রোমান শেখ
আপডেট: ২০২০-০২-০৮ , ০৭:১৩ পিএম
চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সরওয়ারের হেফাজতে রয়েছে অবৈধ অস্ত্র ভাণ্ডার।আর এসব অস্ত্রের ব্যবহার হচ্ছে চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে।এসব অস্ত্রের ব্যবহার করতে গিয়ে তার কয়েকজন সহযোগী গত বছরের ২৪ অক্টোবরে বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। সে সময় তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় বিপুল পরিমান আগ্নেয়াস্ত্র।
চট্টগ্রামের ৮ মার্ডারের অন্যতম আসামী শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ খানের অন্যতম সহযোগী এই সরওয়ার ইতিমধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রিশন পুলিশের হাতে আটক হয়েছে। শনিবার তার আটকের বিষয়ে নিশ্চিত করেন বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার। তিনি জানান,সরওয়ারকে আনতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি টিম ঢাকার পথে রয়েছে।
সবশেষ, ২০১৭ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে শিবির ক্যাডার সরওয়ার ও ম্যাক্সন পালিয়ে কাতার চলে যায়। সেখানে বসে তারা চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছিল।
সূত্র মতে, শিবির ক্যাডার সরওয়ারের কাছে রয়েছে বিশাল অস্ত্র ভান্ডার। দীর্ঘ সময় কাতারে থাকলেও সরওয়ারের অনুসারী ও সহযোগিদের কাছে রক্ষিত থাকে এসব অস্ত্র। তাদের দিয়ে বিভিন্ন সময় চাঁদাবাজিসহ চালায় খুন, জায়গা দখল, বাসা-বাড়িতে আগুন দেয়ার মতো ভয়ংকর কর্মকাণ্ড।
সূত্রের দাবি,সরওয়ারের রক্ষিত অস্ত্রের একটি অংশ রয়েছে বায়েজিদ বোস্তামী থানার কথিত এক যুবলীগ নেতার কাছে। যুবলীগের ওই নেতার সাথে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ, সরওয়ার ও ম্যাক্সনের রয়েছে সুসম্পর্ক। বাংলাদেশ থেকে চাঁদাবাজির সিন্ডিকেটকে দেখভাল ও অস্ত্রের যোগান দেয় ওই যুবলীগ নেতা। তিনি নিজেকে যুবলীগ নেতা দাবি করলেও তার বিরুদ্ধে শিবির সম্পৃক্ততার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়েছেন বহু নেতা-কর্মী।
এলাকাবাসীর দাবি, সরওয়ারকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট পুলিশের হেফাজতে এনে তার এবং তার সহযোগিদের কাছ থেকে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা গেলে খুন,চাঁদাবাজিসহ অনেক অপরাধ কমে আসবে।
৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কফিল উদ্দিন খান ‘সিটিজেন নিউজ’কে জানান, শিবির সন্ত্রাসী সরওয়ার-ম্যাক্সন এবং এলাকায় তাদের কিছু সহযোগিদের চাঁদাবাজি এবং অস্ত্রের ঝন-ঝনানিতে এলাকাবাসি অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। এদের নিয়ন্ত্রণে বহু অস্ত্র রয়েছে। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি আজবান জানিয়ে ‘সিটিজেন নিউজ’কে বলেন, এসব জামাত-শিবির সন্ত্রাসীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে অস্ত্র উদ্ধার করে শাস্তি নিশ্চিত করা দরকার।
তথ্য মতে, ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বরে এই সরওয়ার জামিনে মুক্তি পেয়েছিল। তখন তাদের জেল গেট থেকে আটক করেছিল চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। দুই দিন পর ১৭ নভেম্বর তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অস্ত্রসহ নগরীর বায়েজিদ থানায় তাদের হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই তাদের আদালতে তোলা হলে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম আদালত।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার ‘সিটিজেন নিউজ’কে জানান,শিবির সন্ত্রাসী সরওয়ারসহ তাদের সিন্ডিকেটের কাছে অস্ত্র রয়েছে; এমন তথ্য রয়েছে পুলিশের কাছে। এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, সরওয়ার বা তার অনুসারীদের কাছে কী পরিমান অস্ত্র আছে তা নিয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।
শিবির সন্ত্রাসী সরওয়ারের বিরুদ্ধে বর্তমানে খুন, অপহরণ, চাঁদাবাজি, অস্ত্রসহ বিভিন্ন অপরাধে নগরীর বায়েজিদ থানায় ছয়টি, পাঁচলাইশ থানায় তিনটি, চান্দগাঁও থানায় দুটি এবং ডবলমুরিং থানায় একটিসহ মোট ১৮টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। অপর সন্ত্রাসী নূর নবী ওরফে ম্যাক্সনের বিরুদ্ধে বায়েজিদ থানায় পাঁচটি, পাঁচলাইশ থানায় একটি এবং ডবলমুরিং থানায় একটি মামলাসহ মোট সাতটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এ মামলাগুলো চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ ও তার অধীন অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন।
এরআগে, ২০১১ সালের ৬ জুলাই একে-৪৭ রাইফেলসহ পাঁচটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে ম্যাক্সন ও সরওয়ারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তারপর থেকে তারা চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিল। কারাগারে তারা একই সেলে একসঙ্গে বসবাস করত। কারাগারের ভেতরে কিংবা আদালতে কোথাও যাতায়াতের সময় তারা একই ডিজাইনের পোশাক (পাঞ্জাবি, শার্ট ও ফতুয়া) পরত। প্যান্ট এবং জুতাও পরত মিল রেখে। কারাগারের মধ্যে কেউ কাউকে ফেলে খাবার খেত না। ২০০৬ সালে ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন খানের হাত ধরে চট্টগ্রামের অপরাধ জগতে এসে ত্রাসের রাজত্ব সৃষ্টি করে এ দুই সন্ত্রাসী। খুন, অস্ত্র, অপহরণসহ একাধিক ঘটনায় তারা চট্টগ্রামে 'মানিক জোড়' সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে।চট্টগ্রামকে নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের কাছে রয়েছে বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার।
আরও পড়ুন:
শিবির ক্যাডার সরওয়ারের হেফাজতে `আরও অস্ত্র’ রয়েছে!
শিবির ক্যাডার সরওয়ার ইমিগ্রেশনে গ্রেফতার; আনা হচ্ছে চট্টগ্রামে
শিবির ক্যাডার সরওয়ার-ম্যাক্সন কাতারে গ্রেফতার!
চট্টগ্রামে শিবিরের ৫ ক্যাডার অস্ত্রসহ গ্রেফতার
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.