দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৫ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৪-২৩ , ০৮:০১ পিএম

দুর্নীতিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ৩৫ জনপ্রতিনিধি বরখাস্ত ছবি: ইন্টারনেট

ত্রাণ আত্মসাতসহ বিভিন্ন অভিযোগে আরও ৭ জন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান ও ৩ জন ইউপি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

এ নিয়ে মোট ৩৫ জন জনপ্রতিনিধিকে বরখাস্ত করা হলো। তাদের মধ্যে ১৫ জন ইউপি চেয়ারম্যান, ১৯ জন ইউপি সদস্য এবং ১ জন জেলা পরিষদ সদস্য।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট সঙ্কটের সময় তাদের বিরুদ্ধে সরকারি ত্রাণের চাল আত্মসাৎ, জাটকা নিধনে বিরত থাকা জেলেদের জন্য সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল আত্মসাৎ ও কালোবাজারে বিক্রি, সরকারি ত্রাণের চাল ভুয়া মাস্টাররোলে বিতরণ দেখিয়ে আত্মসাৎ, সরকারি ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম, সরকার কর্তৃক বরাদ্দকৃত চাল নির্ধারিত পরিমাণে প্রদান না করা ও বিধিবহির্ভূতভাবে অন্যদের মাঝে বিতরণ ইত্যাদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।

আজ  সাময়িক বরখাস্তকৃত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানরা হলেন বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার কেদারপুর ইউপি’র মো. নূরে আলম বেপারী, ভোলা জেলার সদর উপজেলার রাজাপুর ইউপি'র মো. মিজানুর রহমান খান, পটুয়াখালী জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ইউপি'র মো. মনির রহমান মৃধা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রহনপুর ইউপি'র শাহ আল শফি আনসারী, রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার যশাই ইউপি'র মো. সিদ্দিকুর রহমান মন্ডল, নড়াইল জেলার কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউপি'র জারজিদ মোল্লা এবং কালিয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন চৌধুরী।

সাময়িক বরখাস্তকৃত ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা হলো নেত্রকোনা জেলার দুর্গাপুর উপজেলার গাঁওকান্দিয়া ইউপি'র ৮ নং ওয়ার্ডের মো. রফিকুল ইসলাম, পটুয়াখালী জেলার গলাচিপা উপজেলার গলাচিপা ইউপি'র ২ নং ওয়ার্ডের সদস্য মহিউদ্দিন সোহেল এবং একই উপজেলার কেশবপুর ইউপি'র সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. লিপি বেগম।

উল্লেখিত, চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন ২০০৯ এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী তাদের স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

একইসময় পৃথক পৃথক কারণ দর্শানো নোটিশে কেন তাদেরকে চূড়ান্তভাবে তাদের পদ থেকে অপসারণ করা হবে না তার জবাব পত্র প্রাপ্তির ১০ কার্যদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগে প্রেরণের জন্য অনুরোধ করা  হয়।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো তাজুল ইসলাম ইতিপূর্বে ত্রাণ বিতরণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান সমূহের জনপ্রতিনিধি ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেয়ার ঘোষণা দেন এবং এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় থেকে অফিস আদেশ জারি করা হয়।