সিরিয়াল রেপিস্ট বন্দুকযুদ্ধে নিহত; বায়েজিদ এলাকায় স্বস্তি

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-০৭-২৩ , ০৭:০৯ পিএম

সিরিয়াল রেপিস্ট বন্দুকযুদ্ধে নিহত; বায়েজিদ এলাকায় স্বস্তি ছবি: সিটিজেন নিউজ

সিরিয়াল রেপিস্ট বেলাল হোসেন দফাদার। টার্গেট তার শিশু। পেশায় সিএনজি অটোরিকশা চালক হলেও পথের আশপাশে নজর থাকতো শিশুদের দিকে। ধর্ষণ করতো আবার আলামতও নষ্ট করতো। দীর্ঘদিন এমন ঘৃণিত কর্মকাণ্ড করে বেলাল নিজেকে ধুরন্ধর মনে করলেও শেষ রক্ষা হয়নি চৌকস পুলিশ সদস্যদের হাত থেকে।  

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামীর বিভিন্ন এলাকায় সিএনজি চালিয়ে অলি-গলি ঘুরে বেলাল টার্গেট করতো বিভিন্ন বয়সের শিশুদের। টার্গেট ঠিক হলে চকোলেট কিংবা টাকার লোভ দেখিয়ে তুলে নিতেন তার গাড়িতে। নিয়ে যেত তার সুবিধামত বিভিন্ন নির্জন এলাকায়। ছুরি ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে চালাতো যৌন নির্যাতন। ধুরন্ত বেলাল ধর্ষণের কোনও প্রমান না রাখতে নির্যাতিত শিশুকে করাতো গোসলও। পরে সুবিধা অনুযায়ী শিশুগুলোকে ছেড়ে দিতো বিভিন্ন এলাকায়।

সাম্প্রতিক সময়ে বায়েজিদসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকার এমন কয়েকটি অভিযোগ তদন্তে মাঠে নামে পুলিশ। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে গঠন করা হয় চৌকস পুলিশ সদস্যসের একটি টিম। নিজস্ব কৌশল আর তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় উঠে আসে সেই সিরিয়াল রেপিস্ট বেলালের নাম।

তবে, ধুরন্ধর বেলালকে গ্রেফতার ততটা সহজ ছিলো না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত রাতে তার অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হন পুলিশ সদস্যরা।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বেলালকে গ্রেফতার করতে প্রস্তুত হয় টিম সদস্যরা। গভীর রাতে অভিযান চালানো হয় বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শান্তিনগর আবাসিক এলাকায় পাহাড়ে । কিন্তু সিরিয়াল রেপিস্ট ১০ মালালার আসামি ধুরন্ধর বেলাল পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে যায়। অতির্কত হামলা চালায় পুলিশ সদস্যদের ওপর। ছুঁড়তে থাকে গুলি মারে ইট-পাটকেলও। আত্মরক্ষার্থে পুলিশও চালায় গুলি।

পুলিশ জানায়, বেলাল ও তার সহযোগীদের সাথে ১০ মিনিট বন্দুকযুদ্ধে ১৭ রাউন্ড গুলি খরচ হয় পুলিশের। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় বেলালকে পাওয়া গেলেও পালিয়ে যায় তার সহযোগীরা। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয় ১টি দেশিয় তৈরি বন্দুক, ৮ টি কার্তুজ, ১টি অটো রিক্সা (সিএনজি), ৫শ’ পিস ইয়াবা ও ১৫ পিস যৌন উত্তেজক ঔষুধ।

পরে বেলালকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে।

এদিকে সিরিয়াল শিশু রেপিস্ট বেলাল বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনায় এলাকায় ফিরে আসে স্বস্তি। একাধিক পরিবার থানায় গিয়ে ধন্যবাদ জানায় পুলিশকে।

বায়েজিদ এলাকায় স্থানীয় বাসিন্দা বাতেন সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘একজন নরপিশাচ পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে নিহতের ঘটনায় এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমার ঘরেও ছোট মেয়ে আছে। সম্প্রতি একের পর এক শিশু ধর্ষণের ঘটনায় আমিও আমার মেয়েকে নিয়ে চিন্তায় ছিলাম।’ তিনি পুলিশকে ধন্যবাদ জানান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগী পরিবারের এক সদস্য সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘আল্লাহ উপযুক্ত বিচার করছে ধর্ষকের। আমার সন্তানের ক্ষতি হলেও ধর্ষক বেলাল বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ায় আমরা খুব খুশি হয়েছি।’

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন আগে আমরা একটি অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করি। ওই ঘটনায় বেলাল হোসেন দফাদার নামে ধুরন্ধর এক ব্যক্তির সম্পৃক্ততায় তাকে আটকের জন্য পুলিশ অভিয়ান পরিচালনা করলে পুলিশকে লক্ষ্য করে বেলাল ও তার সহযোগীরা গুলি চালালে পুলিশও আত্মরক্ষার্থে গুলি চালায়।’

পরে ঘটনাস্থল থেকে অস্ত্র, গুলি, ইয়াবা ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয় বলে জানান ওসি।

অভিযানে থাকা বায়েজিদ জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পরিত্রাণ তালুকদার সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘সম্প্রতি নগরীর বায়েজিদ, আকবর শাহ ও খুলশী এলাকায় বিভিন্ন বয়সের শিশু ধর্ষণ ঘটনার অনুসন্ধান করতে গিয়ে বেলাল দফাদারের সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়ে তাকে গ্রেফতার করতে গেলে শান্তিনগর আবাসিক এলাকায় পাহাড়ে বেলালের সহযোগীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে বেলাল মারা যায়।’

তিনি বলেন, ‘বেলাল ও তার সহযোগীদের ধরতে বন্দুকযুদ্ধে আমাদের কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘এলাকাবাসীর অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে বেলাল হোসেন দফাদার নামে এক সন্ত্রাসীর নাম উঠে আসে। তার বিরুদ্ধে নগরীর বিভিন্ন থানায় নারী ও শিশু নির্যাতনসহ ১০টি মামলা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘খুব গুরুত্ব সহকারে নিজস্ব কৌশল এবং তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারে বেলালকে গ্রেফতার করতে তার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে পুলিশ সদস্যরা সেখানে অভিযান চালালে পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধে বেলাল নিহত হয়।’

বিজয় বসাক সিটিজেন নিউজকে বলেন, এ ঘটনায় সহাকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পরিত্রাণ তালুকদার, ওসি প্রিটন সরকার, এসআই এনামুল, আশরাফুল ও কনস্টেবল সোলায়মান আহত হয়েছেন।

সমাজে কোনও পরিবারের সদস্যরা এ ধরনের কোনও সমস্যার সম্মুখীন হলে দ্রুত পুলিশের সহায়তা নিতে অনুরোধ করেন উপ পুলিশ কমিশনার বিজয় বসাক।