থানা পুড়িয়ে এসআইকে জ্বালিয়েছি

ওসিকে হুমকি দেওয়া সেই মাহদী আটক, থানা ঘেরাও

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৬-০১-০৪ , ০৭:৩৯ এএম

ওসিকে হুমকি দেওয়া সেই মাহদী আটক, থানা ঘেরাও ছবি: নাগরিক পত্রিকা

হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসিকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক নেতাকে থানা থেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির সদস্যসচিব মাহদী হাসানের বিরুদ্ধে। শনিবার তাঁকে পুলিশ আটক করে। তবে তাঁর আটকের প্রতিবাদে থানা ঘেরাও করে রাখেন মাহদীর অনুসারীরা।

জানা গেছে, মাহদীকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সদর থানা ঘেরাও করে গতকাল সন্ধ্যার পর আন্দোলনে নামেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলা কমিটির নেতাকর্মীরা।

সন্ধ্যার পর মাহদীর নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। পরে তাঁকে সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। এর পর থেকে মাহদীর মুক্তির দাবিতে আন্দোলনে নামেন মাহদীর অনুসারীরা। হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন জানিয়েছেন, হবিগঞ্জ পুলিশ মাহদী হাসানকে আটক করেছে। আটকের পর কোন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে তার বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

এর আগে গত শুক্রবার বিকেলে শায়েস্তাগঞ্জ থানা থেকে ছাত্রলীগ নেতাকে ছাড়িয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটে। পরে রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মাহদীর বক্তব্যের একটি ভিডিও ভাইরাল হলে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হয়। ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, থানার ভেতর ওসির সঙ্গে বাগবিতণ্ডার এক পর্যায়ে মাহদী হাসান নিজেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা দাবি করে বিভিন্ন সহিংস ঘটনার কথা উল্লেখ করে হুমকিমূলক বক্তব্য দিচ্ছেন।

তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা আন্দোলন করে গভর্নমেন্ট রিফর্ম করেছি। সেই জায়গায় প্রশাসন আমাদের লোক। আপনি আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে এসেছেন। আমাদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডা করছেন। এখন বলছেন, আন্দোলনকারী হয়েছে তো কী হয়েছে? আমাদের এখানে ১৭ জন শহীদ হয়েছে। আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আপনি এসেছেন ঠিক আছে, কিন্তু কোন সাহসে এই কথা বললেন জানতে চাই।’

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার ভোরে শায়েস্তাগঞ্জ থানার পুলিশ ছাত্রলীগকর্মী এনামুল হাসান নয়নকে আটক করে। পরে মাহদী হাসানের নেতৃত্বে ছাত্রদের একটি দল থানায় গিয়ে নয়নকে জুলাই যোদ্ধা দাবি করে তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য পুলিশকে চাপ দেয়। এতে অস্বীকৃতি জানালে ওসি আবুল কালামের সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় লিপ্ত হন মাহদী। পরে চাপের মুখে তাঁকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ।

অভিযোগের বিষয়ে মাহদী হাসান বলেন, “আমি রাগান্বিত হয়ে কথা বলার সময় ‘স্লিপ অব টাং’ হয়ে গেছে বক্তব্যটি। পরে বুঝতে পেরেছি।”

জেলার পুলিশ সুপার ইয়াছমিন খাতুন বলেন, ‘আমি ভিডিওটি দেখেছি এবং তাঁদের সঙ্গে কথাবার্তাও বলেছি। এ ছাড়া শায়েস্তাগঞ্জ থানার ওসির সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, নয়ন নামের একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছিল। পরে ছাত্র আন্দোলনের নেতারা জানান, নয়ন ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে ছিল, এসব ছবি ও ভিডিও প্রমাণাদি তাঁরা এনেছেন।’

আটক নয়নের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সুপার বলেন, ‘সে একসময় মনে হয় ছাত্রলীগ নেতা ছিল, তবে এখন নেই।’

এদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জানান, গতকাল রাতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অধ্যাদেশ জারির দাবি জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।