নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-০৭-০৪ , ০৫:৫৯ পিএম
ছবি: সিটিজেন নিউজ
হত্যা, অস্ত্র, চাঁদাবাজিসহ ১৩টি মামলার আসামি গোলাম রসুল সাদ্দাম (৩০)। চট্টগ্রাম নগরীর যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদল হত্যা মামলার প্রধান আসামি সাদ্দাম। সম্প্রতি কারাগার থেকে বের হয়ে আবারও চাঁদাবাজিসহ অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগ ওঠে ১৩ মামলার এই সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে। গত শুক্রবার (৩ জুলাই) একটি দেশিয় (এলজি) অস্ত্রসহ নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ তাকে গ্রেফতার করলেও ছবিতে প্রদর্শন করা সাদ্দামের বিদেশি অস্ত্রের সন্ধান পায়নি পুলিশ।
অসমর্থিত একটি সূত্রের দাবি, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রদর্শন করা বিদেশি ওই পিস্তল সাদ্দাম ব্যবহার করলেও সেটি এখন শফি গ্রুপের প্রধান যুবলীগ ক্যাডার শফিকুল ইসলাম ওরফে গ্যারেজ শফির হেফাজতে রয়েছে।
ওই সূত্রের দাবি, যুবলীগ ক্যাডার শফিকুল ইসলাম ও তার বাহিনীর সদস্যদের হাতে এখনও ভারী অস্ত্রসহ রয়েছে বিশাল অস্ত্র ভাণ্ডার।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার সিটিজেন নিউজকে বলেন, বায়েজিদ, খুলশী, নোয়াখালীর সেনবাগ থানাসহ একাধিক থানায় মোট ১৩টি মামলার আসামি গোলাম রসুল সাদ্দামকে কার্তুজভর্তি একটি দেশিয় অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
ওসি প্রিটন সরকার সিটিজেন নিউজকে বলেন, সাদ্দাম তার নিজের মাথায় ঠেকানো একটি বিদেশি পিস্তলসহ যে ছবিটি প্রকাশ হয়েছে সেটা অনেক আগের। তবে, সামাজিক যোগযোগ মাধ্যমে প্রদর্শন করা বিদেশি ওই অস্ত্র সম্পর্কে তিনি কিছু জানাতে পারেনি।
তিনি বলেন, সাদ্দামকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে একটি দেশিয় (এলজি) কার্তুজভর্তি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
সাদ্দামকে গ্রেফতার অভিযানের নেতৃত্বে থাকা বায়েজিদ বোস্তামী থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) গোলাম মো. নাসিম সিটিজেন নিউজকে জানান, সাদ্দামকে গ্রেফতারের পর তার হেফাজত থেকে একটি দেশিয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অস্ত্র এবং বিভিন্ন অপরাধ সম্পর্কে সাদ্দামকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
সূত্র জানায়, নগরীর বায়েজিদ, খুলশী এলাকায় অস্ত্র, চাঁদাবাজি, খুন, জায়গা দখলসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডে দুটি গ্রুপ সক্রিয়। এদের একটি পলিটেকনিক্যালের মহিউদ্দিন-দিদার এবং অন্যটি শেরশাহর শফি-কুদ্দুস গ্রুপ। চাঁদাবাজি, অস্ত্র ব্যবসা, জায়গা দখলের কাজে এই গ্রুপ দুটি নিজেদের শক্তি জানান দিতে বিভিন্ন সময়ে মারামারিতেও লিপ্ত হয়েছে। অস্ত্র প্রদর্শন ও গুলি চালিয়ে জানান দিয়েছে তাদের শক্ত অবস্থানের কথা।
সূত্র মতে, এই দুই গ্রুপের প্রধানরাসহ তাদের দলের অন্তত ৩০ জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্রসহ বিভিন্ন মামলা রয়েছে। গ্রুপ প্রধানদের কাছে ভারী অস্ত্র থাকলেও দেশিয় অস্ত্রশস্ত্র ব্যবহার করছে তাদের ছত্রছায়ায় থাকা সন্ত্রাসীরা।
গ্রুপ দুটি চট্টগ্রাম সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী বলে জানা যায়।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনায় অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। অনেকেই এলাকায় নেই। তবুও তারা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে বলে জানান পুলিশ কর্মকর্তারা।
সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক সিটিজেন নিউজকে বলেন, অপরাধ যে ধরনেরই হোক; ছাড় দেওয়া হবে না কাউকে। সঠিক তথ্য-প্রমান মিললে সে যে দলেরই হোক আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে নগর পুলিশ ও গোয়েন্দা তৎপরতা রয়েছে। অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদকসহ যে কোনও অপরাধ সম্পর্কে জনসাধারণকে সংশ্লিষ্ট থানাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তথ্য দিতে অনুরোধ করেন।
তথ্যমতে, ২০১৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাতে নগরীর শেরশাহ কলোনীর বাসায় ফেরার পথে যুবলীগ নেতা মেহেদী হাসান বাদলকে গুলি করে খুন করে দুর্বৃত্তরা। ওই ঘটনায় সাদ্দামকে প্রধান আসামি করে ২২ জনের বিরুদ্ধে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন মেহেদীর স্ত্রী মোবশ্বেরা মিশু।
মামলায় এক নম্বর আসামি করা হয় কুদ্দুস গ্রুপের অস্ত্রধারী ক্যাডার গোলাম রসুল সাদ্দামকে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিরা হল- শফি গ্রুপের প্রধান যুবলীগ ক্যাডার শফিকুল ইসলাম ওরফে গ্যারেজ শফি, তার ভাই মাহাবুব, ইলিয়াস ও আরেক ভাই চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি রাজা মিয়া, কুদ্দুস গ্রুপের প্রধান আবদুল কুদ্দুস বাপ্পী, রুবেল ও আরমান ওরফে ওয়াসা বাবুল, মিলন, খালেক, নুরুল আলম, মহিউদ্দিন সবুজ, মোসলে উদ্দিন, আবদুল্লাহ আল সজীব, আবু তাহের, ইউসুফ, জাবেদ, মুমিনুল ইসলাম, কালাম, মাসুদুর রহমান মাসুদ প্রকাশ কার মাসুদ, তানভীর ও তাহের।
তবে ওই প্রতিবেদনে বাদি আদালতে নারাজি দাখিল করলে পরে দায়িত্ব দেয়া হয় সিএমপির গোয়েন্দা পুলিশকে।
২০১৫ সালের শেষদিকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পান সিএমপির ডিবি ইন্সপেক্টর আবদুর রহিম। প্রায় তিন বছর তদন্তের পর এজাহারভুক্তদের মধ্যে মাত্র নয়জনকে আসামি করে গত বছরের ২৪ মার্চ চট্টগ্রামের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে চার্জশিট জমা দেন তিনি।
চার্জশিটভুক্ত নয় আসামি হল- গোলাম রসুল সাদ্দাম, আবদুল কুদ্দুস বাপ্পী, রুবেল, মহিউদ্দিন সবুজ, আবদুল্লাহ আল সজীব, মুমিনুল ইসলাম, মাসুদুর রহমান মাসুদ, তানভীর ও আবু তাহের।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.