২ দিনেই হত্যার গুপ্তকথা উন্মোচন

খুলশীতে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-০৮-০৭ , ০৮:০৫ পিএম

খুলশীতে স্কুলছাত্র হত্যা মামলায় মূল অভিযুক্ত গ্রেফতার ছবি: সিটিজেন নিউজ

স্কুলছাত্র মো. রাসেল। বয়স (১৩)। গত ৩১ জুলাই থেকে নিখোঁজ। হন্য হয়ে খুঁজে বেড়ায় পরিবার সদস্যরা। চার দিন পর স্কুলছাত্র রাসেলকে খুঁজে পেলেও জীবন্ত আর নয়। রাসেলের মৃতদেহ পঁচেগলে যায়। রাসেলের পিতা-মাতা রাসেলকে আর কোনওদিন ফিরে না পেলেও রাসেলের হত্যাকারীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। রাসেলের লাশ উদ্ধার হওয়ার মাত্র দুই দিনের মধ্যে গ্রেফতার করা হয় হত্যাকারী মো. হাসানুল করিম প্রকাশ হাসান (১৬)।

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন জালালাবাদ এলাকায় বসবাস করতেন স্কুলছাত্র রাসেল ও তার আত্মীয় হাসান (হত্যাকারী)। কিছুদিন আগে রাসেল ও হাসান মারামারি করে। হাসানের সাথে সবসময় রাসেল কর্তৃত্ব দেখাতে চাইতো। মেয়ে দেখলে অশালীন আচরণ করতো। রাসেল হাসানের মাকে গালি গালাজ করে। এতে হাসানের প্রচন্ড অপমান বোধ হয়। রাসেলের এমন আচরণ হাসানের কাছে ভালো লাগতো না। ক্ষিপ্ত হয় হাসান। পরিকল্পনা করে রাসেলকে হত্যার।

রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা করতে গিয়ে হাসান গত ৩১ জুলাই নিউ মার্কেটে যায় এবং একটি স্টীলের ছুরি কিনে।

পুলিশ জানায়, হাসান ছুরি কিনে ওই দিন সন্ধ্যায় রাসেলকে জালালাবাদ এলাকার হাসেম কোম্পানির সুউচ্চ পাহাড়ের ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে।

বায়েজিদ বোস্তামী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পরিত্রাণ তালুকদার সিটিজেন নিউজকে জানান, রাসেল ও মূল হত্যাকারী হাসান দুজন দুজনের বন্ধু। তাদের দুজনের মধ্যে ঝগড়াঝাটির এক সময়ে রাসেলকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাসান।

পরিত্রাণ তালুকদার বলেন, রাসেলকে হত্যার জন্য হাসান নিউ মার্কেট এলাকা থেকে একটি ছুরি কিনে। পরে ৩১ জুলাই সন্ধ্যায় হাসান রাসেলকে কর্পোরেশনের পাহাড়ের টাওয়ারের নিচে হাসান চার হাজার টাকা লুকিয়ে রেখেছে বলে জানিয়ে রাসেলকে সেখানে যেতে বলে। তখন রাসেল হাসানের সাথে পাহাড়ে যেতে রাজি হয়। হাসান কিছুক্ষণ টাকা খোঁজাখুঁজি করে একটি প্যাকেট রাসেলকে দেখিয়ে প্যাকেটটা তুলতে বলে। রাসেল প্যাকেটটি তোলার সময় মাথা নিচু করলে হাসান সামনের দিক থেকে তার পেটে সজোরে ছুরি দিয়ে আঘাত করে।

তিনি বলেন, তখন রাসেল চিৎকার করলে হাসান তার মুখ চেপে ধরে টাওয়ারের পাশে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। পরে তাকে আরও কয়েকবার ছুরির আঘাত করে। তারপর হাসান পাহাড় থেকে নেমে দ্রুত বাসায় চলে যায়।

পরিত্রাণ তালুকদার বলেন, হাসানের পরনের থাকা সাদা প্যান্ট ও নীল সাদা রঙের পাঞ্জাবিতে রক্ত লেগেছিল। পরে সে বাসায় গিয়ে প্যান্ট পাঞ্জাবী চেঞ্জ করে ঘুমিয়ে পড়ে। কোরবানি ঈদের পরের দিন নুর ফ্যাক্টরির সামনে রাহাতের সাথে হাসানের দেখা হয়। হাসান রাহাতকে রাসুলের খুনের ব্যাপারে সবকিছু খুলে বলে।

এ ঘটনায় পরিত্রাণ তালুকদার সিটিজেন নিউজকে বলেন, ৩ আগস্ট (সোমবার) রাসেলের লাশ উদ্ধারের পর একদিন পর রাসেলের বাবা বাদি হয়ে খুলশী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার ২ দিনের মধ্যে নির্মম এ হত্যকাণ্ডে জড়িত রাসেলের বন্ধু হাসানকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, হাসান জবানবন্দি বিজ্ঞ আদালতে ১৬৪ ধারায় রেকর্ড করা হয়েছে। হাসানের রক্তমাখা সাদা প্যান্ট ও পাঞ্জাবি জব্দ করা হয়েছে।