প্রদীপের অন্যতম সহযোগী রুবেল শর্মা গ্রেফতার

 কক্সবাজার প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২০-০৯-১৪ , ১২:৩৪ পিএম

প্রদীপের অন্যতম সহযোগী রুবেল শর্মা গ্রেফতার ছবি: সিটিজেন নিউজ

কক্সবাজারের টেকনাফে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যা মামলায় পুলিশের বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপের অন্যতম সহযোগী টেকনাফ থানার কনস্টেবল রুবেল শর্মাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) তাকে গ্রেফতার করা হয়।

তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন কক্সবাজারের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতের বিচারক তামান্না ফারাহ। দুপুর ২টা ১০ মিনিটের দিকে তাকে আদালত থেকে পুলিশের প্রিজনভ্যানে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়

কক্সবাজার কোর্ট পুলিশের ইন্সপেক্টর প্রদীপ কুমার দাশ জানান, রুবেলকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছিল। র‍্যাবের পক্ষ থেকে রিমান্ড চাওয়া হয়নি। আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

র‍্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের উপ-অধিনায়ক মেজর মেহেদী হাসান সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আলোচিত মেজর সিনহা হত্যা মামলায় পূর্বে গ্রেফতারকৃত অন্যান্য আসামিদের রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় পুলিশের কনস্টেবল রুবেল শর্মার নাম আসে। এ কারণে রোববার রাতে র‍্যাবের একটি দল রুবেলকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কার্যালয়ে নিয়ে আসে।

মেজর মেহেদী হাসান আরও জানান, রুবেল শর্মাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মেজর সিনহা হত্যা মামলায় জড়িত থাকার সন্দেহে গ্রেফতার দেখানো হয়। সোমবার দুপুর ১২টার দিকে কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয় তাকে। তবে এখনও কোনও রিমান্ড চাওয়া হয়নি। তদন্ত কর্মকর্তা প্রয়োজন মনে করলে পরবর্তীতে তাকে রিমান্ড নেয়া যেতে পারে।

এর আগে গত শনিবার (৯ আগস্ট)বিজিবি নিয়মিত তল্লাশির সময় বিকেল সাড়ে ৫টা সময় বাহারছড়া শিলখালী বিজিবির চেকপোষ্টে ধরা পরলো প্রায় দুই লাখ টাকা। একটি মাইক্রোকে সন্দেহ হলে ওই চেক পোষ্টে থামানো হয়। পরে তল্লাশির মাধ্যমে ওই মাইক্রোতে থাকা লাগেজের মধ্যে ১ লাখ ৯০ হাজার টাকার মতো টাকা পাওয়া যায়।

ওই টাকার মালিকানা দাবি করেছেন টেকনাফ মডেল থানা পুলিশের কনস্টেবল রুবেল শর্মার স্ত্রী লক্ষ্মী শর্মা। পরে ওই টাকার কোন ডকুমেন্ট বিজিবির কাছে তারা দেখাতে পারেননি।

এ বিষয়টি সংবাদকর্মীরা জানার পর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করা হয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছেন, একজন কনস্টেবলের স্ত্রীর কাছে এত টাকা যদি হয় তাহলে অফিসারদের স্ত্রীর কাছে কত টাকা থাকতে পারে, এমন প্রশ্ন উঠেছে। এটি একটি স্বল্প টাকা হলেও তাহলে বড় বড় টাকা পাচার কোথায় কিভাবে করেছেন তা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী খতিয়ে দেখছে।

গত ৩১ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাবেক মেজর সিনহা মো. রাশেদ হত্যাকাণ্ডে জড়িত টেকনাফ মডেল থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৭ জন পুলিশ বরখাস্ত এবং র‍্যাব হেফাজতে রয়েছেন।

এ ধারাবাহিকতায় প্রদীপ কুমার দাশের যে গ্রুপটি রয়েছেন তাদের টেকনাফ থেকে কয়েকজনকে বদলি করা হয়েছে। এই মামলায় এখন র‌্যাবের কাছে তদন্তাধীন রয়েছে।