মোসাদ্দেকুর হত্যা মামলার সোহেল বন্দুকযুদ্ধে নিহত

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-০৬-২৭ , ০৯:৩৯ এএম

মোসাদ্দেকুর হত্যা মামলার সোহেল বন্দুকযুদ্ধে নিহত ছবি: সিটিজেন নিউজ

সাতকানিয়ার যুবলীগ কর্মী মোসাদ্দেকুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি সোহেল পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) ভোরে সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে কোতোয়াল দিঘীর পাড় এলাকায় পুলিশের সাথে বন্দুকযুদ্ধ হয়।

পুলিশের দাবি, বন্দুকযুদ্ধে নিহত সোহেল যুবলীগ কর্মী মোসাদ্দেকুর রহমান হত্যা মামলার প্রধান আসামি।

গত ২৩ জুন সিটিজেন নিউজ ‘মাদক নির্মূলের ঘোষণা দেওয়ায় খুন হলেন মোসাদ্দেকুর’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করে।

সাতকানিয়া থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সফিউল কবীর সিটিজেন নিউজকে বলেন, শনিবার ভোরে সাতকানিয়া উপজেলার গারাংগিয়া মাদ্রাসার পশ্চিম পাশে কোতোয়াল দিঘীর পাড় এলাকায় পুলিশের সাথে হত্যা মামলার আসামি ও মাদক ব্যবসায়ী সোহেলের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে।

ওসি বলেন, গত ২২ জুন বিকেলে সাতকানিয়া উপজেলার বারদোনা এলাকায় মাদক ব্যবসায় বাধা দেওয়ায় মাদক ব্যবসায়ীদের হাতে ছুরিকাঘাতে খুন হন যুবলীগ কর্মী মোসাদ্দেকুর রহমান। এ সময় মোসাদ্দেকুর রহমানের ভাই ফয়সালুর রহমানকেও ছুরিকাঘাত করা হয়।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, এলাকায় মাদক ব্যবসা ও অসামাজিক কার্যকলাপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় নিজে উদ্যোগী হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে নিয়ে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের বারদোনা মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটি গঠন করেন মোসাদ্দেকুর রহমান।

করোনা পরিস্থিতি শুরু থেকেই তিনি এলাকায় এসে এ কমিটির কর্মকাণ্ডকে আরও জোরদার করে তোলেন। এরই ধারাবাহিকায় গত শনিবার বিকেলে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদের বাড়িতে কমিটির লোকজনের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকের পর ছবি দিয়ে মোসাদ্দেকুর তার ফেসবুক আইডিতে লেখেন, 'প্রতিটি সমাজ থেকে ইয়াবা নির্মূল করার পাশপাশি ক্রমান্বয়ে ১৬ নম্বর সদর ইউনিয়নকে ইয়াবামুক্ত করতে সাতকানিয়া সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জনাব হারুনুর রশিদ, পরানেরপাড়ার কৃতি সন্তান লুৎফর রহমান, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের অভিভাবক সেলিম উদ্দিন এবং চিববাড়ীর ডাক্তার পাড়ার হেলাল উদ্দিনকে নিয়ে আমরা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করি। পরবর্তী সময়ে ওয়ার্ড ভিত্তিক প্রতিনিধিদের নিয়ে কার্যকলাপ আরও সম্প্রসারিত করা হবে।'

ফেসবুকে তার এমন ঘোষণার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সোমবার (২২ জুন) বিকেলে আসর নামাজের পর মোসাদ্দেকুর এলাকার হাঁটতে বের হন। হাঁটতে হাঁটতে ইয়াবা ব্যবসায়ী সোহেলের বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সোহেল মোসাদ্দেককে দেখামাত্রই তার নাম ধরে অকথ্যভাষায় গালিগালাজ করে। মোসাদ্দেক গালিগালাজের কারণ জানতে চাইলে তাদের মধ্য বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সোহেল অতর্কিতভাবে মোসাদ্দেককে ছুরিকাঘাত করলে সে গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এসময় মোসাদ্দেকের আত্নচিৎকারে ঘটনাস্থলের পাশেই খেলতে থাকা মোসাদ্দেকের ছোট ভাই ফয়সালসহ (৩৫) বেশ কয়েকজন যুবক এগিয়ে আসলে ফয়সালকেও ছুরিকাঘাত করে দ্রুত পালিয়ে যায় সোহেল।

পরে স্থানীয়রা তাদেরকে উদ্ধার করে প্রথমে লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য দুজনকেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠান। পরে চমেক হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মোসাদ্দেককে মৃত ঘোষণা করেন।