মূলধারার ইসলাম চর্চা হোক উম্মার ঐকতান!

 মুহাম্মদ রেজাউল করিম
আপডেট: ২০২০-০৫-২৮ , ১০:৫৫ এএম

মূলধারার ইসলাম চর্চা হোক উম্মার ঐকতান! ছবি: সিটিজেন নিউজ

কিছু শব্দজোটের পাথর চাপায় আটকে আছি আমরা। কতিপয় শব্দের করাত দিয়ে কেটে টুকরোটুকরো করে ফেলছি আমাদের প্রাণের চির শান্তির ধর্ম ইসলামকে। বিভিন্ন চমকপ্রদ নামের ব্যানার উচিয়ে গলার রগ ফুলিয়ে বেশ তো ইসলামের নামে চটকদার শ্লোগান দিতে দিতে কণ্ঠনালী শুকিয়ে ফেলছি! আসলেই কি আমরা মূলধারার ইসলাম চর্চা করতে পারছি?? ইসলাম কি বলে, বির্তকের কাদা ছুড়ে আরেকজনের সাদা জামায় দাগ বসিয়ে দিতে? উগ্রতার বিষদাঁত দিয়ে অপরকে ছোবল দিতে?

আমরা মূলধারার ইসলাম নামে যে ইসলাম চর্চা করছি তা মূলত স্যাকুলার ইসলাম। কুসংস্কার এর তথাকথিত সংস্কার করতে গিয়ে মূলত আমরা পায়ের শিকল খুলে গলায় পড়েছি। আর এটাকে অলংকার ভেবে নিজের বিকৃত রূপকে সুন্দরের প্রতিমা ভেবে পূজা করে বেশ চমৎকার জীবন যাপন করছি। শিকল স্বর্ণের হোক আর লোহার হোক, তা শিকলই! সেটা দাসত্বের চিহ্ন বুঝায়। আর সেটা পায়ে হোক কিংবা গলায় হোক উভয় ক্ষেত্রেই পরাধীন জীবন যাপন করতে হয়। একে মূল্যবান অলংকার ভেবে যত্ন করা বাতুলতা মাত্র।

এই স্যাকুলার সমাজের মতো ইসলামকে স্যাকুলারি কায়দায় পালন করতে গিয়ে অনেক মূল্যবান রত্ন হারিয়েছি। ইসলামের মৌলিক আবেগকে গলিয়ে ফেলেছি। আমরা মুনাজাতে হাত তুলে করবো না হাত নামিয়ে করবো এই ফতোয়া দিতে গিয়েই দোয়ার আবেগ হারিয়ে ফেলেছি। তাই এখন ফতোয়া মত দোয়া করলেও সে দোয়া আর কবুল হচ্ছে না, কারণ তাতে তো হৃদয়ে কাতরতা আসেনা, দুচোখে অশ্রু ধারা নামেনা। আমরা তো শুধু কিছু প্রয়োজনীয় জীবন উপকরণের লিস্ট শুনিয়ে দেয় আমাদের রব কে, যাতে অতিশীঘ্রই তা আমাদের মর্ততলে পাঠিয়ে দেন। এটা কি দোয়া,এটাই কি মুনাজাত !! এতে কি আদৌ পাওয়া যাবে নাযাত,না মাগফিরাত,না  বারাকাত!!

আমরা এক ধর্ম বাদ দিয়ে সবাই যেন আলাদা আলদা ধর্ম প্রচারকের ভূমিকা পালন করছি।ইউটিউব ব্যবসায়ীদের একেকজনের বক্তব্য শুনলে মনে হয় ইসলাম একেক রকম। আমরা নিজেরা প্রিজমের মতো ইসলামকে আলাদা আলাদা রঙ্গে বিশ্লিষ্ট করে আলাদা রঙ এ আলাদা ঢং এ প্রচারে ব্যস্ত। আমরা বুঝতে চাইনা ইসলাম সকল রঙ্গের এক অভিন্ন আধার। এর মৌলিক রঙ সাদা, এর আলাদা কোন রঙ নেই। এর ভেতর যেমন রক্তের লাল রঙ আছে তেমনি বেদনার নীল রঙ ও আছে। এই সাদার ভিতরেই তো সাতরং এর অস্তিত্ব মিশে থাকে। আলাদা রঙ এ পরিচয় করানোর কি প্রয়োজন?

