সবুজের মাঠে শিশিরের ফোটা কেবল স্মৃতির ক্যানভাস

 মুহাম্মদ মোবারক আলী
আপডেট: ২০২০-০৩-০৩ , ০৪:৩৮ পিএম

সবুজের মাঠে শিশিরের ফোটা কেবল স্মৃতির ক্যানভাস

আলস্যের চাদর অবমুক্ত করে কুয়াশার ধূম্রজাল চিরে পুর্ব আকাশে সূর্য নিজেকে জানান দেওয়ার কাজে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। কোমল সূর্যরশ্মিতে ঘাসের ডগায় জমে থাকা শিশিরবিন্দুগুলো মুক্তোদানার মতো ঝলমল করে। গাছের পাতা থেকে শিশির ঝরে পড়ার টুপটাপ শব্দ আর পাখিদের কলরব আন্দোলিত করে গ্রামীণ জীবনযাত্রাকে। কী স্নিগ্ধময় গ্রামবাংলার শীতের সকাল!

আজ পুবের জানালা চিরে সূর্যের আলোর ছোঁয়ায় ভোরবেলা ঘুম থেকে জেগে উঠি। কিন্তু কনকনে শীতের কারণে লেপ মুড়ি দিয়ে বসে আছি। হঠাৎ হিমেল বাতাসে ভেসে আসা মিষ্টি গন্ধ আমাকে মুগ্ধ করে। এমন সময় ঘড়ির কাটা এসে দাড়িয়েছে ৮টার মধ্যে । তাই দেরী না করে বের হয়ে পড়ি অফিসের কাজে। এমন সময় চোখে পড়ে এক মায়াবী দৃশ্য।

শিশিরভেজা মেঠো পথে একদল শিশু খালি পায়ে হেঁটে বেড়াচ্ছে। আমিও তাদের সঙ্গী হলাম। কিছুটা পথ এগোতেই চোখ দুটি জুড়িয়ে গেল শিশির ভেজা ধান ক্ষেত দেখে। যেন সবুজের চাদর বিছিয়ে রাখা হয়েছে খোলা আকাশের নিচে। কী অপরূপ প্রকৃতি!

হাটতে হাটতে এক সময় চোখে পড়ে ছোট ছোট শিশুদের। কাধে ব্যাগ আর গায়ে মোটা কাপড় গায়ে দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ছোট্ট সেই স্কুলের দিকে।যেন মনে হল শীত তাদের কাছে হেরে গিয়েছে।

হাটতে হাটতে এক সময় এসে গেলোম বাজারের দিকে। উঠে গেলাম বাড়ী থেকে শহরে যাবার একমাত্র মাধ্যম সিএনজিতে।কিন্তু এ কি মহা কাণ্ড! গাড়ির ভেতরও চলছে শীতের গল্প।গল্প শুনতে শুনতে চলে এলাম শহরে।

কিন্তু শহরের ইট-কাঠ-পাথরের দেয়াল আর অহরহ গাড়ির অবিরাম ছুটোছুটিতে শীতের প্রভাবটা গ্রামের তুলনায় একটু কম অনুভূত হল। আধুনিক প্রতিযোগিতার যুগে জীবনগাড়িকে সচল রাখতেই শহুরে যান্ত্রিক ছুটে চলা। কিন্তু শহরের তুলনামূলক কম শীতকে উপেক্ষা করে গ্রামের হাড়কাঁপানো শীত অনেক বেশি উপভোগ্য।

শীত এলেই মনে পড়ে ফেলে আসা সেই দিনগুলোর কথা। গ্রামের সেই শীতের সকাল আজও হৃদয়কে টানে। ফিরে যেতে ইচ্ছে করে প্রকৃতির খুব কাছে।