিয়ে আগে গেলেন ভোলায় ত্রান নিয়ে। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিল চট্টগ্রাম এলাকায় ব্যাপক ঘুর্নিঝড় হয় সে সময়ে খালেদা জিয়া বলেছিলেন যত মানুষ মারা যাওয়ার কথাছিলো তত মারা যায়নি। সে সময়ে বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনা সবার আগে ত্রান নিয়ে ছুটে গিয়েছিলেন চট্টগ্রামে।’

তিনি বলেন, আমার কাছে রাজনীতি মানে মানুষ। মানুষের জন্য কাজ করা, আমি এবং আমার পরিবারের সবাই এই দুর্যোগে মানুষের পাশে আছি। যতদিন রাজনীতিতে আছি, বেঁচে আছি দুর্যোগ-মহাদুর্যোগে এলাবাসীর সাথে থাকবো।’