চট্টগ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে একজনকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৪-৩০ , ১০:৪৯ এএম

চট্টগ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে একজনকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামে দোকান খোলায় আটকের পর পুলিশ ফাঁড়িতে গিরিধারী চৌধুরী নামের এক কর্মচারীকে পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।  তার স্বজন, দোকান মালিক ও কর্মচারীদের অভিযোগ, গিরিধারী চৌধুরীকে পুলিশ ধরে নিয়ে বেধড়ক পিটানো হয়। পরে হাসপাতালে নেয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় নগরীর বক্সিরহাট ফাঁড়িতে ঘটে এই ঘটনা।

স্বজনরা জানান, টেরিরবাজারে প্রার্থনা বস্ত্রালয়ে কাজ করতেন গিরিধারী। দোকান খোলার কিছুক্ষণ পর তাকে আটক করে ফাঁড়িতে নিয়ে যান, এএসআই কামরুল। এসময় তাকে বেধড়ক পিটানো হয় বলেও অভিযোগ স্বজনদের। পরে হাসপাতালে নেয়া হলেও বাঁচানো যায়নি তাকে।

দোকান মালিক ও অন্য কর্মচারীরা জানান, সন্ধ্যায় দোকান খুলে পূর্বপরিচিত এক ক্রেতার কাছে মালামাল বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন তিনি। বিক্রীত কাপড়গুলো ভ্যানে তোলার সময় বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কামরুল হাসান তাকে বেধড়ক পিটিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে তাকে আবার চড়-থাপ্পড় ও কিল-ঘুষি মারতে থাকেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পরই মারা যান গিরিধারী চৌধুরী। পরে চমেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

তবে,পুলিশের বলছে ভিন্ন কথা, আটকের পর অসুস্থ হয়ে পড়ায় গিরিধারীকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছিলো।

কোতোয়ালী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিন জানায়, চোর সন্দেহে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। তিনি আগ থেকে অসুস্থ ছিলেন। হার্ট অ্যাটাক করে নাকি অন্য কোনোভাবে মারা গেছেন সেটি তদন্ত করছে পুলিশ।

এদিকে গিরিধারী চৌধুরী নিহতের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেন টেরিবাজার এলাকার মানুষ। সেখানে অভিযুক্ত এএসআই কামরুলের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকাবাসীকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন তারা।

দোকান কর্মচারীর মৃত্যুর ঘটনা তদন্তে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) শাহ মো. আবদুর রউফের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ ছাড়া বক্সিরহাট পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই কামরুল হাসান ও দুই কনস্টেবলসহ তিনজনকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।