আমাদের দেশের আমরা অধিকাংশ মানুষই হয় ধর্মজীবি, নয়তো ধর্মান্ধ। আমরা হয় পেশা হিসেবে নিজের জীবিকার্জনের জন্য ধর্মকে বেছে নিয়েছি, নয়তো কুসংস্কারের চাষাবাদের জন্য ধর্মচর্চা করছি।

প্রকৃত ধার্মিক তো শুধু কাজীর গরুর মতো কেতাবেই পড়ে থাকে, গোয়ালেও নাই। তাই ধর্মজীবি আর ধর্মান্ধতার এই উর্বর ভূমিতে আধুনিক স্যাকুলারি ইসলামের চাষাবাদে বাম্পার ফলন তো হবেই। তাইতো আমরা রমযান কে মনে করি ঈদের মার্কেটিং এর প্রাক-প্রস্তুতি পর্ব রূপে আর ঈদুল আজহা কে বিক্রি করি গরুর মাংসের কেজি দরে। আমরা উৎসব মুখর পরিবেশেই ধর্ম পালন করতে ব্যস্ত, কিন্তু এসবের প্রকৃত অধ্যাত্মিক শিক্ষা পাবো কোথায়??

গুটি কয়েক বাংলা হাদিস কুরআন পড়ে স্কুল কলেজের গন্ডি না পেরুতেই আমরা ফতোয়া দিয়ে দেই ইমাম আবু হানিফা ফতোয়ায় মারাত্মক ভুল করেছেন। তিনিতো হাদিসই পড়েন নাই!! অথবা তাবিঈ, তবে-তাবিঈন যুগের বা ইসলামের স্বর্ণযুগের আলেমদের ফতোয়ার যাবতিয় গন্ডগোল খুঁজে বের করে ফেলি। আমরা যেন ১৪০০ বছর পরে এসে তাদের চেয়ে ইসলাম বেশি বুজে ফেলছি! বেশি ত্যাগ স্বীকার করছি! শিশুর হাতে তলোয়ার দিয়ে শুরু করেছি দাড়ি চাঁছা।

বিখ্যাত আলেমদের  মতের বিপরীতে গুটিকয়েক ভুল ফতোয়া দিয়ে একটা বক্তব্য দিতে পারলেই তো ভাইরাল!! বির্তকের বিষয়গুলো আরেকটু রগরগিয়ে সুড়সুড়ি দিয়ে বললেই তো কেল্লাফতে!

যেকোন ভাবে একবার মুখবইয়ের পৃষ্টায় নাম লেখাতে পারলেই হয়, চক্রবৃদ্ধি হারে তাদের দাওয়াতের খাজনা বাড়তেই থাকবে। ব্যাস!! মহান ইসলাম প্রচারক বা সংস্কারক হিসেবে নমিনেশন পেয়ে গেলেন। ধর্মিয় সভা সেমিনার ওয়াজ মাহফিল গুলোতে আর জ্ঞান চর্চার পরিবেশ নেই।এগুলোতে যেন চলে গীবতের রমরমা সার্কাস। সার্কাসে যেমন হিংস্র বাঘ সিংহ নিয়ে মানুষ খেলতে ভয় পায়না, তেমনি গীবতের মতো মারাত্মক ধ্বংসাত্মক হিংস্র পশু নিয়ে আমরা দিব্যি মানুষকে খেলা দেখিয়ে বিনোদন দেয়। একবারও বুঝতে চেষ্টা করিনা এর পরিণতি কতোটা খারাপ হতে পারে। যে হিংসার দাবানল আমরা ছড়িয়ে দিচ্ছি, সে দাবানলের আগুনে না মরলেও, তার ধোয়াতে নিশ্চয় মরতে হবে। আসলে এদের দেখলে কি দুঃখ করা উচিত নাকি দোয়া করা উচিত নাকি তাদের বোধ হচ্ছে কি হচ্ছে না এটা ভেবে আশ্চর্যান্বিত হওয়া উচিত বুঝে ওঠা যায়না।

