ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে ১২টি হত্যা মামলা

 কক্সবাজার প্রতিনিধি
আপডেট: ২০২০-০৯-১১ , ০৯:৫২ এএম

ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে ১২টি হত্যা মামলা ছবি: সিটিজেন নিউজ

কক্সবাজারের টেকনাফ থানার প্রত্যাহার হওয়া দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশের বিরুদ্ধে সবশেষ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) আরও দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে মোট ১২টি হত্যা মামলা দায়ের করা হলো। এ ছাড়া সাংবাদিক নির্যাতনের অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়েছে। এর বাইরে আরেকটি হত্যা মামলার জন্য আবেদন করা হলেও আদালত তা খারিজ করে দেন।

বৃহস্পতিবার কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (টেকনাফ-৩) হেলাল উদ্দীনের আদালতে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়ার আবদুল আমিন ও হোয়াইক্যংয়ের মুফিজ আলম নামের দুজনকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যার অভিযোগ এনে ওসি প্রদীপসহ ৫৬ জনের বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার পর বাদীপক্ষের আইনজীবী আবু মুছা গণমাধ্যমকে বলেন, একটি মামলায় ওসি প্রদীপসহ ৩৮ জনকে এবং অপর মামলায় ওসি প্রদীসহ মোট ১৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দুটির বাদী হয়েছেন নিহত আবদুল আমিনের ভাই নুরুল আমিন এবং মুফিজ আলমের ভাই মো. সেলিম।

মুছা বলেন, ফৌজদারি মামলার এজাহার দুটি আমলে নিয়েছেন আদালত এবং ওই ঘটনা সংক্রান্ত থানায় কোনো মামলা হয়েছে কি না, তা আগামী ধার্যদিনের মধ্যে আদালতকে জানাতে টেকনাফ থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বাহারছড়ার আবদুল আমিন হত্যা মামলার আবেদনে বাদী উল্লেখ করেন, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের শুরুর দিকে সুপারি ব্যবসায়ী আবদুল আমিনের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে টেকনাফ থানার পুলিশ। কিন্তু টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান তিনি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আমিনকে গত বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে আসে একদল পুলিশ।

থানায় নিয়ে গিয়েও পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন ওসি প্রদীপ। শেষে বাধ্য হয়ে ৫০ হাজার টাকা দেয় পরিবার। বাকি টাকার জন্য ৩০ সেপ্টেম্বর আমিনের স্ত্রীকে ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। তখন স্ত্রীর কাছে বাকি টাকা দাবি করে পুলিশ।

এতে অস্বীকৃতি জানানো হলে ওই দিন রাতে ওসি প্রদীপের নেতৃত্বে একদল পুলিশ আবদুল আমিনকে ক্রসফায়ারের নামে গুলি করে হত্যা করে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়। এটি ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে এগারতম মামলা।

মুফিজ আলম হত্যার মামলার বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, টেকনাফ থানা পুলিশ মুফিজ আলমের কাছে ১৫ লাখ চাঁদা দাবি করেন। কিন্তু তা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে ধরে নিয়ে যায় পুলিশ। একপর্যায়ে টাকা না দিলে ক্রসফায়ারে হত্যার হুমকি দেয়। তাই বাধ্য ২০১৯ সালের ১২ জুলাই পুলিশকে ছয় লাখ টাকা দেন মুফিজ। টাকা নেওয়ার পরদিনই মুফিজ আলমকে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়। এটি ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে বারতম হত্যা মামলা।