রোমান শেখ
আপডেট: ২০২০-১১-০৯ , ০১:২১ পিএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
চট্টগ্রাম নগরীর মূর্তিয়মান আতঙ্ক কথিত যুবলীগ নেতা দিদার ও মহিউদ্দিন। প্রকাশ রয়েছে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তাদের দুজনকে ‘মানিক জোড়’ বলা হয়! জায়গা দখল, চাঁদাবাজি, মাদক, জুয়া আর খুন যেন তাদের নিত্য সঙ্গী। ভারী অস্ত্রসহ গত ১০ বছর যাবত চট্টগ্রাম নগরীর শেরশাহ, টেকনিক্যাল, খুলশী, বায়েজিদ, টেক্সটাইল এলাকায় বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের অপরাধ কর্মকাণ্ড। দু’জনের নেতৃত্বে রয়েছে বিশাল এক বাহিনী। তাদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই চালানো হয় নির্যাতন।
চলতি বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে, অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত- যুবলীগের এমন নেতাদের ধরতে বিশেষ অভিযানে মহিউদ্দিন-দিদার পালিয়ে গেলেও সম্প্রতি মো. দিদারুল আলম চৌধুরী মানবাধিকার নেতার পদ-পদবী পেয়েছে বলে সোস্যাল মিডিয়ায় তার আগমন ঘটেছে!
গত ৮ নভেম্বর (রবিবার) সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন’র একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। যেখানে মো. দিদারুল আলম চৌধুরীকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় শাখা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে বলে উল্লেখ করে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন’র সভাপতি, বিচারপতি মো. আবদুস সালাম এবং মহাসচিব, মাওলানা মো. আবেদ আলীর স্বাক্ষর রয়েছে।
সচেতন নাগরীকদের প্রশ্ন- একজন তালিকাভূক্ত সন্ত্রাসীকে কীভাবে একটি মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের দায়িত্ব দেয়া হয়। তারা বলছেন, দেশের অভ্যন্তরে এরকম বহু মানবাধিকার সংগঠনে অসংখ্য অস্ত্র ব্যবসায়ী, মাদক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত সন্ত্রাসীরা ঢুকে পড়ছে। এদের সনাক্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া না হলে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষ আস্থা হারাবে বলে মনে করছেন তারা।
জনশ্রুতি রয়েছে মহিউদ্দিন এবং দিদার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিনের অনুসারী। তবে, স্থানীয়ভাবে এরা দু’জন ভূমি দস্যু, অস্ত্র ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজ হিসেবে পরিচিত।
মো. ইয়াসিন নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নাসিরাবাদের হকার্সলীগ এর সাধারন সম্পাদক রিপন হত্যা মামলার ১নং আসামী, কুখ্যাত সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, র্যাবের ক্রসফায়ারের আসামী, সিএমপির তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী দিদারুল আলম প্রকাশ ভূমিদস্যু দিদার কি করে সার্ক মানবাধিকার সংস্থা চট্টগ্রাম বিভাগীয় জেলার সাধারন সম্পাদক হয়? আর চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ও সিএমপি চট্টগ্রাম কমিউনিটি পুলিশিং এর সাধারন সম্পাদক, ক্লিন ইমেজের সাবেক ছাত্রনেতা অহিদ সিরাজ স্বপন ভাই কিভাবে এই ভূমিদস্যু দিদারকে সাপোর্ট করে। মাননীয় পুলিশ কমিশনারের কাছে বিনীত অনুরোধ বিষয়গুলো আপনি তদারকি করবেন..’
এ বিষয়ে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব মাওলানা মো. আবেদ আলী নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, ‘চট্টগ্রামে আমাদের বিশেষ প্রতিনিধি রয়েছে। তাদের সাথে কথা বলে যাচাই-বাছাই করে দিদারকে যোগ্য মনে হয়েছে বলে তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।’
‘দিদারের বিরুদ্ধে কোনও মামলা আছে কিনা সেটা আমার জানা নেই। যদি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কোনও প্রমান থাকে তাহলে আমরা দিদারের বিরুদ্ধে ২৪ ঘন্টার মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহন করবো’- বলেন মাওলানা মো. আবেদ আলী।
তিনি বলেন, কোনও মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তি মানবাধিকার ফাউন্ডেশনে দায়িত্ব পেতে পারে না। দিদার যদি কোনও তথ্য গোপন করে তাহলে তিনি শাস্তি পাবেন বলেও জানান তিনি।
মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে দিদারের কোনও বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, মহিউদ্দিন ও দিদার বাহিনীর বিপরীতে অবস্থানের কারণে এ পর্যন্ত ৬ জনকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়াও অস্ত্র, চাঁদাবাজি, জায়গা দখল-বেদখলসহ একাধিক মামলার আসামী দিদার ও মহিউদ্দিন। ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বরে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শ্যামলছায়া এলাকায় একটি জায়গা দখল করতে গিয়ে মরনাস্ত্র একে-২২ রাইফেলসহ প্রকাশ্যে প্রতিপক্ষকে ধাওয়া দিতে দেখা গেছে। ওই ঘটনার পর মহিউদ্দিন-দিদারের অস্ত্র ভাণ্ডার ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ে চট্টগ্রামে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি ও আলোচনা হলেও সংশ্লিষ্ট প্রসাশন তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারেনি। সিএমপির তৎকালীন ডিসি নর্থ আব্দুল ওয়ারীশ বলেছিলেন, বিষয়টি আমরা নজরদারী করছি।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রিটন সরকার নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ মহিউদ্দিন-দিদার এলাকা ছাড়া। আমি দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকে তারা এলাকায় ঢুকতে পারেনি।
বায়েজিদ বোস্তামী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) পরিত্রাণ তালুকদার নাগরিক পত্রিকাকে বলেন, শেরশাহ এলাকার রিপন হত্যাসহ একাধিক মামলার আসামী দিদার। রিপন হত্যা মামলা এখন গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) উপ পুলিশ কমিশনার (ডিসি নর্থ) বিজয় বসাক নাগরিক পত্রিকাকে জানান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করে কেউ রেহাই পাবে না। মহিউদ্দিন এবং দিদার দীর্ঘদিন এলাকায় না থাকলেও তাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আমরা সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর নিচ্ছি; যাতে করে কোনও ধরনের অপরাধ বা আইনশৃঙ্খলার অবনতি না ঘটে।
এক প্রশ্নের জবাবে বিজয় বসাক বলেন, অবৈধ অস্ত্রের বিষয়ে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।
নাগরিক পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর মো. দিদারুল আলম চৌধুরীকে সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন থেকে বহিষ্কার করা হয়।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.