বিয়ে করলেন মালালা ইউসুফজাই

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-১১-১০ , ০৭:৪২ এএম

বিয়ে করলেন মালালা ইউসুফজাই ছবি: সিটিজেন নিউজ

শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই বিয়ে করেছেন। তার বরের নাম অ্যাসার মালিক। তিনি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তা। ইংল্যান্ডের বাড়িতেই তাদের বিয়ের অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালালা। বরের সঙ্গে দুইটি ছবি নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছেন তিনি।

টুইট বার্তায় মালালা লিখেন, ‘আজকের দিনটি আমার জীবনের একটি মূল্যবান দিন। অ্যাসার এবং আমি গাঁট বেঁধেছি। পরিবারের সঙ্গে বার্মিংহামের বাড়িতে একটি ছোট নিকাহ অনুষ্ঠান উদযাপন করেছি। আমাদের জন্য দোয়া করুন।’

১৯৯৭ সালের ১২ই জুলাই উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় এক সুন্নি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন মালালা ইউসুফজাই। তার বাবার নাম জিয়াউদ্দিন ও মা তুর পেকাই ইউসুফজাই। ২০১২ সালে স্কুলে যাওয়ার পথে জঙ্গি হামলার শিকার হন মালালা। পরে ওই হামলার দায় স্বীকার করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান। শত বাধা ও প্রতিকূলতার মধ্যেও নারী শিক্ষা বিস্তারে সক্রিয় অবদান রাখার জন্য সর্বকনিষ্ঠ হিসেবে ২০১৪ সালের ১০ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পান মালালা। বর্তমানে তিনি তাঁর দাতব্য সংস্থা মালালা ফান্ডের মাধ্যমে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে কাজ করছেন। তার দাতব্য সংস্থা থেকে ২০ লাখ মার্কিন ডলার আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষায় সহায়তার জন্য অনুদান দেওয়া হয়েছে।

মালালার নামে জাতিসংঘ স্বীকৃত আন্তর্জাতিক দিবস রয়েছে। ২০১৩ সালের ১২ জুলাই তার ১৬তম জন্মদিনে ‘মালালা দিবস’ঘোষণা করে জাতিসংঘ। ওই বছরই গঠন করা হয় মালালা ফান্ড। নারী শিক্ষার উন্নয়নে ফান্ডটি কাজ করে। প্রায় এক লাখ সুবিধাবঞ্চিত মেয়েকে পড়াশোনায় সহায়তায় ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে মালালা ফান্ড ও অ্যাপল যৌথভাবে একটি দাতব্য সংস্থা গঠন করার ঘোষণা দেয়।

অস্কার বিজয়ী পরিচালক ডেভিস গুগেইনহাম মালালাকে নিয়ে ‘হি নেমড মি মালালা’নামে ২০১৫ সালের ২ অক্টোবর তথ্যচিত্র তৈরি করে। যা, ১৭৫টি দেশে ১১টি ভাষায় এটি প্রচার হয়েছে।

২০১৬ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মাধ্যমিক স্কুলের শেষ দিন মালালা শিক্ষার পক্ষে বিশ্বজুড়ে মানুষকে উৎসাহিত করে তুলতে #ইয়েসঅলগার্লস নামে প্রচার শুরু করেন। মেয়েদর নিজেদের জীবনের গল্প শুনতে তিনি ছুটে গেছেন উত্তর আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও ল্যাটিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে। তার সেই সফরের নাম ছিল গার্ল পাওয়ার ট্রিপ।