মেজর সিনহার মৃত্যু‌তে জ‌ড়িত‌দের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কর‌তে হ‌বে: রাওয়া

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৮-০৫ , ০৯:১৮ পিএম

মেজর সিনহার মৃত্যু‌তে জ‌ড়িত‌দের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর কর‌তে হ‌বে: রাওয়া ছবি: সিটিজেন নিউজ

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করে পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা সিনহা মো. রাশেদ খান হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ শেষ করার দাবি জানিয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সংগঠন ‘রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন’ (রাওয়া)।

বুধবার (৫ আগস্ট) বিকেলে রাওয়া হেলমেট হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি তুলে ধরেন সংগঠনের চেয়ারম্যান মেজর (অব.) খন্দকার নূরুল আফসার ।

তিনি বলেন, তিন মাসের মধ্যে বিচারকাজ শেষ করে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মৃত্যুতে জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। দাবি আদায় না হলে আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অবিলম্বে মেজর সিনহা হত্যা মামলার সব আসামিকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানোর দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি ওই ঘটনায় অভিযুক্ত পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী ও টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করে জেল হাজতে রাখার দাবি জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে মামলার সাক্ষী যারা আছে, তাদের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। কক্সবাজারের এসপিকেও অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান তারা।

‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সরকারপ্রধান ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী সার্বিক বিষয়গুলো অবহিত আছেন এবং যথাযথ দিকনির্দেশনা দিয়ে ওই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার সম্পন্ন করে সব সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যের হৃদয়ের রক্তক্ষরণ বন্ধ করে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনবেন’— আশা প্রকাশ করেন তারা।

রাওয়া আরও জানায়, ‘সাক্ষীদের পরিচিত বা আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমেও যেন সাক্ষীদের ওপর কোনও চাপ সৃষ্টি না করা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া কালক্ষেপণ না করে এই মামলার দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে অভিযোগপত্র দাখিল করতে হবে। বাংলাদেশের সংবিধান মোতাবেক বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে সুশৃঙ্খল বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য জবাবদিহিমূলক আইন প্রণয়ন করে, সেই অনুযায়ী বাহিনীকে পুনর্গঠিত করতে হবে। রাষ্ট্রের সব অস্ত্রধারী বাহিনীকে অবশ্যই সংবিধান মোতাবেক সুশৃঙ্খল হওয়া বাধ্যতামূলক। কোনও ভাবেই ওই ঘটনার সঙ্গে যেন কোনও রাজনৈতিক দুরভিসন্ধি বাস্তবায়িত না হয়, সেদিকে সবার সদয় দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন।’

মেজর (অব.) খন্দকার নূরুল  আফসার  বলেন, আমরা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার চাই। তা না হলে আমরা আন্দোলনে যাব। আমাদের এরকম আন্দোলনের কোনও নজির নেই। কিন্তু সহকর্মীকে হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা আন্দোলনে যেতে বাধ্য হব। তবে আমাদের আন্দোলনও হবে সুশৃঙ্খল।

এ ঘটনার তদন্তে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নকে (র‌্যাব) নিয়োজিত করার দাবি জানিয়েছে রাওয়া।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে খন্দকার নূরুল  আফসার  বলেন, পুলিশ ও সিআইডি যেভাবে তদন্ত করে, সেটা তো করবে। আমরা চাই, র‌্যাব ও এর তদন্ত করুক। সবগুলো তদন্ত মিলিয়ে নিরপেক্ষ ও প্রকৃত প্রতিবেদন বেরিয়ে আসুক।

উল্লেখ্য. শুক্রবার (৩১ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। ওই ঘটনার পর প্রথমে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাহজাহান আলীকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হলেও পরে তা পুনর্গঠন করা হয়।

গত ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক পুনর্গঠন করা কমিটিতে প্রধান করা হয়েছে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে। কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের একজন প্রতিনিধি, রামু ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও কক্সবাজারের এরিয়া কমান্ডারের একজন প্রতিনিধি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির একজন প্রতিনিধি ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একজন প্রতিনিধি রাখা হয়েছে। কমিটিকে সরেজমিনে তদন্ত করে ঘটনার কারণ, উৎস অনুসন্ধান এবং ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে তার করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট মতামত দিতে বলা হয়েছে।