আমাদের উচিত সবার মতকে শ্রদ্ধা করা। আমরা নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার্থে যে পরের স্বাধীনতা খর্বিত করছি এই ধারনা কি আমাদের আছে! না থাকলে অবশ্যই থাকা উচিত। কেউ যদি ভুল মতাদর্শ চর্চা করে বা ভুল পথে থাকে তাকে বিনয়ের সাথে তার ভুল সংশোধনের তথ্য-তত্ত্ব প্রমাণ উপস্থাপন করে শুদ্ধ করার চেষ্টা করতে হবে। তবে তাতেও যদি কাজ না হয়, তাহলে তাকে তার মতের উপর শ্রদ্ধা রেখে ছেড়ে দেয়া উচিত। সে যদি তার মতে তার পথে চলে তার রব কে রাজি করাতে পারলে আমাদের সমস্যা কোথায়?? তার কৃতকর্মের দায়িত্ব আমাকে তো নিতে বলা হয়নি!! তাকে হেদায়ত করার ক্ষমতাও আমাকে দেয়া হয়নি! আমাকে তো শুধু উপস্থাপনের সুযোগ দেয়া হয়েছে মাত্র। আমাদের অবশ্যই মনে রাখা উচিত সমাজে প্রচলিত বির্তকের আগুন নিভাতে গিয়ে আবার নতুন কোন ফেতনার দাবানল ছড়িয়ে দিচ্ছি কিনা! কোন স্পর্শকাতর বিষয়ে বলার আগে অবশ্যই উক্ত বিষয়ে গভীর জ্ঞান রাখা উচিত। অন্যথায় নিজের রসনাকে সংযত রেখে মতামত দেয়া থেকে দূরে থাকা উচিত। বির্তকের কাদা পানি দিয়ে ধুয়ে ইসলামকে পরিষ্কার করার ব্যর্থ চেষ্টা থেকে বিরত থাকা উচিৎ।

আমরা সব কিছুকে ফতোয়ার মাপকাঠি দিয়ে মাপতে চাই। আর এতেই বেধে যায় দ্বন্দ। নামাজে দাঁড়ালে ভাবি হাত কি নাভিতে বাধা উচিত না সিনায় চেপে ধরা উচিত! এই ফতোয়া দিতেই মসজিদ ভাগ করে ফেলতে হলেও সদা প্রস্তুত। অথবা সুরা ফাতেহার পর 'আমিন' কি আস্তে করে বলবো নাকি হঠাৎ চিৎকার দিয়ে বলে খতিব সাহেবের কান ফাটিয়ে দিব তা ভাবতে ভাবতেই নামাজ শেষ হয়ে যায়। অথচ ভেবে দেখিনা হাত তো যেকোন একজায়গায় বাধা সহজ কিন্তু মনটাকে বাধবে কে? মনকে বেধে আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে কি পেরেছি!! কতিপয় শারীরিক কসরত দেখাতে দেখাতেই তো নামাজ শেষ হয়ে যায়, বিনয়ের সাথে একবারও কি হুজুরি ক্বলব নিয়ে কি দাঁড়াতে পেরেছি? অথচ এই বিষয়ে তো সবাই একমত যে হুজুরি ক্বলব ব্যতিত কোন সালাতই কবুলিয়তের দরজায় পৌঁছায় না। তাহলে আমাদের কোন বিষয়ে অধিক মনোযোগী হওয়া উচিত? একবার ভেবে দেখুন তো আমরা এমন বিষয় নিয়ে তর্কের বর্শা দিয়ে যাদের বিদ্ধ করতে যাচ্ছি তারাও তো মুসলমান। তারা তো ভিন্ন কোন নতুন রবকে ডাকতে আসেনি। আমি যাকে ডাকতে এসেছি, সেও তাঁর ডাকে সাড়া দিতে এসেছে। হোকনা তার সাথে আমার সামান্য কিছু মতের পার্থক্য। আমরা ফরজ ওয়াজিব বাদ দিয়ে কিছু মুস্তাহাবের ফতোয়া নিয়ে এমন একটা বিষয়কে উপেক্ষা করছি যেটা এসবের চেয়েও বেশি গুরত্বপূর্ণ।

