রোমান শেখ
আপডেট: ২০১৯-০৮-১১ , ০২:৩৪ পিএম
ছবি: ইন্টারনেট
সারাদেশ ঈদের আনন্দে ভাসছে, নিজের সন্তান-পরিবার, বাবা-মায়ের সাথে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিতে গোটা দেশের মানুষ ছুটছে নাড়ীর টানে,বাড়ির পানে। ঈদের ছুটিতে প্রিয় মানুষকে কাছে পেয়ে আনন্দে মাতোয়ারা হবে সবাই। এমন আনন্দ এখন ঘরে ঘরে হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষবাহিনীর নেই কোনও ফুরসত। অন্যেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মেলে না ছুটি। উৎসব আনন্দে শামিল হতে পারেন না তারা। পেশাগত দায়িত্ব পালনেই তৎপর থাকতে হয়।
গোটা দেশের মানুষদের ঈদের আনন্দ দিতে গিয়ে তাদের নিরাপত্তায় কাজ করছে পুলিশ, র্যাব, বিজিবিসহ (সীমান্তে) আরও অনেক বাহিনী ও সংস্থা। তবে, এসব বাহিনী ও সংস্থার মধ্যে পুলিশ বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা বেশি। দেশের মোট পুলিশ সদস্যদের প্রায় ৮০ শতাংশ পুলিশের ঈদ কাটছে জননিরাপত্তায়।
যদিও নানান সমালোচনার মধ্যে দিয়ে চাকরির বয়স কাটাতে হয়। তবুও পুলিশের এই ত্যাগের সেবাকে অস্বীকার করার উপায় নেই। বাহিনীটি ২৪ ঘণ্টার সতর্ক চোখ আর চেষ্টাতেই স্বাভাবিক আর নিরাপদ জীবন সম্ভব। আর এ কারণে সাধারণের ঈদ পার্বণ আসে না পুলিশের জীবনে।
অন্য সব পেশার মানুষের মতো পুলিশ সদস্যদেরও নানা সময় বিচ্যুতি থাকে। এ জন্য গালমন্দও কম না। ফলে, জনগণের প্রতি কখনও কখনও তাদের ভালোবাসা আর ত্যাগটা সেভাবে স্বীকৃতি পায় না; এমন অনেক দুঃখ নিয়েই কাজ করতে হয় এই বাহিনীকে।
বাবা বাড়ি আসবেন। ভাই আসবেন, নয়তো কোনও মা পুলিশ বাড়ি আসবেন। নতুন জামা-কাপড় আনবেন নয়তো ছোট্ট শিশুটির জন্য একটি পুতুল। বাড়িতে বৃদ্ধ মা-বাবা থাকলে তারাতো সন্তানের কাছে কিছুই চাইবেন না। যার যতটুকু সাধ-সামর্থ্য আছে, কিছুটা হলেও হলো না হলে নেই! কিন্তু স্ত্রী-সন্তান, মা-বাবাকে নিয়ে ঈদের আনন্দ কিনতে তো সামর্থ্য লাগে না। তবু এ চাকরি যেনো আইনে বাঁধা! চাইলেই পারে না।
অন্য দশটি মানুষের মতোই তাদের আবেগ আছে, আছে অনুভূতি আর ভালোবাসাও। পরিবার-সন্তান ছেড়ে সেই ভালোবাসা ভাগাভাগি করে নিতে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর আগে দাঁড়িয়ে আছে অস্ত্র হাতে। পাঞ্জাবি, টুপি পড়ে সবাই নামজ আদায় করছে আর পুলিশ ইউনফর্ম পড়ে দাঁড়িয়ে আছে জননিরাপত্তায়। অনেকটা কর্মই ধর্ম, মেনে নেয়ার মতো।
যেহেতু পুলিশ সদস্যরা অস্ত্রসহ ডিউটি করবেন সেহেতেু নামাজ পড়াটা অধিকাংশের পক্ষে সম্ভব নয়। নিরাপত্তাটাও ইবাদতের শামিল। বলেন, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার মাহাবুব রহমান।
একজন পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘পুলিশের চাকরিটা অনেকটা ‘থ্যাংকলেস জবের’ মতো। এটা মেনেই আমরা কাজ করি। জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা না থাকলে এই পেশায় কাজ করা সম্ভব না। চাকরি জীবনের শুরুতে পারিবারিক পরিবেশের জন্য হয়ত মন খারাপ হয়, কিন্তু পরে ধীরে ধীরে সয়ে যায় সব।’
ঘরমুখো মানুষের যাতায়াতে, রাস্তাঘাটে, ঈদগাহে, ঘরবাড়ি, ব্যাংক-বীমা আর বিনোদন কেন্দ্রে নিরাপত্তা দিতে বরাবরের মতো এবারও ঈদ-উল-আযহায় ব্যস্ত রয়েছেন পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা। সবার ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করতে নিজেদের আনন্দ বিসর্জন দিচ্ছেন তারা। ছুটি না পাওয়ায় ঈদ করতে পারেননি প্রায় ৮০ শতাংশ পুলিশ সদস্য।
দায়িত্ব পালনে নিয়োজিত পুলিশ সদস্যদের অভিযোগ অনুযোগ প্রসঙ্গে কমিশনার মাহবুব রহমান বলেন, পুলিশের কষ্টগুলো বাইরে থেকে কেউ সহজেই বুঝতে চায় না। সবাই চায় ঈদের মুহূর্তটা পরিবারের সাথে কাটাতে। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিত করণে তারা সেটা পাচ্ছে না। তাই তাদের অভিযোগ অনুযোগ থাকতে পারে। আমরা আমাদের পুলিশ সদস্যদের সবসময় কাউন্সিলিং করি। তাদের মোটিভেট করি। তারাও অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের কষ্টকে ভুলে দায়িত্ব পালনে নিজেদের মনোনিবেশ করে।
দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকা এসব পুলিশ সদস্যরা বলছেন, পরিবার-পরিজনের জন্য সবারই মন কাঁদে। আমাদেরও কাঁদে। তবে এই ভেবে ভালো লাগে যে, বৃহত্তর মানব গোষ্ঠী ও দেশের জন্য কাজ করতে গিয়ে আনন্দ ত্যাগ করতে পেরেছি।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.