ষোলশহর পিডিবি: লকড মিটার পুনঃসংযোগে ৭৫ হাজার টাকা নিল মিটার রিডার ফরিদ

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-০৯-০৩ , ০৩:০৬ পিএম

ষোলশহর পিডিবি: লকড মিটার পুনঃসংযোগে ৭৫ হাজার টাকা নিল মিটার রিডার ফরিদ ছবি: নাগরিক পত্রিকা

দু’টি ‘লকড’ মিটারে পুণঃসংযোগ দিয়ে মিটার রিডার ফরিদ হাতিয়ে নিয়েছে ৭৫ হাজার টাকা। বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকা থেকে ইতিমধ্যে ভূমিদস্য ইকবাল হোসেন রনির কবল থেকে ওই মিটার দুটির অবৈধ সংযোগের সত্যতা পেয়ে বিচ্ছিন্ন করেছে পিডিবি ষোলশহর অফিস।

ষোলশহর অফিসের প্রায় ৮ বছর আগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া মিটার রিডার ফরিদ এসব অবৈধ সংযোগ, একজনের মিটার অন্যজনকে দেওয়া, মিটার লকড হয়েছে বলে নতুন মিটারে সংযোগ দেওয়া মত এমন সব অবৈধ কাজ করে হাতিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।  

গত ১ সেপ্টেম্বর নাগরিক পত্রিকায় ‘‘মিটার রিডার ফরিদের দৌরাত্ম্য: লকড মিটার দিল রৌফবাদের বেদখল সরকারি জমিতে’’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। ওই সংবাদ প্রকাশের পর বিভিন্ন ভুক্তভোগিরা আরও তথ্য সরবরাহ করতে শুরু করে। এরই অংশ হিসেবে নাগরিক পত্রিকার অনুসন্ধানে চাঞ্চল্যকর আরও একটি তথ্য আসে। যেখানে মিটার রিডার ফরিদ একই কৌশলে মিটার ‘লকড’ হয়েছে বলে গ্রহককে বিভ্রান্ত এবং ভয় দেখিয়ে তাকে নতুন মিটার নিতে বাধ্য করেন। এবং ওই ‘লডক’ মিটার বিভিন্ন জায়গায় অবৈধ পন্থায় মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুনঃসংযোগ দিয়ে আসছেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকায় সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের একটি সংরক্ষিত জায়গা দখল করে ইকবাল হোসেন রনি নামে এক ভূমিদস্যু গ্যারেজ করে অবৈধ ২টি মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চালিয়ে আসছিল।  

ওই মিটার দুটির মধ্যে ০১০২১০৯৫০৫৬১ নম্বরের মিটারটি নুরুল আলম নামে ভূমিহীন এক ব্যক্তিতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সংযোগ দেয়। সংযোগের একদিন পর মিটার লকড হয়েছে বলে তাকে বিভ্রান্ত এবং ভয় দেখিয়ে ডাবল টাকার বিনিময়ে আরেকটি সংযোগ নিতে বাধ্য করে। পরে লডক হয়েছে বলা ওই মিটারটি চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকার ত্রাণ ও  ‍পুনর্বাসনের দখল করা ভূমি দস্যু ইকবাল হোসেন রনিকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে সংযোগ প্রদান করে।

একই পন্থায় মিটার রিডার ফরিদ ০১০২১০৬৭১৫৭৪ নম্বরের একটি মিটার মোহাম্মদ ইকবাল নামে ভুয়া এক ব্যক্তির নামে রেজস্ট্রেশন করে ভূমি দস্যু রনির কাছে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধ সংযোগ চালু করে।

নাগরিক পত্রিকা এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করলে ওই সংবাদের সত্যতা পেয়ে পিডিবি ষোলশহর অফিস অভিযান পরিচালনা করে মিটার দুটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একটি মিটার তাদের হেফাজতে আনতে সক্ষম হয়।

এ বিষয়ে জানতে মিটার রিডার ফরিদকে একাকিবার ফোন করা হলেও রিসিভ করেননি। পরে হোয়াটঅ্যাপে তার বক্তব্য জানতে একটি সংক্ষিপ্ত বার্তা পাঠালেও তিনি কোনও জবাব প্রদান করেননি।

একজন মিটার রিডার হয়ে গুরুত্বপূর্ন এসব মিটারের সংযোগ প্রদান, ‘লকড’ হয়েছে বলে ভয় দেখিয়ে সেই মিটার অন্যকে প্রদান করার মত এমন অপরাধ ফরিদ একার পক্ষে করা সম্ভব হচ্ছে কিনা; তাকে কে বা কারা এ কাজে সহযোগিতা করছে এবং তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নিবেন- এমন প্রশ্নের উত্তর জানতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)-এর চট্টগ্রাম বিতরণ অঞ্চলের 'ষোলশহর' বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছানা উল্লাহকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে, এ বিষয়ে কথা হয় চট্টগ্রামে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) বিতরণ দক্ষিণাঞ্চলের বর্তমান অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদের সাথে।

তিনি নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, ‘অভিযোগটি গুরুতর।’ সংবাদ প্রকাশের পর প্রতিবেদনটি চেয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, অবশ্যই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

এ সংক্রান্ত আরও প্রতিবেদন পড়ুন:

মিটার রিডার ফরিদের দৌরাত্ম্য: লকড মিটার দিল রৌফবাদের বেদখল সরকারি জমিতে

জেলা প্রশাসনের ভূমি দখল: ভূমিদস্যু রনির অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন