জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দেদারসে চলছে অবৈধ নির্মাণকাজ

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-০৯-১৪ , ০১:৪৮ পিএম

জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা তোয়াক্কা না করে দেদারসে চলছে অবৈধ নির্মাণকাজ ছবি: নাগরিক পত্রিকা

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রৌফাবাদে সরকারি মোহাজের সম্পত্তির ওপর রাস্তার জায়গা দখল করে দ্বিতল ভবন নির্মাণ চলছেই। যেখানে বহুতল ভবন নির্মাণের নেই কোনও আইন সেখানে আবার সিটি করপোরেশনের রাস্তার ওপর তৈরি করছে ভবন।

খোদ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সহকারী ভূমি কমিশনারকে (চান্দগাঁও) ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন। এসিল্যান্ড সশরীরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পাঠিয়ে কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। এরপর আজ ১৪ সেপ্টেম্বর ফোন করে আবারও কাজ বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন। কিন্তু প্রবাদে এমন যে- "কাজী নড়ে তো পাজি নড়ে না।"

এদিকে রাস্তার ওপর ভবন নির্মাণের বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের বিষয়টি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

চসিকের চিফ এস্টেট অফিসার নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, আমাদের সিটি করপোরেশনের সার্ভেয়ার ঘটনাস্থলে গিয়েছে। তারা রাস্তা মেপে এবং ছবি তুলে নিয়ে আসছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

নাগরিক পত্রিকার সাথে কথা হয় চসিকের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (উপ সচিব) উম্মে কুলসুমের সাথে। তিনি বলেন, অভিযোগটি পেয়েছি। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সহকারী ভূমি কমিশনার (এসিল্যান্ড) চান্দগাঁও ছুটিতে থাকায় কথা হয় কথা হয় ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা নুরুল আহসানের সাথে। তিনি বলেন, যিনি ভবন নির্মান কাজ করছেন তাকে আজকেও ফোন করে কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছে। কিন্তু কেন তিনি আদেশ মানছেন না- এ বিষয়ে এসিল্যান্ডের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।

আইনে বলা হয়েছে, মোহাজের সম্পত্তি কেবল সংস্কার করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনের অনুমোতি নিতে হবে। এর বাইরে বয়-বিক্রি, হস্তান্তর, বহুতল ভবন নির্মাণ করা যাবে না-এমনটা উল্লেখ থাকলেও কোনও মতেই যেন এই চক্রটিকে থামাতে পারছে না জেলা প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

নির্মাণাধীন ভবনের মালিক মো. জাফরকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ না করায় তার কোনও বক্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ওই ভবনের প্রধান গেইটে তালা মেরে ভবনের কাজ চালাচ্ছে। প্রশাসনের লোক আসলে কাজ বন্ধ করে দেয়। আবার তারা চলে গেলে কাজ শুরু করে বলেও জানান তিনি।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন আরও পড়ুন:

রৌফাবাদে রাস্তার ওপরেই ভবন নির্মাণ: বললেন ডিআরআরও’র অনুমোতি আছে