রোমান শেখ
আপডেট: ২০১৯-০৬-০২ , ০৮:৩৯ পিএম
ছবি: ইন্টারনেট
হাজী সাইফুল করিম। বাংলাদেশে ইয়াবা প্রবেশ ও বিস্তার ইতিহাসে এ নামটি যেমন ভয়ঙ্কর তেমন ব্যাপক আলোচিত। এতো আলোচিত হওয়ার পেছনে হাজী সাহেবের বেশ শ্রমও দিতে হয়েছে বটে! শ্রম দিয়ে দিয়ে একসময় সিআইপিও হয়েছেন! বিভিন্ন সূত্র মতে, ১৯৯৭ সালের দিকে বাংলাদেশে প্রথম ইয়াবার চালান ঢুকায় এই সাইফুল করিম। যারা সাইফুল করিমকে জানেন তাদের অনেকেই হয়তো বলবেন, সাইফুল রাতারাতি আঙুল ফুঁলে কলা গাছ হয়েছেন। কিন্তু তাতে আমার ‘মতের’ বিরোধ আছে! আসেন আপনাদের ‘অনেকের’ সাথে ‘মতের’ বিরোধটা আগে মিটিয়ে নেই। আমার মতে কলা গাছ নয় আঙুল ফুঁলে হাতি হয়েছেন। ব্যাস-মিটিয়ে নিলাম নিজের বিরোধ নিজেই।
এবার কথার কথায় আসি! ‘ইয়াবা ডন বনাম পুলিশ ডন’এটা লিখে মনে খায়েস মেটালাম! কেনো মেটালাম জানেন?
উত্তরে, এবার কথার ভেতরের কথায় আসি! ১৯৯৭ সাল থেকে পুরো দেশটাকে ইয়াবার সাথে পরিচিত করার পেছনে সাইফুলের অবদান অনস্বীকার্য। বিদেশেও যেসব সন্ত্রাসীরা টাকার পাহাড় বানিয়েছে, তাদের অনেকের কাছে ইয়াবার বড় বড় চালান বিক্রি এবং সহিহ সালামতে পৌঁছে দেয়ার গুরু দায়িত্বটাও ছিলো সাইফুল করিমের। ফলে, ইয়াবার প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সাইফুলের ইয়াবা নিয়ে প্রচূর জ্ঞান অর্জন করতে হয়েছে; গবেষণা করতে হয়ে ব্যাপক। আর খাটা-খাটনি? সেওতো কম নয়!
১৯৯৭ পরবর্তী প্রায় ২২ বছরে সাইফুল প্রতিষ্ঠিত একজন ইয়াবা ডন। কতিপয় নেতাদের সাথে লবিং-লিয়াজো করে ইয়াবার আঁড়ালে চালিয়েছে আমদানী-রপ্তানী ব্যবসা। তালিকায় জায়গা করে নিলো সিআইপি হিসেবে। কিন্তু পুলিশের এক ডন তার সিআইপি’র মর্যদা মোটেও দিলো না!
প্রধানমন্ত্রী দপ্তর, স্বরাষ্ট্র দপ্তরসহ দেশের সকল গোয়েন্দা সংস্থায় ইয়াবা কারবারীদের মূল হোতা হিসেবে নাম উঠলো হাজী সাইফুল করিমের। ২০১৮ সালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১১৫১ জন মাদক কারবারির তালিকার এক নম্বরে ছিল এই সাইফুল। জনশ্রুতি আছে, এই নামটি বারবার তালিকায় উঠলেও কতিপয় দলীয় নেতা ও প্রশাসনের মাধ্যেমে বহাল তবীয়তে চালিয়ে যাচ্ছিলো তার ইয়াবা ব্যবসা। কেমন যেনো এক আধ্যাত্বিক পরাশক্তি সাইফুলে ইয়াবা ব্যবসার পেছনে শক্তি যোগাতো। অসমর্থীত এক সূত্র মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর কয়েকটি সংস্থা বেশ কয়েকবার হিসাবে চুকিয়ে দিতে উদ্যোগ নিয়েও দলীয় সেই কতিপয় নেতা আর সাইফুলের ম্যাকানিজমের কারণে সফল হতে পারেনি!
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, এই ইয়াবা বন্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইনে সংশোধন আনেন। তবুও যেনো কিছুতে কিছু হচ্ছে না! একাধিকবার প্রধানমন্ত্রী নিজেও ইয়াবা ব্যবসা বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। বেচারা সাইফুল করিম তখন থেকে পালিয়ে পালিয়ে চেষ্টা করেছিলো সব ঠিক রাখার। সরকার দেশ জুড়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়েছে। সরকারের ওই ডাকে প্রথম ধাপে অনেকে সাড়া দিলেও সাইফুল চলছিলো তার নিজ গতী আর ম্যাকানিজমে। কিন্তু মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হুঁশিয়ারী যেনো তাকে ভেতরে ভেতরে গ্রাস করছে। দুবাই থেকে সাইফুল বারবার চেষ্টা করেছে হিসাব ঠিক রাখার। কথা হয় টেকনাফের পুলিশসহ...!
