সিটিজেন নিউজ ডেস্ক
আপডেট: ২০২০-১০-০৮ , ০৯:৩৯ এএম
ছবি: সিটিজেন নিউজ
ভ্যাকসিন কেনার জন্য বাজেটে একটি প্রকল্পের আওতায় ছয়শ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) স্বীকৃতি ছাড়া কোনও ভ্যাকসিন নেবে না বাংলাদেশ। মন্ত্রিসভায় এ বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত অবহিতকরণ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, ভ্যাকসিন নিয়ে আজ একটা বিস্তারিত প্রেজেন্টেশন ছিল। কেভিড-১৯ সংক্রমণের পর থেকে বিশ্বব্যাপী ভ্যাকসিনের জন্য বিভিন্ন দেশে উঠেপড়ে লেগেছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে ৪৬টি ভ্যাকসিনের, আর প্রি-ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে ৯১টির।
‘যারা ভ্যাকসিন তৈরি করছে শুরু থেকেই আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। আমাদের একটা মানদণ্ড হলো ডব্লিউএইচও যেটা স্বীকৃতি দেবে না আমরা সেটাকে আমরা গ্রহণ করবো না। এটাকে মানদণ্ড ধরে আমাদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ডিপার্টমেন্টগুলো এবং আমাদের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি পার্সোনালি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এখানে উৎপাদনের জন্য।’
মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভ্যাকসিন কেনার জন্য বাজেটে একটি প্রকল্পের আওতায় ছয়শ কোটি টাকার সংস্থান রাখা হয়েছে। অর্থ সচিব বিষয়টি আমাদের নিশ্চিত করেছেন। কোনো কারণে যদি ফরেন কারেন্সি নাও পাওয়া যায়, আমাদের বাজেটে সেটার সংস্থান রাখা হয়েছে। ভ্যাকসিন কেনার জন্য টাকা-পয়সার কোনো সমস্যা হবে না।
জাতীয় সংসদের নবম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী যখন ভাষণ দেন, তখন তিনি বলেছিলেন, কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারী সব দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভ্যাকসিন নিতে অর্থ বরাদ্দ করেছি। যেখানে ভ্যাকসিনটি প্রথম পাওয়া যাবে সেখান থেকে সংগ্রহ করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনার আলোকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রটোকল অনুসরণ করে এযাবত গৃহীত কার্যক্রমের পাশাপাশি সম্ভাব্য সেকেন্ড ওয়েব মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সার্বিক কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
‘যারা ভ্যাকসিন প্রডিউস করছে আমাদের ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলো তাদের সঙ্গে কমার্শিয়াল সাইট নিয়ে আলোচনা করছে। আমাদের জন্য সুইটেবল হলে, সরকার সুইটেবল মনে করলে সেটা খুব কুইকলি চলে আসবে। এটা আমাদের জন্য একটা গুড সাইন। ’
খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, এখানে সিনোভ্যাকের ভ্যাকসিনের একটা ট্রায়ালের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একটু লেস প্রাইসে আমরা ভ্যাকসিন পাবো। শুধু তাই না, আমাদের এখানকার এক বা একাধিক ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানি ইন্ট্রোডিউস করবে।
ভ্যাকসিন কখন কবে মার্কেটে আসবে সেটা সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কোম্পানি বলতে পারছে না জানিয়ে তিনি বলেন, আমি যে তালিকাটা দেখলাম সেটা ২০২১ সালের এপ্রিল-মে-জুনের আগে মার্কেটে আসবে বলে তারা নিশ্চয়তা দিতে পারছে না। যদি এর আগে সাকসেসফুল হয়ে যায় তবে ইনশাল্লাহ সবার সঙ্গেই আমাদের যোগাযোগ আছে। কিছু কিছু টেকনিক্যাল সাইটও আমাদের দেখতে হচ্ছে। দু-একটা ভ্যাকসিন আছে যেটা মাইনাস ৮০ ডিগ্রি তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করতে হবে। এটা খুব ডিফিকাল্ট আমাদের মতো দেশে। বেশিরভাগ যেগুলো আমাদের দেশের জন্য সুইটেবল সেগুলো ২ থেকে ৮ ডিগ্রির মধ্যে সংরক্ষণ করতে হয়। প্রথম থেকে ভ্যাকসিন কিনে নেওয়ার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি এবং এজন্য আমাদের সাফিসিয়েন্ট বাজেট বরাদ্দ দেওয়া আছে।
ভ্যাকসিন মানুষকে বিনামূল্যে দেওয়া হবে কিনা- এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ভ্যাকসিনের প্রাইসটা তো এখনো ফিক্স করা যায়নি। সবকিছু দেখা যাক। ডেফিনেটলি একটা বড় পোরশন ফ্রি দেওয়া হবে। এটা প্রাইমারি চিন্তাভাবনায় আছে। এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই।
কিছুদিন ধরে একটা বিষয় আমাদের নজরে এসেছে যে বাংলাদেশে বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ নষ্ট করছে উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন আসার ইমিডিয়েট কোনো সম্ভাবনা নেই, এটা আমাদের বুঝতে হবে। সারা পৃথিবীতে একটা কম্পিটিশন চলছে। বিনা পয়সায় এই ভ্যাকসিন পাওয়ার এখনই কোনো সুযোগ নেই। যদি গ্যাভির মাধ্যমে আসে সেটাও একটু দেরি হবে।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.