নিজস্ব প্রতিবেদক
আপডেট: ২০২০-১২-১৮ , ১২:৪৬ পিএম
কিছুটা কমার পর সপ্তাহ না ঘুরতেই আবারও রাজধানীর বাজারগুলোতে আলু ও পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ১০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। কুয়াশার কারণে বাজারে আলু -পেঁয়াজের সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
এদিকে শীতের সবজি ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা ও শালগমের সরবরাহ বাড়ায় সবজির দাম কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরে এসেছে। প্রায় এক মাস ধরে বেশিরভাগ সবজির কেজি ৩০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে। তবে পাকা টমেটো ও বরবটির দাম এখনো বেশ চড়া।
শুক্রবার (১৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, পুরাতন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, যা গত সপ্তাহে কিছুটা কমে ৩৫ থেকে ৪০ টাকায় নেমেছিল। এর আগে পুরাতন আলুর কেজি ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। অপরদিকে মাসখানেক আগে ১০০ টাকার ওপরে কেজি বিক্রি হওয়া নতুন আলুর দাম কয়েক দফা কমে গত সপ্তাহে ৪০ থেকে ৪৫ টাকায় নেমে এসেছিল। তবে নতুন করে দাম বেড়ে এখন নতুন আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
হঠাৎ করে আলুর দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ান বাজারের ব্যবসায়ী মিলন মিয়া বলেন, পুরাতন আলুর পাশাপাশি বাজারে এখন নতুন আলুও পাওয়া যাচ্ছে। বাজারে আসা নতুন আলুর আকারও বেশ ভালো। কিন্তু কয়েকদিন ধরে কুয়াশা থাকায় ঢাকায় আলুর গাড়ি কম আসছে। ফলে নতুন আলুর সরবরাহ কমেছে। আর বাজারে এখন নতুন আলুর চাহিদা বেশি। এ কারণেই দাম বেড়েছে। কুয়াশা কেটে গেলে আলুর দাম আবার কমে যাবে।
এদিকে আলুর মতো ভোগাচ্ছে পেঁয়াজও। দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তিতে রাখা পেঁয়াজের দাম গত সপ্তাহে কিছুটা কমেছিল। কিন্তু তা এক সপ্তাহের বেশি স্থির হয়নি। গত সপ্তাহে যে দেশি পেঁয়াজের কেজি ৫০ টাকায় নেমেছিল, তার দাম বেড়ে এখন ৬০ থেকে ৭০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। তবে আমদানি করা পেঁয়াজ আগের মতো ৩০ থেকে ৪০ কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে।
আলুর মতো পেঁয়াজের দাম বাড়ার বিষয়েও একই ধরনের কারণ দেখান কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী নোয়াব আলী। তিনি বলেন, পুরাতন পেঁয়াজের পাশাপাশি এখন বাজারে নতুন পেঁয়াজও আসছে। সেই হিসেবে দাম কমার কথা। কিন্তু কুয়াশার কারণে ফেরিঘাট ট্রাক-মাল নিয়ে আটকে থাকছে। যে কারণে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কিছুটা কমেছে। তবে খুব বেশি দিন এ অবস্থা থাকবে না। কিছু দিনের মধ্যে পেঁয়াজের দাম কমে যাবে বলে আমরা আশা করছি।
সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত সপ্তাহের মতো শিমের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। ফুলকপি ও বাঁধাকপির পিস বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ৩০ টাকা। মুলা ১০ থেকে ১৫ টাকা কেজি পাওয়া যাচ্ছে। ৪০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে বড় লাউ। গাজর বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি। বেগুনের কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকা, উস্তের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ধেড়স ৪০ থেকে ৫০ টাকা, পটল ৩০ থেকে ৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।
বেশিরভাগ সবজির দাম কমলেও এখনো চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে পাকা টমেটো ও বরবটি। পাকা টমেটোর কেজি গত সপ্তাহের মতো বিক্রি হচ্ছে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আর বরবটি গত সপ্তাহের মতো ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দামের বিষয়ে কারওয়ান বাজারে ব্যবসায়ী হাফিজুর রহমান বলেন, সবজির দাম নিয়ে ক্রেতাদের যে আক্ষেপ ছিল, তা এখন দূর হয়ে গেছে। বেশিরভাগ সবজি এখন ক্রেতারা অল্প দামে কিনতে পারছেন।
এদিকে সবজির দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষিরা। অনেকে সবজি বিক্রি করে খরচের টাকা ওঠাতে পারছেন না। তাই সবজির দাম কমায় এক শ্রেণির মাঝে স্বস্তি ফিরলেও, যারা চাষ করেন তাদের মধ্যে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.