শিবির ক্যাডার সরওয়ার ইমিগ্রেশনে গ্রেফতার; আনা হচ্ছে চট্টগ্রামে

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০২-০৮ , ০২:০৯ পিএম

শিবির ক্যাডার সরওয়ার ইমিগ্রেশনে গ্রেফতার; আনা হচ্ছে চট্টগ্রামে

চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সরওয়ারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা ইমিগ্রেশন পুলিশ। গতকাল শুক্রবার (৭ফেব্রুয়ারি) রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করা হয়। তবে কোন এয়ারলাইন্স এবং গ্রেফতারের সঠিক সময় এখন পর্যন্ত কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি)বিভিন্ন থানায় সরওয়ারের বিরুদ্ধে ১৮টির বেশি গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে বলে সূত্র জানায়। বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার সরওয়ারকে হযরত শাহ জালাল আন্তর্রজাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করেছে বলে সিটিজেন নিউজকে নিশ্চিত করেছে।

তিনি সিটিজেন নিউজকে বলেন, যেহেতু বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সরওয়ারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা রয়েছে সেহেতু সরওয়ারকে ঢাকা ইমিগ্রেশন থেকে আনতে বায়েজিদ বোস্তামীর একটি টিম প্রস্তুতি নিচ্ছে।

দুর্ধর্ষ শিবির ক্যাডার সরওয়ার ও ম্যাক্সনের দেশ থেকে ২০১৭ সালের ১ সেম্টেম্বর জামিন নিয়ে এর কিছুদিন পর পালানো পরবর্তী তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড নিয়ে সিটিজেন নিউজ ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছিল। দেশ থেকে পালিয়ে তারা কাতারে বসে চট্টগ্রামের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করতো। এ সংক্রান্ত একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে সিটিজিন নিউজ। এই লিংকে বিস্তারিত- কাতার থেকে শিবির ক্যাডার ম্যাক্সন-সরওয়ারের চাঁদাবাজি

সিটিজেন নিউজের এমন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর সিএমপি কমিশনারের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট পুলিশ তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। পরে ওই প্রতিবেদনের সত্যতা মিললে অস্ত্রসহ ৫ শিবির ক্যাডারকে গ্রেফতার করে বায়েজিদ বোস্তামী থানা। একইসাথে গ্রেফতার হওয়া ওই ৫ শিবির ক্যাডার চাঁদাবাজির কথা স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় আদালতে। এই লিংকে বিস্তারিত- চট্টগ্রামে শিবিরের ৫ ক্যাডার অস্ত্রসহ গ্রেফতার

সিটিজেন নিউজে ওই সংবাদ প্রকাশের পর সিটিজেন নিউজের সম্পাদক রোমান শেখকে হত্যার হুমকিও প্রদান করে শিবির ক্যাডার সরওয়ার ও ম্যাক্সন। বিস্তারিত- সাংবাদিককে শিবির ক্যাডার সরওয়ার-ম্যাক্সনের হুমকি

চট্টগ্রামের দুর্ধর্ষ এই দুই শিবির ক্যাডারের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অতিষ্ট হয়ে ওঠে ব্যবসায়ীরা। অনুসন্ধানী ওই প্রতিবেদন প্রকাশ পরবর্তী চট্টগ্রাম থেকে অস্ত্রসহ তাদের ৫ সহযোগিকে গ্রেফতারের পর মূলত সরওয়ার ও ম্যাক্সনের চাঁদাবাজি বন্ধ হয়ে যায়। পরে বিভিন্ন সূত্রে খবর নিশ্চিত করে যে, সরওয়ার ও ম্যাক্সন কাতারে বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করছে।

সূত্র জানায়, কাতারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা দাবি করলে তারা কাতারের স্থানীয় সিআইডির কাছে অভিযোগ করে। পরে ওই ব্যবসায়ীদের অভিযোগের বিপরীতে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর রাতে সরওয়ারকে এবং ৩০ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ৩টার দিকে ম্যাক্সনকে গ্রেফতার করে।কাতারে গ্রেফতারের বিস্তারিত এই লিংকে- শিবির ক্যাডার সরওয়ার-ম্যাক্সন কাতারে গ্রেফতার

সূত্র আরও জানায়, ওই অভিযোগে ম্যাক্সনের বিরুদ্ধে অভিযোগ কম থাকায় ম্যাক্সন কিছুদিন হাজত খাটার পর মুক্তি পেয়ে চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি ঢাকা ইমিগ্রেশন থেকে পার হয়ে দেশের অভ্যন্তরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে।

নগর বিশেষ শাখার ডিসি আব্দুল ওয়ারিশ সিটিজেন নিউজকে জানান, সিটিজেন নিউজে অনুসন্ধানমূলক একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর আমরা শিবির ক্যাডার সরওয়ার ও ম্যাক্সনের বিষয়ে খোঁজ-খবর নিতে শুরু করি। পরে ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে সকল কাগজপত্র তৈরি করি।

সিএমপির ডিসি (উত্তর) বিজয় বসাক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে সিটিজেন নিউজকে জানান, শনিবার আমাদের কাছে খবর আসে যে,শিবির ক্যাডার সরওয়ারকে হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশ আটক করেছে। ইতিমধ্যে বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি টিম সরওয়ারকে আনতে ঢাকা উদ্দেশে রওয়ানা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা তাদের দেশে ঢুকার বিষয়ে অনেকটা নিশ্চিত থাকায় দেশের সকল বিমানবন্দরে তাদের গ্রেফতারে বিশেষ চিঠি দিয়েছিলাম।