রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক প্রপাগান্ডা যুবলীগের বাচ্চুর বিরুদ্ধে

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-০৬-০৭ , ০৬:২১ পিএম

রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীক প্রপাগান্ডা যুবলীগের বাচ্চুর বিরুদ্ধে ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘ সময় ধরে স্বচ্ছ রাজনীতি করে আসা নগর যুবলীগের আহবায়ক মো. মহিউদ্দিন বাচ্চুর বিরুদ্ধে একটি কুচক্রি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা (প্রপাগান্ডা) করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা এবং ব্যবসায়ে সুনাম ক্ষুন্ন করতেই সম্প্রতি তাকে জড়িয়ে মিথ্যা সংবাদও পরিবেশন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন মহিউদ্দিন বাচ্চু।  

মহিউদ্দিন বাচ্চু সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘রাজনৈতিক এবং ব্যবসায়ীকভাবে স্রেফ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে একটি কুচক্রি মহলের লোকজন অপপ্রচার চালাচ্ছে আমার বিরুদ্ধে।’ তিনি বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে খুলশী এলাকায় আমার বায়নাকৃত একটি জায়গায় সাইনবোর্ড টাঙানোকে কেন্দ্র করে কুচক্রি একটি মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও কয়েকটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দুর্নাম ছড়াচ্ছে।’

জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘ ৪০ বছর যাবৎ ছাত্রলীগ হয়ে যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত মহিউদ্দিন বাচ্চু। ৯০ দশকে জোট সরকারের আমলে দীর্ঘ ১১ মাস ১৭ দিন কারাভোগসহ ১১টি রাজনৈতিক মামলা ছিলো তার ঘাঁড়ে। বহু ত্যাগ তিতিক্ষা পার করে বর্তমানে তিনি নগর যুবলীগের আহবায়কের দায়িত্ব পালন করছেন।

যে জায়গাটি নিয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে:

মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘এসএম জমির উদ্দিন এবং আলমগীর নামে দুজন মিলে খুলশী গার্ডেন ভিউ হাউজিং সোসাইটি গড়ে তুলেন। এরমধ্যে আলমগীরের কাছ থেকে আমি ৯৫ গন্ডা জায়গা বায়নাসূত্রে ক্রয় করি। কিন্তু বায়না পরবর্তী দীর্ঘ সময় জায়গাটি বুঝিয়ে দিতে না পারায় জমির উদ্দিন, আলমগীর ও সোসাইটির সভাপতি, সেক্রেটারিসহ বেশ কয়েকবার বৈঠক হয়। পরে গত সোমবার (১ জুন) সবার উপস্থিতিতে আমাকে জায়গা বুঝিয়ে দেয় এবং আমি আমার জায়গায় সাইনবোর্ড স্থাপন করি।’

মহিউদ্দিন বাচ্চু বলেন, ‘এসএম জমির উদ্দিন ওই সোসাইটিতে বিভিন্ন দাগের জায়গায় ইচ্ছাকৃতভাবে জটিলতা তৈরি করে রেখেছেন। ফলে ওই সৃষ্ট জটিলতার কারণে আলমগীর আমার জায়গা বুঝিয়ে দিতে চাইলেও জমির উদ্দিন কৌশলে এড়িয়ে যেতেন।’  

তিনি বলেন, ১৮ রমজানের দিন খুলশী গার্ডেন ভিউ হাউজিং সোসাইটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, একজন এক্সিকিউটিভ মেম্বার, এসএম জমির এবং জমিরের ম্যানাজারের উপস্থিতিতে একটি বৈঠক হয়। পরে গত সোমবার (১ জুন) সবার উপস্থিতিতে আমাকে জায়গা বুঝিয়ে দেয়া হয়। বাচ্চু জমির উদ্দিনকে জোর করে আনার একটি অপপ্রচার চালানো হয়েছে উল্লেখ করে মহিউদ্দিন বাচ্চু সিটিজেন নিউজকে বলেন, ‘আমার সংরক্ষনে তাদের আসা যাওয়ার সিসি ক্যামেরা ফুটেজ রয়েছে। তারা যে যার নিজ গাড়িতে করে বৈঠকে আসেন এবং আমাকে জায়গা বুঝিয়ে দিয়ে চলে যান।’

খুলশী গার্ডেন ভিউ হাউজিং সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট এস.এম বজলুর রশিদ বলেন, জায়গাটির বায়না সূত্রে মালিক মহিউদ্দিন বাচ্চু। সবার উপস্থিতিতে জায়গায় গিয়ে সীমানা ঠিক করার পর মহিউদ্দিন বাচ্চু সাইনবোর্ড টাঙান।

মহিউদ্দিন বাচ্চুর সংক্ষিপ্ত রাজনৈতিক জীবন:

১৯৬৭ সালের জানুয়ারির ৮ তারিখ জন্মগ্রহন করে মহিউদ্দিন বাচ্চু। ১৯৮২ সালে রাউজানের গহিরা এজেওয়াই বহুমূখি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাশ করেন। ১৯৮৪ সালে এইচএসসি শেষ তিনি ডিগ্রী পাশ করেন হাটহাহাজারী ডিগ্রী কলেজ থেকে। স্কুল জীবন থেকেই তিনি ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৮৩ সালে তিনি চট্টগ্রাম নগরীর টাইগারপাস ইউনিটের ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক হলেও পরবর্তীতে তার ভালো দক্ষতার কারণে ওয়ার্ডের সাংগঠনিকের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে পর্যায়ক্রমে তিনি নগরীর ডবলমুরিং থানা ছাত্রলীগ এবং নগর ছাত্রলীগের গন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

এরমাঝে ৯০ দশকে জোট সরকারের আমলে তিনি দীর্ঘ ১১ মাস ১৭ দিন কারাভোগসহ ১১ টি রাজনৈতিক মামলায় অভিযুক্ত হন তিনি।

পরে ২০০৩ সালে নগর যুবলীগের চন্দন-মশিউর কমিটির মশিউর রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হলে তখন ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারির দায়িত্বও পালন করেন তিনি।

এরপর ২০১৩ সালের ১৩ জুলাই চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের ১০১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয় কেন্দ্র থেকে। ওই কমিটিতে মহিউদ্দিন বাচ্চুকে আহবায়ক করা হয় এবং তখন থেকে তিনি এখনও সাংগঠনিক ও স্বচ্ছতার সাথে দায়িত্ব পালন করছেন।

মহিউদ্দিন বাচ্চু চট্টগ্রাম বন্দর বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ২০১৩ সালে নগরীর অলংকার মোড়ে জামাত-শিবির সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের বিরুদ্ধে বেশ অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন।

বর্তমানে নগর যুবলীগের আহবায়কের দায়িত্বের পাশাপাশি তার মেধা ও পরিশ্রমে গড়ে ওঠা ফার্মা এগ্রো প্রোপার্টি ও প্রোপার্টি ভ্যালী লিমিটেডের চেয়ারম্যানসহ বিল ম্যাক্সের পরিচালক হিসেবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন মহিউদ্দিন বাচ্চু।

করোনা সঙ্কটে সারাদেশের ন্যায় চট্টগ্রামের মানুষও খাদ্য সঙ্কটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে প্রায় ১০ হাজার পরিবারকে বিভিন্ন সময়ে খাদ্য সহায়তা করেন। পাশাপাশি সার্বক্ষনিক নগরীর সকল কর্মী-সমর্থকদের প্রতিনিয়ত খোঁজ-খবর নেয়াসহ তাদের সকল সঙ্কট ও সমস্যা সমাধানে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন।