পিডিবি বললো, মিটার লকড-সংযোগ বিচ্ছিন্ন; অথচ দিব্বি চলছে সেই অবৈধ সংযোগ

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-০৯-১৩ , ০৬:২১ পিএম

পিডিবি বললো, মিটার লকড-সংযোগ বিচ্ছিন্ন; অথচ দিব্বি চলছে সেই অবৈধ সংযোগ

চট্টগ্রামের ষোলশহর স্টেশনের বিক্রয় ও বিতরণ (বিপিডিবি) অঞ্চলের দপ্তর থেকে অবৈধভাবে দুটি মিটার সংযোগ দেওয়া হয়েছিল সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের দখল হওয়া অবৈধ একটি স্থাপনায়। নাগরিক পত্রিকা বিষয়টি নিয়ে একটি অনুন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

দেশে প্রয়োজনীয় বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে সরকার যখন রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে, তখন কতিপয় অসৎ কর্মকর্তার অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার কারণে বিদ্যুৎ খাতেই সৃষ্টি হচ্ছে নতুন সংকট।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ০১০২১০৯৫০৫৬১ নম্বরের একটি মিটার নুরুল আলম এবং ০১০২১০৬৭১৫৭৪ নম্বরের একটি মিটার মোহাম্মদ ইকবাল নামে পাওয়া যায়। যে মিটার দুটি রনি নামে একজন ভূমিদস্যু সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের জায়গা দখল করে ওই মিটার দুটির মাধ্যমে অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আসছিল। ওই মিটার দুটি সম্পর্কে নুরুল আলম এবং মোহাম্মদ ইকবাল কিছুই জানেন না।

নুরুল আলম এবং মোহাম্মদ ইকবালের নামে ওই মিটার দুটি ষোলশহর বিদ্যুৎ অফিসের ফরিদ নামে একজন মিটার রিডার প্রায় ৭৫ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই ভূমিদ্যু রনিকে ব্যবহারের সুযোগ দেয়।

এ বিষয়ে নাগরিক পত্রিকায় প্রতিবদন প্রকাশের পর (শিরোনাম: ষোলশহর পিডিবি: লকড মিটার পুনঃসংযোগে ৭৫ হাজার টাকা নিল মিটার রিডার ফরিদ) সত্যতা পেয়ে মিটার রিডার ফরিদকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয় এবং মিটার দুটি প্রাথমিকভাবে অফিস থেকে লক করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছানা উল্লাহ এবং সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ হাসান পিন্টু।

বিষয়টি নিশ্চিত করার একদির পর ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি মিটারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে (শিরোনাম: জেলা প্রশাসনের ভূমি দখল: ভূমিদস্যু রনির অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন) একটি মিটার হেফাজতে নেন সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ হাসান পিন্টু। লোকজন জড়ো হওয়ায় নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে অন্য মিটারটি (০১০২১০৬৭১৫৭৪) আনা সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। তবে নিশ্চিত করা হয়েছে, মিটারটি লকড এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন।

গত ২ সেপ্টেম্বর সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলেও একটি বিশ্বস্ত সূত্র নাগরিক পত্রিকাকে নিশ্চিত করে যে, লকড এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন মিটারটি (০১০২১০৬৭১৫৭৪) পুনরায় সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ হাসান পিন্টুকে ম্যানেজ করে সংযোগ স্থাপানের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে।

সূত্রটি জানায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাশেদ হাসান পিন্টু লকড মিটারটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর প্রথমে তার সাথে ভূমিদস্যু রনি অফিসে দেখা করেন এবং পরে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছানা উল্লাহর সাথে দেখা করেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, (০১০২১০৬৭১৫৭৪) লকড এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন মিটারটি ১৩ সেপ্টেম্বর সকাল ৮টা ১ মিনিটে ৪৯০ টাকা রিচার্জ করা হয়েছে।

প্রশ্ন উঠেছে, যে মিটারটি (০১০২১০৬৭১৫৭৪) লকড এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন সেই মিটার আবার কার সহযোগিতায় সচল করা হলো? লকড মিটার কেবল অফিস থেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাই পুনরায় ওপেন/চালু করতে পারেন। তাহলে, কে করলেন?

এ বিষয়ে জানতে সহকারী প্রকৌশলী রাশেদ হাসান পিন্টু এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছানা উল্লাহকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেনি। পরে হোয়াটঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়েও কোনও জবাব পাওয়া যায়নি।