সেবা শুরু রবিবার থেকে

আইসোলেশন: স্বপ্নবাজ তরুণদের স্বপ্ন পূরণ

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৬-১৩ , ০৬:৩০ পিএম

আইসোলেশন: স্বপ্নবাজ তরুণদের স্বপ্ন পূরণ ছবি: সিটিজেন নিউজ

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে সারাবিশ্ব টালমাটাল। প্রায় চার লাখ ৩০ হাজারে পৌঁছে গেল মৃতের সংখ্যা। এ যেন মৃত্যুর মিছিল! স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশেও এ পর্যন্ত মারা গেছে ১ হাজার ১শ’ ৩৯ জন। তার মধ্যে বৃহত্তর চট্টগ্রামেই মারা গেছেন ১১১ জন-শুক্রবার (১২ জুন) চট্টগ্রাম সিভিল সার্জানের তথ্য অনুযায়ী। তবে, আজ  শনিবার (১৩ জুন) স্বাস্থ অধিদপ্তরের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে আরও ১৩ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত করেন।

তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা ঢাকার পর চট্টগ্রামে।

এদিকে, রোগীদের সেবা না দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে বেসরকারী হাসপাতাল-ক্লিনিকের বিরুদ্ধে। চিকিৎসা সেবা না পেয়ে অনেক রোগী মারা গেছেন বলেও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ পায়। এমতাবস্থায়, গত কয়েকদিন আগে চট্টগ্রামে এক দল তরুণ করোনা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিয়ে সুস্থ করার স্বপ্ন দেখতে শুরু করে। তাদের স্বপ্ন আর ইচ্ছে শক্তিই পৌঁছে দেয় স্বপ্ন বাস্তবায়নের চূড়ায়।

এমন স্বপ্ন, উদ্যোগের পর বাস্তবায়নের নেপথ্যে রয়েছেন প্রধান উদ্যোক্তা ও মুখপাত্র মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন, উদ্যোক্তা-নাজিমুদ্দিন মাহমুদ শিমুল, নুরুল আজম রনি, আ্যাডভোকেট জিনাত সোহানা, আ্যাডভোকেট টিআর খাঁন, জাওয়াদ চৌধুরী, জাহাঙ্গীর আলম, ইকরাম উল্লা, তৌহিদুল ইসলাম, জাফর আল তানিয়ার, নুরুজ্জামান, গোলাম সাদমান জনি, সাবিনা আক্তার, সুমন চৌধুরী ও এম.তৌহিদুল ইসলাম ও সাদ শাহরিয়ার।

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরের পোর্ট কানেকটিং সড়কে প্রিন্স অব চিটাগং নামে একটি কমিউনিটি সেন্টারকে ১০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। রবিবার (১৪ জুন) থেকে শুরু হবে সেবা কার্যক্রম।

এ উপলক্ষে শনিবার বিকেলে হালিশহরে করোনা আইসোলেশন সেন্টার চট্টগ্রাম-এ এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ সাজ্জাত হোসেন বলেন, সরকারি হাসপাতালে শয্যার সীমাবদ্ধতা আর বেসরকারি হাসপাতাল মালিকদের নয় ছয় মনোভাবের কারণে আক্রান্তদের দুর্ভোগ আজ চরমে। স্বজনহারাদের আর্তনাদ আর মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আমাদের এই করোনা আইসোলেশান সেন্টারের প্রয়াস। একঝাঁক নির্ভীক আর মানবিক মানুষের অক্লান্ত শ্রমে গড়ে উঠেছে এই ১০০ শয্যার আইসোলেশন সেন্টার। যেখানে করোনা আক্রান্তদের পরম মমতায় বিনা পয়সায় সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করা হবে।

তিনি করোনা রোগীদের জন্য খাদ্যসামগ্রী, ঔষধ, মাস্ক, গ্লাভস, স্যানিটাইজার দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমরা সবাই এমন এক ক্রান্তিকালে এসে পড়েছি যেখানে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে আমাদেরকে এই মহাবিপদ থেকে রক্ষা করতে।

নূরুল আজিম রনি বলেন, ১০০ শয্যার মধ্যে ৬৫ শয্যা প্রস্তুত হয়েছে। বাকি ৩৫টি শয্যা আগামী সপ্তাহে এসে পৌঁছবে। আইসোলেশন সেন্টারে অক্সিজেন, অক্সিজেন কনসেনট্রেটর, পালস অক্সিমিটার, নেবুলাইজার, ওষুধসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সামগ্রী পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখা হয়েছে। ১২ জন চিকিৎসক ও ৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক সার্বক্ষণিক করোনায় আক্রান্তদের সেবা দেবেন। রোগীদের অ্যাম্বুলেন্সে পরিবহন করা হবে। আইসোলেশন সেন্টারে তাদের পর্যাপ্ত খাবার ও চিকিৎসা দেওয়া হবে।

আইসোলেশান সেন্টারের জন্য নিজের কমিউনিটি সেন্টার দেয়ায় আইএমএস গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল বশর আবুকে ধন্যবাদ জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে। এছাড়া আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলামও আইসোলেশন সেন্টার করার ক্ষেত্রে সবসময় সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন বলে উদ্যোক্তারা জানিয়েছেন।

এ সময় চিকিৎসা সেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তব্য দেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্টগ্রাম বিভাগের করোনা বিষয়ক সেলের সমন্বয়ক ডা. আ.ন.ম মিনহাজুর রহমান।