উম্মতের ঐক্য-সম্প্রীতি রক্ষা করাটা কি আমাদের জন্য ফরজ ছিল না!! এটাই কি একমাত্র লক্ষ্য হওয়া উচিত নয়??অথচ আল্লাহর রাসুল (সঃ) বলেছেন পুরো মুসলিম উম্মততো এক দেহের মতো। আমর কেন মনে করছি যে আমাদের হাত বেহেশতে যাক আর পা দোযখে যাক! আমরা কি তাহলে ভেবে নিয়েছি যে বেহেশতে আসন সংখ্যা সীমিত??  তাহলে কেনই বা আমরা ভাবছি যে আমার দল বেহেশতে গেলে আরেক হল যাওয়া যাবে না! বা তারা গেলে আমি যেতে পারবোনা! আমাদের কি উচিত না, আমরা সবাই সবার হেদায়তের জন্য দোয়া করা? আল্লাহর মাগফেরাতের তো কোন সীমাবদ্ধতা নাই। আমরা তো একই রবের গোলাম একই রাসুলের উম্মত! আমার নিজেরাই কেন সামান্য বিষয়ে নিজের বিভাজিত করছি? আমরা তো এক অভিন্ন শরীরের অঙ্গগুলো কেটে আলাদা করতে চাইছি। অঙ্গহানী করার পর আমরা এই পঙ্গু শরীর নিয়ে কি কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারবো? আমরা এক হাত দিয়ে আঘাত করছি আমাদের আরেক ভাইকে, আরেক হাত ব্যস্ত রেখেছি নিজেকে আরেকজনের উপদ্রব থেকে রক্ষা করতে। তাহলে কোন হাতে আমরা সমাজকে সংস্কার করবো?? শুধুই কি অজুহাতে??

আমরা কিছু ছোট খাট মতের অমিলকে ঢাল করে আরেকজনের ঘারে তলোয়ার চালাতে প্রস্তুত। কি দরকার ছিল এসব বির্তকের কলুষবাষ্পে আমাদের হৃদয়ে ইসলামের স্বচ্ছ আয়নাকে ঝাপসা করার?? নিজের হৃদয়ের আয়না যদি নিজেরাই ঝাপসা করে ফেলি, সে আয়নাতে কি রহমতের নূরের প্রতিফলন ঘটবে? আয়নায় কাদার প্রলেপ লাগিয়ে সারাদিন সূর্যের সামনে বসে থাকলেও কি আয়নায় সূর্য প্রতিবিম্ব পড়বে?? এতে কি দোষ সূর্যের নাকি আয়নার?? নাকি নিজের?

আমরা কুরআন পড়ি আরেকজনকে শেখানোর উদ্দেশ্যে, নিজের হেদায়তের জন্য নই। আমরা হাদিস পড়ি আরেকজনের মতবাদ কে ভুল প্রমাণ করার লক্ষ্যে, আরেকজনের ভুল ধরার উদ্দেশ্যে, নিজেকে সংশোধনের জন্য নই। আমরা জ্ঞান চর্চা করি নিজেদের স্যুটে বুদ্ধিজীবি নেইমপ্ল্যাট লাগানোর উদ্দেশ্যে, সমাজ কে সংস্কার করার লক্ষ্যে নয়। আমরা বক্তব্য দেয় বির্তকিত বিষয়ে সুড়সুড়ি দিয়ে নিজেদের খাজনা বাড়ানোর জন্য, মানুষকে সঠিক হেদায়তের জন্য নই।

