মুসাফিরের বয়ান

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০১-০৯ , ০৬:০২ পিএম

মুসাফিরের বয়ান ছবি: নাগরিক পত্রিকা

আশরাফুল মাখলুকাতের দরবারে এই অধম মুসাফিরের লক্ষ কোটী সালাম।

দুনিয়ার মহব্বতে বিভোর এই সৃষ্টি-কুল আজ ভুলে গেছে কুল কায়নাতের অধিপতিকে। কোথা থেকে এলাম, কীভাবে এলাম, আর শেষ ঠিকানা কোথায়—এ প্রশ্নগুলো ভাবারও যেন ফুরসত নেই।

মিথ্যা মোহমায়ার জালে বন্দী হয়ে রইলাম আমরা। যখন সজ্ঞ হবে এই ভবের বাজার, তখন আফসোসের আর শেষ থাকবে না। কী করিতে বলা হয়েছিল, আর কী করিয়া আসলাম—গড্ডালিকার এক অন্ধ স্রোতে সময়টুকু হারিয়ে ফেললাম। মালিকের ইশারা বোধগম্য হলো না।

যাকে আপন ভেবে এই ভুবনে সবকিছু হারালাম, আজ সে কোথায়?

“সুখের লাগিয়া বাঁধিনু ঘর, অনলে পুড়িয়া ছাই।”

এক পাগল বারবার এই বাণী বলে গেল—কেউই বুঝল না।

মুসাফিরের কাজ শুধু চলা, পথে পথে বলা। অধিদপ্তরের হুকুম অমান্য করার সাধ্য তার নেই। সে তো হুকুমের তাবেদার। বিজলির মতো উপরে থেকে আওয়াজ আসে, আর সেই ডাক পৌঁছে দেওয়ার মোহে মুসাফির ছুটে বেড়ায় দ্বারে দ্বারে।

হে মানুষকুল, কী বুঝিলে?

ছেঁড়া এক টুকরো কাগজ দিয়েই তো বেহেশত কেনা যায়—যদি তুমি মালিককে চিনতে পারো। ভাষা যদি কঠিন মনে হয়, তবে অন্তরচক্ষু খোলো। চোখের পানিতে অন্তর ধুয়ে ফেলো—দেখবে মালিক তোমার কাছেই হাজির।

অতি মধুর সুরে তিনি বলবেন—

“কী চাস রে পাগল তুই, আমায় বল না।”

তখন তুমি মালিকের মহব্বতকে অমৃতসুধার মতো অনুভব করবে। এ-ই তো আশেক আর মাশুকের প্রেমলীলা।

“যদি হও নসীববান, অতি সহজে পার হবে পুলসিরাতখান।”

এই মুসাফির কত কী বলে যায়! কেউ বোঝে না—এ যে এক পয়গাম। মুসাফিরের নিজের কোনো হেকমত নেই, সে শুধু আদেশের গোলাম।

হে সৃষ্টি-কুল, হুঁশিয়ার হও। সময় অতি নিকটে। মোহমায়ার জাল ছিন্ন করে মালিকের ডাকে সাড়া দাও। অন্তিম সময় হবে ঘোর অন্ধকার। তখন স্নেহের পরশ নিয়ে একমাত্র মালিকই থাকবেন পাশে—আজ যাকে খরকুটার মোহে ভুলে আছ।

ভাবিয়া দেখো।

পরিশেষে—

“মুসাফির মুছরে আঁখি জল, ফিরেছে আপনাকে নিয়ে।”