টানা ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু

 সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-০৭-২৩ , ০৯:৫২ এএম

টানা ১৪ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ শুরু ছবি: সিটিজেন নিউজ

মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ২৩ দফা নির্দেশনা দিয়ে ঈদের তৃতীয় দিন অর্থাৎ আজ শুক্রবার (২৩ জুলাই) সকাল ৬টা থেকে ১৪ দিনের কঠোর বিধি-নিষেধ শুরু হয়েছে। এ সময় গার্মেন্টসহ সব ধরনের শিল্পকারখানা ও সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ সময় জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হলে তাকে শাস্তির আওতায় নেয়া হবে। সব ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সব ধরনের যাত্রীবাহী লঞ্চ ও নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলেও সীমিত আকারে চলবে ফেরি। তবে ফেরিতে সব ধরনের যাত্রীবাহী গাড়ি ও যাত্রী পারাপারও বন্ধ থাকবে। এ সময়ে ফেরিতে শুধু জরুরি পণ্যবাহী গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্স পারাপার হবে। এ অবস্থা বজায় থাকবে শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে ৫ আগস্ট দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত। বিধিনিষেধ চলাকালে জনগণকে সতর্ক থাকা, মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধি মানার নির্দেশ দেয়া হয়।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, লকডাউন শিথিল হবে না। গতবারের চেয়ে কঠিন হবে এই লকডাউন। বিধিনিষেধ নিশ্চিত করতে পুলিশ, বিজিবি ও সেনাবাহিনী মাঠে থাকবে। অফিস-আদালত, গার্মেন্টস-কলকারখানা ও রপ্তানিমুখী সবকিছুই বন্ধ থাকবে।

কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে আর্থ-সামাজিক অবস্থা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে গত ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই (শুক্রবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত বিধিনিষেধ শিথিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এদিকে, ঈদ উদযাপন করে ঘরমুখো মানুষ রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছে। গণপরিবহণ না থাকায় পায়ে হেঁটেই রাজধানীতে ফিরছেন অনেকে।

এদিকে, দেশে করোনার সংক্রমণ বাড়তে থাকায় তা প্রতিরোধে ১লা জুলাই থেকে সাত দিনের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করে সরকার। কঠোর বিধি-নিষেধ আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। পরে ৫ জুলাই আরেক দফায় চলমান কঠোর বিধি-নিষেধের মেয়াদ ১৪ই জুলাই পর্যন্ত বাড়িয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এসময় জরুরি পন্য পরিবহণ ছাড়া সব ধরনের যন্ত্রচালিত যানবাহন বন্ধ থাকে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেলেও বাংলাদেশে ভাইরাসটি শনাক্ত হয় গত বছরের ৮ মার্চ। ওইদিন তিনজন করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ার কথা জানিয়েছিলো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। করোনায় মৃত্যুর হার শুরুতে বৃদ্ধি পাওয়ার পর অনেকটাই কমে এসেছিলো সে হার। তবে, দেশে করোনায় ২য় ঢেউয়ে আবারো বাড়তে শুরু করেছে সংক্রমণ হার ও মৃতের সংখ্যা।