জয়নাল হাজারীর বাড়িতে বোমা হামলায় মামলা

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-০৮-১৬ , ০২:৫৫ পিএম

জয়নাল হাজারীর বাড়িতে বোমা হামলায় মামলা ছবি: সিটিজেন নিউজ

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য জয়নাল হাজারীর বাড়িতে মুখোশধারী সন্ত্রাসীদের বোমা হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় থানায় মামলা করা হয়েছে। শনিবার (১৫ আগষ্ট) রাতে জয়নাল হাজারী ফেনী মডেল থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ২৫/৩০ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দায়ের করেন। পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফেনী মডেল থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘শনিবার রাতে লিখিত অভিযোগ আবেদনটিকে মামলা হিসেবে নেওয়া হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে মুখোশ পরে কিছু সশস্ত্র সন্ত্রাসী জয়নাল হাজারীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা বাড়িতে অবস্থিত মুজিব উদ্যানে ১৫ আগস্ট জাতির পিতার মৃত্যুবার্ষিকী ও শোক দিবস পালনের জন্য আয়োজনের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে।

এ সময় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিসংবলিত ব্যানার-ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলে এবং ফাঁকা গুলি ও বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়।

একই কায়দায় গত শুক্রবার বিকেল ৫টার দিকে সন্ত্রাসীরা বিভিন্ন স্থানে হামলার চেষ্টা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ ও র‍্যাব সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে হাজির হলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

এর আগে গতকাল শনিবার সন্ধ্যার দিকে ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জয়নাল হাজারী সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, তিনি ফেনীতে আসার পর তাকে বাড়িতে জায়গা দেওয়ায় দুর্বৃত্তরা শনিবার বিকেলে তার মরহুম ভাই কামাল হাজারীর ঘরে এসে কামাল হাজারীর স্ত্রী ও কন্যাদের লাঞ্ছিত করেছে। এ ছাড়া পূর্বনির্ধারিত মুজিব উদ্যানের মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রবেশ করতে দেয়নি পুলিশ ও পুলিশের সঙ্গে থাকা সিন্ডিকেট ক্যাডাররা।

জয়নাল হাজারী বলেন, ‘প্রশাসন চায় না আমি ফেনীতে থাকি। কারণ, আমি ফেনীতে থাকলে প্রশাসনসহ সিন্ডিকেট নেতাদের অপকর্ম বন্ধ হয়ে যাবে। আমার বাড়িতে আমি থাকতে পারব না, এটা কেমন কথা। আমার বয়স অনেক হয়েছে, ফেনীতে যদি আমার মরণ হয়, এ জন্য আমি ধন্য হবো।’

তিনি বলেন, ‘আজ কয়েকজন নেতা শোক দিবসের সভায় বলেছেন, আমি জেলা নেতাদের না জানিয়ে কেন ফেনী এসেছি। যেহেতু জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মারা গেছেন, সাধারণ সম্পাদক ৯ আগস্ট বিদেশ গেছেন, জেলা কমিটির কোনো অনুমোদন বা জমা হয়নি। তাই প্রথম সহসভাপতি কে, তাও জানি না। তাই আমি কাকে জানাব, এটার বিচার সাংবাদিক ভাইদের দিলাম।