নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২২-১০-২৭ , ০৬:৪৫ এএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
বর্তমান পরিস্থিতিতে পৃথিবীর অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশ ভালো আছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি জানিয়েছেন, একটি দেশে তিন মাসের রিজার্ভ থাকলেই যথেষ্ট। সেখানে বাংলাদেশের পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ রয়েছে।
বুধবার সেগুন বাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত ‘ডিআরইউ সাহিত্য পুরস্কার ও সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে পৃথিবীতে গভীর সংকট দেখা দিয়েছে। কম-বেশি সব দেশেই। আমাদের দেশে দেখতে পাই টকশোতে যার কথা বলেন তারা বিশ্ব প্রেক্ষাপটটা উত্থাপন করেন না। সাংবাদিকরা টকশোতে যান, লেখেন। আপনাদের বিশ্ব প্রেক্ষাপটটা জনগণের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে এক মিনিটের জন্য বিদ্যুৎ যায়নি। সেই জার্মানির নাগরিকদের বলে দেওয়া হয়েছে গরম পানির জন্য বিদ্যুৎ দেওয়া হবে না। আমেরিকায় বেশ কয়েকমাস আগে এসএমএস করে সবাইকে বলে দিয়েছে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হতে। অস্ট্রেলিয়ায় বিদ্যুতের রেশনিং করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিএনপি যখন ২০০৬ সালে ক্ষমতা ছাড়ে তখন রিজার্ভ ছিল সাড়ে ৩ মিলিয়নেরও কম। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ৬.১ মিলিয়ন ডলার রেখে গিয়েছিল। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী ৪৪ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে গেছেন। করোনার কারণে আমদানি বন্ধ ছিল। মেশিনারি আমদানি বন্ধ ছিল। করোনা কমার পর আমদানি বেড়েছে। ফলে রিজার্ভ কিছুটা কমেছে। কোনো একটি দেশে তিন মাসের রিজার্ভ থাকলেই যথেষ্ট। অথচ আমাদের পাঁচ মাসের আমদানি ব্যয় মেটানোর মতো রিজার্ভ রয়েছে।
মন্ত্রী আরো বলেন, পৃথিবীর প্রত্যেকটা দেশ সঞ্চয় ভেঙে অর্থাৎ রিজার্ভ ভেঙে খাচ্ছে। পাকিস্তান রিজার্ভ ভেঙে খাচ্ছে। ভুটান যে দেশের মানুষ মাত্র ৫ লাখ, সেই দেশের অর্থনীতি মজবুত বলে আমরা জানতাম। তারাও রিজার্ভ ভেঙে খাচ্ছে। যুক্তরাজ্য-যুক্তরাষ্ট্র রিজার্ভ ভেঙে খাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি রিজার্ভ রাখে। তারা বাইরে থেকে জ্বালানি এনে ব্যবহার করে থাকে। এবার তারাও সেই রিজার্ভ ভেঙে খাচ্ছে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, তুরস্কে ৮০ পার্সেন্ট মূল্যস্ফিতি, পাকিস্তানে ৩০ পার্সেন্ট, যুক্তরাষ্ট্রে ১০ শতাংশের বেশি মূল্যস্ফিতি। আমাদের দেশে সেই পরিস্থিতি নাই।
করোনা মহামারি মোকাবেলায় আমরা ১ নম্বর উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, অনেকেই আশঙ্কা করলেন লাখ লাখ মানুষ না খেয়ে মারা যাবে। আল্লাহর রহমতে কেউ না খেয়ে মারা যায়নি। এই যে অ্যাচিভমেন্ট আপনারা যারা সাংবাদিক, রাষ্ট্রের চতুর্থস্তম্ভ হিসেবে কাজ করেন। তাদের বিষয়গুলা জনগণের সামনে উপস্থাপন করা প্রয়োজন। সরকারের ভুল-ত্রুটি থাকবে, সেগুলোর সমালোচনা হবে। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সমাজকে সঠিক তথ্য দেন। আমরা অনেক দেশের তুলনায় ভালো আছি। বাংলাদেশ এগিয়ে যচ্ছে।
অনুষ্ঠানে তথ্যমন্ত্রী ডিআরইউ সাহিত্য পুরস্কার বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন। এ বছর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) সাহিত্য পুরস্কার পেলেন সংগঠনটির তিনজন সদস্য। কথা সাহিত্যে (গল্প/উপন্যাস) রাজীব নূর (সমকাল), কাব্যে (কবিতা/ছড়া) হাসান হাফিজ (আমার দেশ) ও মননশীল (প্রবন্ধ ও গবেষণা) ক্যাটাগরিতে এম মামুন হোসেন (সময়ের আলো) ‘ডিআরইউ সাহিত্য পুরস্কার-২০২২’ বিজয়ী হয়েছেন। এবার ৩৯ জন সদস্য তাদের বই জমা দিয়েছিলেন। ডিআরইউর সদস্যদের মধ্যে যে সকল সদস্য নিজেদের লেখা বই জমা দিয়েছেন তাদেরকে সম্মাননা দেওয়া হয়।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.