অসংখ্য প্রাণের বিপন্নতা রক্ষায় ‘সিএমপি ও তারা’

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৬-২০ , ১২:২৩ এএম

অসংখ্য প্রাণের বিপন্নতা রক্ষায় ‘সিএমপি ও তারা’ ছবি: সিটিজেন নিউজ

পুলিশ সম্পর্কে কিছু মানুষের নেতীবাচক একটা ধারণা কাজ করতো। সময়, পরিস্থিতি আর প্রেক্ষাপট সে ধারণাকে পাল্টে দিয়েছে। করোনাকালে সেই বদ্ধমূল ভাবনার গায়ে মানবিকতার পরশ বুলিয়ে দিয়েছে তারা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে লকডাউন ব্যবস্থাপনা ও জননিরাপত্তার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি অসহায় মানুষদের খাদ্যসাহায্যেও হাত বাড়িয়ে দিয়েছে পুলিশ। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পর্যন্ত পুলিশের ২৯ সদস্য মারা গেছেন।

সিএমপি। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ। করোনাকালে আইনী সেবার পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে করোনা মোকাবিলায় মানুষের জীবন রক্ষায় মানবিক সব সেবায়। বাসায় বাজার পৌঁছে দেয়া থেকে শুরু করে ওষুধপত্র, প্রসূতিকে হাসপাতালে পৌঁছানো, জরুরি খাদ্য সামগ্রী বিতরণ, নিরাপদ দূরত্ব নিশ্চিত করা, রোগীর দাফন করাসহ ইত্যাদি।

সম্প্রতি রোগীর জীবন বাঁচাতে অক্সিজেনের যোগান ও সংগ্রহের ওপর দায়িত্ব পালনে রেখেছেন গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা।

চট্টগ্রাম জেনারেল হসপিটালের ৬৩ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে অক্সিজেন রিফিল করা সম্ভব হচ্ছিল না। ফলে প্রায় ২৫০-৩০০ রোগীর জীবন প্রায় কঠিন সংকটের মুখোমুখি।অক্সিজেন রিফিল করা সম্ভব না হলে জরুরী অক্সিজেন সাপোর্ট এর অভাবে সংকটাপন্ন যে কোন রোগী ভয়ানক পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার পথে।

সঙ্কট থেকে উত্তরণে সিএমপির উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) জনাব বিজয় বসাক জরুরি আলোচনা করেন পাঁচলাইশ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূইঁয়ার সাথে।

পাঁচলাইশ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূইঁয়া সিটিজেন নিউজকে জানান, হঠাৎ করে ৬৩ টি অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করার এমন কথায়-আমি হতভম্ব হলেও চট্টগ্রামে ফ্রি অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল দেয়ার কাজে এগিয়ে আসা কয়েকজন উদ্যমী যুবকের মধ্যে সৈয়দ ইকরামুল হকের সাথে কথা বলি।

আবুল কাশেম বলেন, আমি তাকে কল দিয়ে জরুরী অক্সিজেন রিফিল করার জন্য বলা মাত্রই তিনি রাজি হন।কিন্তু তাদের রিফিলিং সেন্টার বন্ধ হওয়ার কারণে সম্ভব হচ্ছে না জানায়। কিন্তু আমি তাকে যেকোনও মূল্যে অক্সিজেন রিফিল সহায়তা করার জন্য অনুরোধ জানাই। অন্যথায়, অনেক মানুষের জীবন সংকটাপন্ন হবে বলে তাকে এ বিষয়ে আবারও সহযোগিতার জন্য অনুরোধ করলে তিনি তাৎক্ষণিক বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন।

ওসি বলেন, ইকরামুল হক আমার অনুরোধে অবশেষে বারো আউলিয়া ফুলতলা জিইডি সুবেদার অক্সিজেন প্লান্টের ম্যানেজার ওয়াহিদ ফেরদাউসের সাথে কথা বলে। পরে তারা তাৎক্ষণিক সবগুলো সিলিন্ডার রিফিল করে দেয়ার জন্য রাজি হন।

আবুল কাশেম আরও বলেন, ডিসি স্যারের নির্দেশে চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে দুইজন কনসালটেন্টের সাথে কথা বলে পাঁচলাইশ থানা থেকে এসআই ইমাম হোসেনের নেতৃত্বে একটি মোবাইল টিমসহ বার আউলিয়ার জিইডি সুবেদার অক্সিজেন প্লান্টে পাঠাই।

পরে জিইডি অক্সিজেন প্লান্ট কর্তৃপক্ষ সবগুলো সিলিন্ডার আন্তরিকতার সাথে রিফিল করে দেন বলে জানান ওসি আবুল কাশেম।

ওসি আবুল কাশেম মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে শুকরিয়া আদায় করে চট্টগ্রামের উদীয়মান সমাজকর্মী সৈয়দ ইকরামুল হকের সহযোগিতায় এবং জিইডি সুবেদার অক্সিজেন প্লান্ট কর্তৃপক্ষকে অসংখ্য ধন্যবাদ জানান।

সিএমিপর উপ পুলিশ কমিশনার (উত্তর) বিজয় বসাক সিটিজেন নিউজকে জানান, বর্তমান দুর্যোগকালীন সময়ে যেখানে প্রতি মুহূর্তে শুধুমাত্র অক্সিজেনের অভাবে মানুষ জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চলে যাচ্ছেন। পাঁচলাইশ মডেল থানার সরাসরি অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতায় মানবিক সংকট কালে চট্টগ্রামের উদীয়মান সমাজকর্মী সৈয়দ ইকরামুল হকের সহযোগিতায় এবং জিইডি সুবেদার অক্সিজেন প্লান্ট কর্তৃপক্ষের বদান্যতায় আজ অসংখ্য প্রাণের বিপন্নতা থেকে রক্ষা করার কাজে সহায়ক হতে পেরে সৃষ্টিকর্তার দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।

তিনি সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, মানুষের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ সবসময় পাশে ছিল, পাশে আছে এবং পাশে থাকবে।