আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২১-০৭-২২ , ০৪:০০ পিএম
ছবি: সিটিজেন নিউজ
মধ্য আফ্রিকার সংঘাতপূর্ণ দেশ কঙ্গো। নানান চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি নিয়ে দেশটির শান্তিরক্ষায় কাজ করেন বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা। সবশেষ গেলো মে মাসে জীবন্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট নিয়ারোগঙ্গোতে অগ্নুৎপাতের পর দেশটির গোমা শহরে থাকা বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সহায়তা করেন স্থানীয়দের।
লাভার সামনে দাড়িয়ে দুঃসাহসিক এমন মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা প্রশংসা পায় জাতিসংঘ থেকেও।
মাউন্ট নিয়ারোগঙ্গো পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম জীবন্ত আগ্নেয়গিরি। বলা হয় প্রতি ২০ বছর পর পর এটির অগ্নুৎপাত হয়। যা পৃথিবীর সবচেয়ে বিপদজনক আগ্নেয়গিরির একটি হিসেবেও বিবেচিত। যার ধারাবাহিতায় সবশেষ গেলো ২২শে মে'তে ঘটে অগ্নুৎপাত। ঝর্ণার মতো লাভার স্রোত ছড়িয়ে পড়ে কঙ্গোর গোমা শহরের বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন এলাকায়। সঙ্গে থেমে থেমে ভুমিকম্প। প্রাণভয়ে শহর ছাড়তে থাকে হাজার হাজার মানুষ।
গোমা শহরের এক বাসিন্দা বলেন, 'এখানের যা দেখা যায়, সবই ছিল জ্বলন্ত লাভা। আমরা কোন মতে এখানকার একটি রাস্তা দিয়ে পাশে চলে যাই। আমার মতো সবাই এলাকা ছেড়ে চলে যায়।
নিয়ারোগঙ্গো থেকে মাত্র ছয় কিলোমিটার দূরে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের ইঞ্জিনিয়ার কন্টিনজেন্টের অবস্থান। অগ্ন্যুতপাতের ভয়াবহ বিপদের মধ্যে টানা কয়েকদিন সাহসিকতার পরিচয় দেন সেখানে থাকা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। সহায়তা করেন জাতিসংঘের অন্য দেশের শান্তিরক্ষীদের শহর থেকে নিরাপদে সরিয়ে নিতেও।
কঙ্গোর কন্টিনজেন্ট-১১ (ব্যান ইঞ্জিনিয়ার) এর কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ মাহবুবুল হক বলেন, 'আমরা দেখতে পাই বিভিন্ন প্রদেশের সাথে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি গলে যাওয়া লাভার কারণে বন্ধ হয়ে যায়। অগ্নুৎপাতের তৃতীয় দিন থেকে আমরা এখানে অনস্থান করি এবং রাস্তা থেকে লাভা সরিয়ে দেই।'
কঙ্গো সদর দপ্তরের ফোর্স ইঞ্জিনিয়ার্স কর্নেল নাবিল বেনামারা বলেন, অগ্নুৎপাতের সময় গোমা থেকে অন্যান্য বেসামরিক নাগরিক এবং শান্তিরক্ষীদের সরিয়ে নেয়ার জন্য যে রাস্তাটি ছিল, তা চলাচলের উপযোগী ছিল না। তাদেরকে (বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী) বলার পর রাস্তাটি দ্রুত মেরামত হয়ে যায়। যে কারণে সবাইকে ভালোভাবে সরিয়ে নেয়া গেছে।'
ঘটনার পর দেড় মাস পরেও নিয়ারোগঙ্গোর ভয়াবহতার ছাপ স্পষ্ট। আশপাশের পুরো অঞ্চলে লাভার স্তূপ। এখনো কিছু জায়গা থেকে বের হচ্ছে ধোঁয়া। স্থানীয়রা বলছেন, জীবন্ত মাউন্ট নিয়ারোগঙ্গোর অগ্নুৎপাতের পর বেশকদিন চলে ভুমিকম্প। ঘন্টায় ১৫ বার পর্যন্ত ভুমিকম্প হয়েছে। ৩ হাজার মিটার উঁচু আগ্নেয়গিরিটির সবচেয়ে মারাত্মক বিস্ফোরণটি হয়েছিল ১৯৭৭ সালে। সেসময় ৬০০ এরও বেশি মানুষ প্রাণ হারান।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.