সূত্র মতে গত শনিবার (২৫ মে) রাতে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে পৌঁছে ইয়াবা ডন হাজি সাইফুল করিম। এসময় ইয়াবা কারবারিদের আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ায় সঙ্গে যুক্ত আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা তাকে হেফাজতে নেয়। রবিবার (২৬ মে) সকালের দিকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার জেলা পুলিশের কাছে নেওয়া হয় তাকে। পুলিশ লাইনে রাখা হয় তাকে। ঈদের পর একটি আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অন্যান্য ইয়াবা কারবারিদের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করবে বলে জানা যায়।
অবশ্য, এ ব্যাপারে তখন কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইকবাল হোসেন কিছু জানেন না বলে জানিয়েছিলেন কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমকে। যাইহোক, সে হয়তো জানতো না! কিন্তু অপর একজন পুলিশের ডন ঠিকই জানতো! ওই ডনের হেফাজতে সাইফুল ছিলো চার দিন! ৩০ মে রাতে ইয়াবা ডন সাইফুলের দেয়া তথ্য মতে পুলিশ নামে অভিযানে। টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাস ছিলেন নেতৃত্বের সামনে। উদ্দেশ্য ইয়াবা এবং অস্ত্র উদ্ধার।
রাতে অভিযানে গিয়ে সাইফুলের সহযোগীরা পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। পুলিশও আত্মরক্ষার্থে পাল্টা গুলি চালায়। উদ্ধার করা হয় এক লাখ ইয়াবা, নয়টি এলজি, ৪২ রাউন্ড গুলি ও ৩৩টি গুলির খোসা। তবে, সমসাময়িক সময়ে ইয়াবা, অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারে এটা তেমন বড় বা স্বস্তিদায়ক কোনও খবর ছিলো না বলা যায়!
কিন্তু জনশ্রুতি আছে, দেশের মধ্যে প্রথম ইয়াবার প্রবেশ ঘটানো পরবর্তী বারবার সরকারের তালিকায় শীর্ষ ইয়াবা ব্যবসায়ী হিসেবে নাম ওঠাসহ বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে মরন নেশা ইয়াবা ছড়ানো ও চেনানো সম্ভব হয়েছে একমাত্র সাইফুল করিমের কারণে। যে কারণে এসব গল্প যারা জানতেন এবং ইয়াবা ও ইয়াবা কারবারীদের নির্মূলে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন বা ঘৃণা করেছেন তারা সবাই চেয়েছে সাইফুল করিমকে শাস্তির আওয়ায় আনা হোক। সাইফুলকে...দেয়া হোক!
৩০ মে রাতটা স্বস্তির জন্য স্মরণীয় হোক। সেদিন রাতে ওই বন্দকযুদ্ধে নিহত হয় সাইফুল করিম। এমন কারও নিহতের খবরে শতভাগ অভিনন্দন জানানো দরকার পুলিশের ওই ডন প্রদীপ কুমার দাসকে। স্যালুট জানাচ্ছি। স্যালুট জানানো দরকার। এমন একজন পুলিশের ডন, এমন অভিযানের জন্য টেকনাফ থানায় আরও বেশ আগে প্রয়োজন ছিলো বটে।
তবে, যাই হয়েছে-যেভাবে হয়েছে, পুলিশের এই ডনের কাছে প্রত্যাশা থাকবে সাধারণ জনতা যা চায়; তাই করা। যত দ্রুত সম্ভব পুরো টেকনাফকে নিংড়িয়ে শর্ট-আউট করা। আমি বিশ্বাস করি, আপনার মতো এই ডনের কাছে সাধারণের প্রত্যাশা ও শ্রদ্ধাবোধ ইতিমধ্যে বহুগুন বেড়েছে। এই ইয়াবা কারবারীদের প্রতিহত বলেন আর নির্মূল বলেন, অচিরেই শেষ করা উচিত। ইয়াবা নামক এই গেইমটি যুব সমাজ থেকে শুরু করে বিভিন্ন পেশা ও বয়সের জীবনকে গ্রাস করছে।
সর্বসাধারণের এই প্রত্যাশাকে টেকনাফ থানাসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনী মূল্যায়ন করবে বলে প্রত্যাশা রইলো।
রোমান শেখ
সম্পাদক
সিটিজেন নিউজ.কম.বিডি
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.