নাগরিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ: মিটার রিডার ফরিদকে চাকুরিচ্যুৎ করল পিডিবি

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০৯-০৮ , ০১:০৪ পিএম

নাগরিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ: মিটার রিডার ফরিদকে চাকুরিচ্যুৎ করল পিডিবি ছবি: নাগরিক পত্রিকা

নাগরিক পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে মিটার রিডার ফরিদকে চাকুরিচ্যুৎ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ কে এম জসীম উদ্দীন। তিনি নাগরিক পত্রিকাকে জানান, মিটার রিডার ফরিদকে চাকুরিচ্যুৎ করা হয়েছে।

এরআগে নাগরিক পত্রিকা ‘‘মিটার রিডার ফরিদের দৌরাত্ম্য: লকড মিটার দিল রৌফবাদের বেদখল সরকারি জমিতে এবং ষোলশহর পিডিবি: লকড মিটার পুনঃসংযোগে ৭৫ হাজার টাকা নিল মিটার রিডার ফরিদ’’ শিরোনামে দু’টি প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

সংবাদ দুটি প্রকাশের পর বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, চট্টগ্রামের প্রধান প্রকৌশলীর দৃষ্টিগোচর হলে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন।

পরে প্রতিবেদনের আলোকে সত্যতা পেয়ে মিটার রিডার ফরিদকে চাকরিচ্যুৎ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন।

তবে, এ বিষয়ে বিপিডিবি-এর চট্টগ্রাম বিতরণ অঞ্চলের 'ষোলশহর' বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ ছানা উল্লাহকে একাধিকবার ফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার কোনও বক্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধানের প্রথম প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বিপিডিবি-এর চট্টগ্রাম বিতরণ অঞ্চলের 'ষোলশহর' বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের একটি ‘লকড’ মিটার গ্রাহকের সরলতার সুযোগ নিয়ে প্রতারণা করেছেন মিটার রিডার ফরিদ। তিনি কৌশলে একজন গ্রাহকের মিটার লক হয়েছে বলে ‘ডাবল’ টাকার বিনিময়ে তাকে নতুন মিটার দেয়। লক হয়েছে বলে আবার সেই মিটার মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসনের (ত্রাণ ও পুনর্বাসন) ভূমি দখল করা ইকবালে হোসেন রনি নামে এক ভূমিদস্যুর কাছে।

মো: নুরুল আলম। পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। থাকে সাংবাদিক হাউজিং সোসাইটির পাশে। প্রায় ৪ বছর আগে একটি মিটার সংযোগ নেন মিটার রিডার ফরিদ নামে পিডিবি’র এক কর্মচারীর সাথে চুক্তি করে। ফরিদ তাকে মিটারের যে সংযোগটি দিয়েছিল সেটির মিটার নম্বর ০১০২১০৯৫০৫৬১, গ্রাহক নম্বর এ/২৮০৮৫, অনুমোদিত লোড-৩ কে.ডব্লিউ।

নুরুল আলমের তথ্য মতে, মিটার সংযোগের একদিন পর ফরিদ তার মিটারটি লক করে দেয় এবং ফরিদ তাকে ফোন করে জানায়, তার মিটারটি লক হয়ে গেছে। তাকে নতুন আরেকটি মিটারের সংযোগ নিতে হবে।

পরে, নুরুল আলম মিটার রিডার ফরিদের কথায় বাধ্য হয়ে আরেকটি সংযোগ নেন। যার নম্বর ০১০২১০৯৬২১৫১ এর গ্রাহক নম্বর এ/২৯০৬৪-১, অনুমোদিত লোড-২ কে.ডব্লিউ।

পরে দ্বিতীয় প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকায় সরকারের ত্রাণ ও পুনর্বাসনের একটি সংরক্ষিত জায়গা দখল করে ইকবাল হোসেন রনি নামে এক ভূমিদস্যু গ্যারেজ করে অবৈধ ২টি মিটারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ চালিয়ে আসছিল।  

ওই মিটার দুটির মধ্যে ০১০২১০৯৫০৫৬১ নম্বরের মিটারটি নুরুল আলম নামে ভূমিহীন এক ব্যক্তিতে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে সংযোগ দেয়। সংযোগের একদিন পর মিটার লকড হয়েছে বলে তাকে বিভ্রান্ত এবং ভয় দেখিয়ে ডাবল টাকার বিনিময়ে আরেকটি সংযোগ নিতে বাধ্য করে। পরে লডক হয়েছে বলা ওই মিটারটি চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদ এলাকার ত্রাণ ও  ‍পুনর্বাসনের দখল করা ভূমি দস্যু ইকবাল হোসেন রনিকে ৪০ হাজার টাকার বিনিময়ে সংযোগ প্রদান করে।

একই পন্থায় মিটার রিডার ফরিদ ০১০২১০৬৭১৫৭৪ নম্বরের একটি মিটার মোহাম্মদ ইকবাল নামে ভুয়া এক ব্যক্তির নামে রেজস্ট্রেশন করে ভূমি দস্যু রনির কাছে ৩৫ হাজার টাকার বিনিময়ে অবৈধ সংযোগ চালু করে।

নাগরিক পত্রিকা এ বিষয়ে একটি সংবাদ প্রকাশ করলে ওই সংবাদের সত্যতা পেয়ে পিডিবি ষোলশহর অফিস অভিযান পরিচালনা করে মিটার দুটির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে একটি মিটার তাদের হেফাজতে আনতে সক্ষম হয়।

মিটার রিডার ফরিদ ষোলশহর অফিসের প্রায় ৮ বছর আগে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়ে এসব অবৈধ সংযোগ, একজনের মিটার অন্যজনকে দেওয়া, মিটার লকড হয়েছে বলে নতুন মিটারে সংযোগ দেওয়া মত এমন সব অবৈধ কাজ করে হাতিয়েছেন লাখ লাখ টাকা।