মিরপুর থানা বিএনপিতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আলিম

 নিজস্ব প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২৪-১২-১১ , ০১:৩৯ পিএম

মিরপুর থানা বিএনপিতে যোগ দিলেন আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল আলিম ছবি: নাগরিক পত্রিকা

দেশে ক্ষমতার পালাবদলের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে দলবদলের ঢেউ দেখা যাচ্ছে। একসময় ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক নেতা-কর্মী নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অবস্থান রক্ষার প্রয়োজনে বিএনপিতে যোগ দিচ্ছেন বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।

এরই ধারাবাহিকতায় মিরপুর থানা আওয়ামী লীগের নেতা আব্দুল আলিম চৌধুরী গত মঙ্গলবার মিরপুর থানা বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। একই দিন তাকে বিএনপির সদস্যপদ দেওয়া হয়।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থেকে আব্দুল আলিম চৌধুরী মিরপুর এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা ও জমি দখলসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পড়েন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ শাসনের পতনের পর তিনি কয়েক মাস আত্মগোপনে ছিলেন বলেও স্থানীয়ভাবে জানা গেছে।

গতকাল বিকেলে মিরপুরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে মিরপুর থানা বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত এক কর্মীসভায় তাকে ফুলের মালা পরিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বরণ করেন মিরপুর থানা বিএনপির আহ্বায়ক হাজী আব্দুল মতিন। এ সময় তিনি বলেন, “স্থানীয়ভাবে তিনি অনেক পরিচিত। দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে মিরপুর এলাকায় তার একটি বড় ভোট ব্যাংক রয়েছে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের তাকে প্রয়োজন।" অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিরপুর থানা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন দুলু, আবুল বাশার ভূইয়া আহমদ এবং মিরপুর থানা যুবদলের আহ্বায়ক সাকিল মোল্লাসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বিএনপিতে যোগ দেওয়ার পর আব্দুল আলিম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি সবসময় জনগণের রাজনীতি করেছি। বিএনপির আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে আজ থেকে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করলাম।"

তবে স্থানীয় বিএনপির একাংশ তার অতীত কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, একজন সন্ত্রাসী, মাদককারবারি ও চাঁদাবাজকে দলে জায়গা দিলে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতার পালাবদলের পর দলবদল বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন নয়। তবে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের রাজনীতিতে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক রাজনীতির জন্য নেতিবাচক বার্তা তৈরি করতে পারে বলেও তারা মনে করেন।