নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-০৩-২৬ , ০৯:০৫ পিএম
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকবেন। আর বেগম জিয়ার চিকিৎসার সার্বিক তত্ত্বাবধান করছেন তার ছেলে তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান। আর চিকিৎসা করছে দলের গঠিত ৬ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড। বিএনপির একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
গতকাল দীর্ঘ ২৫ মাস পর মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন খালেদা জিয়া। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি বিবেচনায় গুলশানের বাসভবন ফিরোজায় হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন তিনি। এজন্য তাকে বাসাতেই চিকিৎসা দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তার বোন সেলিমা ইসলাম।
সেলিমা ইসলাম বলেন, উনা’র (খালেদা জিয়া) তো শ্বাসকষ্ট হচ্ছে, কথা বলতে পারছেন না, উঠে দাঁড়াতে পারছেন না। হাঁটতে পারছেন না, বেশিক্ষণ বসে থাকতেও পারছেন না, গায়ে হাত দিলেই ব্যথা লাগছে তার। খাওয়া দাওয়াও করতে পারছেন না, খেলেই বমি হয়ে যাচ্ছে। মুভ করানোর মতো অবস্থা নাই। আর তারও মতামত বাসাতেই থাকবেন।
খালেদা জিয়ার জন্য দলের গঠিত মেডিকেল বোর্ড প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, অন্য যেসব চিকিৎসকরা আগে তাকে দেখতেন, তাদেরকে দিয়েই এই বোর্ড করা হয়েছে।
এদিকে খালেদা জিয়া আগামী ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকবেন বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে ফিরোজায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করে সাংবাদিকদের একথা জানান তিনি।
জাহিদ হোসেন বলেন, আপনারা গতকাল দেখেছেন যে, উনি (খালেদা জিয়া) দারুনভাবে অসুস্থ। কিন্তু গতকাল মুক্তি পাওয়ার পর (নিজের পরিবেশে আসার পর) উনি মানসিকভাবে যে অস্থিরতা ছিল, তা থেকে পরিত্রাণ পেয়েছেন। তবে উনা’র শারীরিক বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। কিন্তু যেহুত উনি ১৪দিনের হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন, সেহুত উনা’র শারীরিক অন্যান্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা হোম কোয়ারেন্টিনের পরে করা হবে।
এর আগে আজ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়ার দেখা করতে তার বাসভবনে যান তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. মামুন এবং ১২টা ২৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপারসনের ছোট ভাইয়ের স্ত্রী কানিজ ফাতিমা প্রবেশ করেন। পরে দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেনসহ আরো তিন জন খালেদা জিয়ার ফিরোজায় প্রবেশ করে।
খালেদা জিয়ার সঙ্গে কথা হওয়ার পর সাংবাদিকদের জাহিদ বলেন, ম্যাডাম অসুস্থ। ম্যাডাম হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। আর উনাকে তার চিকিৎসকরা যেভাবে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন, উনি সেভাবেই আছেন।
তিনি জানান, উনাকে সার্বক্ষনিক ঔষধ দেয়ার জন্য এখানে নার্সরা আছেন। যারা কখনো বাইরে যান না। এই বাইরে উনি অন্য কারো সঙ্গে দেখা করছেন না। আর গতকাল উনা’র চিকিৎসকরা যেভাবে বলেছেন, উনি সেভাবেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ১৭ বছরের কারাদণ্ড নিয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে কারাগারে বন্দি হন খালেদা জিয়া। প্রথমে পুরান ঢাকার পরিত্যক্ত কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হলেও গত বছর ১ এপ্রিল থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। অর্থাৎ প্রায় ১১ মাস ধরে তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৫ মার্চ তিনি মুক্তি পেয়েছেন।
মুক্তি পাওয়ার পর বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কের ‘ফিরোজা’ নিজ বাড়িতে উঠেন। বর্তমানে তিনি ফিরোজাতেই রয়েছেন।
অন্যদিকে ২০০৭ সালে দেশে জরুরি অবস্থা জারির পর দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরের বছর প্যারোলে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন। আর তারেক রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রী জোবায়দা রহমানও বর্তমানে লন্ডনে আছেন।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.