পদে থেকেও নির্বাচন করা যায়: অ্যাটর্নি জেনারেল

 আদালত প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৫-১১-০৬ , ০৫:২০ পিএম

পদে থেকেও নির্বাচন করা যায়: অ্যাটর্নি জেনারেল ছবি: নাগরিক পত্রিকা

অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের আইনজীবী, সরকারি কর্মচারীর নন। তাই এ পদে থেকে নির্বাচন করতে আইনি কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান। অ্যাটর্নি জেনারেলের পদ ছেড়ে নির্বাচন করবেন, এমন বক্তব্যের এক দিনের মাথায় তিনি এই ব্যাখ্যা দিলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর আপিল শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) নিজ কার্যালয়ে ব্রিফ করছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

ব্রিফিংয়ের শেষ পর্যায়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘নির্বাচন করবেন বলে একটা প্রত্যাশার কথা বলেছেন, সেটা নিয়ে বিভিন্ন কথা হচ্ছে। আসলে আপনি কী বলতে চেয়েছেন, আইনের ব্যত্যয়টা কোথায়?’

জবাবে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলেন, ‘কোনো সমস্যা নেই। অ্যাটর্নি জেনারেল সরকারের কর্মচারী নন। অ্যাটর্নি জেনারেল সংবিধানের ৬৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রের আইনজীবী।

এটা সরকারি কোনো কর্মচারীর পদ না। অ্যাটর্নি জেনারেল ইজ ফ্রি টু গো ইলেকশন (অ্যাটর্নি জেনারেল নির্বাচনে করার ক্ষেত্রে স্বাধীন। ইভেন (এমনকি) ক্ষমতায় (পদে) থেকেও করতে পারেন। এখানে কোনো অ্যাম্বিগিউটির (অস্পষ্টতার) কিছু নেই।

এটা সেটেল ল (প্রতিষ্ঠিত আইন)।’

এই সাংবাদিক আবার প্রশ্ন করেন, ‘যেহেতু আপনি অ্যাটর্নি জেনারেলের পদে আছেন। নির্বাচন করবেন বিএনপি থেকে। সে ক্ষেত্রে আপনার….’ প্রশ্ন শেষ হওয়ার আগেই অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘যতক্ষণ অ্যাটর্নি জেনারেল আছি, আমি অ্যাটর্নি জেনারেল। রাষ্ট্রের আইনজীবী এবং আমার দায়িত্ব পালনের সময় আমি রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগ করেছি।

এর বাইরে না, এর ওপরে-নিচে কোনো জায়গায় না, আপনারা দেখেছেন।’

আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘অনেকের ধারণা অ্যাটর্নি জেনারেল নিরপেক্ষ থাকবেন, আসলেই কি তাই, তিনি তো সরকারের পক্ষ?’ জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘অ্যাটর্নি জেনারেল রাষ্ট্রের পক্ষে। ইভেন অ্যাটর্নি জেনারেল যদি মনে করে সরকারের কোনো অ্যাকশন (কাজ) ডিফেন্ডেবল (সমর্থনযোগ্য) না, রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকর, আমি সেই সরকারের বিরুদ্ধেও দাঁড়াতে পারি। দ্যাট ইজ ল (এটিই আইন)।’

তখন এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করেন, ‘তাহলে আপনি বলছেন, পদে থেকেও নির্বাচন করা যায়?’ অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আইন তা-ই বলে। সংবিধানে তো কোনো বার (বাধা) নেই।’

গত বুধবার (৫ নভেম্বর) তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর আপিল শুনানি নিয়ে ব্রিফিংয়ের এক পর্যায়ে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে নির্বাচন করবেন কি না?’ জবাবে আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি ওইখানের নমিনেশন চেয়েছি। আমি ভোট করব। আমি অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে আছি এখনো, অ্যাটর্নি জেনারেল পদ ছেড়ে গিয়ে আমি ভোট করব। যখন সময় আসবে তখন করব।’

তখন এক সাংবাদিক জানতে চান, ‘বিএনপি থেকে নমিনেশন পাবেন কি না?’ জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আমি আশাবাদী।’ 

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত বছর ৮ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পান সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক এবং দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ছিলেন।

গত ৩ নভেম্বর বিকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে ২৩৭ আসনে মনোনয়ন দেওয়া দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই ঘোষণায় ঝিনাইদহ-১ আসনে মনোনীত প্রার্থীর নাম ছিল না।