তোফাজ্জল হত্যা: ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার্জশিট

 নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২৫-০১-১৭ , ০৮:৪৭ এএম

তোফাজ্জল হত্যা: ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চার্জশিট ছবি: নাগরিক পত্রিকা

মানসিক ভারসাম্যহীন যুবক তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ৬ জন কারাগারে এবং ১৫ জন পলাতক রয়েছেন। চার্জশিটে অভিযুক্তের কোনও রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

শাহবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আসাদুজ্জামান গত ১ জানুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। আজ বৃহস্পতিবার তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। 

অভিযোগপত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে ৩৫ বছর বয়সী তোফাজ্জল হোসেনকে নির্মমভাবে মারধর করার আগে, হামলাকারীরা চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারের কাছ থেকে ৩৫,০০০ টাকা দাবি করেছিল। তোফাজ্জলের চাচা আব্দুর রব মিয়া টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ওই ব্যক্তিকে ক্রিকেটের স্টাম্প এবং বাঁশের লাঠি দিয়ে তার কাঁধ, পিঠ, পা এবং উরুতে বেধড়ক মারধর করে।গুরুতর আঘাত এবং রক্তক্ষরণের কারণে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়। গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রে এই তথ্যগুলি বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। হলের প্রাক্তন প্রভোস্ট এবং ১৪ জন ছাত্রের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় মামলা দায়ের করা হয়েছিল, কিন্তু মামলা স্থগিত ছিল।

ছয় আসামি হলেন, জালাল মিয়া, আহসান উল্লাহ ওরফে বিপুল শেখ, আল হোসেন সাজ্জাদ, মোত্তাকিন সাকিন সাহ, মোঃ সুমন মিয়া,  এবং ওয়াজিবুল আলম। তারা কারাগারে আছেন এবং আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। 

বাকি ১৫ আসামিদের মধ্যে ফিরোজ কবির, আবদুস সামাদ, সাকিব রায়হান, ইয়াসিন আলী গাইন, ইয়ামুজ্জামান ইয়াম,  ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান,  সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন,  এবং আব্দুল্লাহিল কাফি পলাতক রয়েছে।

এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ইন্সপেক্টর আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমরা তদন্ত থেকে প্রাপ্ত সমস্ত তথ্য চার্জশিটে উল্লেখ করেছি। চার্জশিটটি এখন ২ ফেব্রুয়ারি আদালতে শুনানির জন্য অপেক্ষা করছে। চার্জশিট অনুসারে, ঘটনাটি ১৮ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টার দিকে ফজলুল হক মুসলিম হল মাঠে একটি ক্রিকেট ম্যাচ দিয়ে শুরু হয়েছিল, যেখানে ছয়টি মোবাইল ফোন চুরি হয়েছিল। পরে সন্ধ্যায়, একটি ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন, তোফাজ্জল সন্ধ্যা ৭:৪৫ টার দিকে মাঠে আসেন। পরবর্তীতে তাকে চোর সন্দেহ করে, ছাত্ররা তাকে ঘুষি ও লাথি মারতে শুরু করে। এরপর তারা তাকে হলের মূল ভবনের অতিথি কক্ষে নিয়ে যায়, যেমন চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে।’