আমরা তাদের পা চেটে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলছি যারা জ্ঞানের বিশ্বায়নের নামে স্যাকুলারিজমের স্যুট গায়ে মুক্তচিন্তার ট্যাগ লাগিয়ে ফেরিওয়ালার মতো বুদ্ধি বিক্রির পয়সায় উদর পূর্তি করে চলছে। আমরা ভাবছি তারা বুদ্ধিজীবি। আসলে এরাতো বুদ্ধিজীবি না, এরা শুধুমাত্র জীবিকার তাগিদে নিজেদের পঁচা মগজের দুর্গন্ধকে আতর বলে বিক্রি করে চলেছে,এরা বড়জোর কুবুদ্ধির ফেরিওয়ালা। আর আমরা তাদের পঁচা গলা মগজের জোল খেয়েই তৃপ্ত হচ্ছি। তাইতো আজ সারাবিশ্বে ১.৮ বিলিয়ন মুসলিম থাকা সত্ত্বেও ফিলিস্তিন, সিরিয়া,ইন্ডিয়া,কাশ্মির আরো অনেক দেশে আমাদের ভাই বোনেরা নির্যাতিত নিপীড়িত হচ্ছে। আমরা না পারছি তাদের সরাসরি সাহায্য করতে, না পারছি তাদের জন্য দোয়া করতে। কারণ আমরা নিজেরাই তো নিজেদের অভিশাপ দিতে ব্যস্ত। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ২৪.১% মুসলিম হয়েও কিছু নরপিশাচের হুংকারে কানে আঙ্গুল চেপে বসে পরি। আমাদের ইতিহাসের গৌরব উজ্জ্বল সিংহপুরুষদের ছবি দেখে নিজেরা শুধু বিড়ালের মতো নতশিরে দীর্ঘশ্বাস ফেলে নিজেকে সান্তনা দিয়ে যায়।

ইসলামের গোলাপ তো আমরাই বই এর পৃষ্টায় ফুটিয়ে রেখে দিয়েছি , বাস্তবে তো কাটার ভয়ে গোলাপের কাছেই যেতে চাইছিনা। কাটার ভয়ে গোলাপ না তুললে সুমিষ্টঘ্রাণ পাবো কিভাবে? কাগজের গোলাপের না আছে সুবাস, না আছে সৌন্দর্য। শুধুই স্থিরচিত্র দেখে সান্তনা। তাই আমাদের উচিত নিজেদের ভেতরকার সামান্য মতভেদ ভুলে সবাইকে নিজের ভাই হিসেবে বুকে টেনে নেয়া। উম্মতের ঐক্য ব্যতিত ইসলামি সমাজ গঠন নিতান্তপক্ষে কিচ্ছা কাহিনীতেই পরিসমাপ্ত হবে।

মূলধারার ইসলাম বলে শিষ্টের লালন,দুষ্টের দমন।আমাদের উচিত ইসলামকে অতিরঞ্জিত করা থেকে দূরে থাকা। আবার বিদায়াতের নামে কাটাছাটা করতেও সাবধানতা অবলম্বন করা। কুসংস্কার নির্মূলের নামে যেন নতুন অপসংস্কারের গোড়াপত্তন না করি। বির্তকিত ফেতনার বিষয় যতাসম্ভব এড়িয়ে চলা। বির্তক যদি জীবন ঘনিষ্ট বিষয় হয় তবে উচিত হবে উপযুক্ত ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে গঠনমূলক সমাধান করে নেয়া। নিজের মতে-পথে চলতে হলে অবশ্যই আরেকজনের মতকে সম্মান দিতে হবে, এই মূল্যবোধের বীজ যেন আমরা বপন করতে পারি। একান্তই আরেকজনের মত গ্রহন করতে না পারলে যাতে সম্মানের সাথে বিনয়ের সাথে অপারগতা প্রকাশ করি।

ইসলাম কখনো উগ্রতাকে প্রশ্রয় দেয়না। আমাদের অবশ্যই উগ্রপন্থা বাদ দিয়ে মধ্যপন্থা অবলম্বন করা উচিত। কারণ হাদিস মতে ইসলামের জন্য মধ্যপন্থায় উত্তম পথ। আমাদের মনে রাখা উচিত হেদায়াত পাওয়া বড় কথা না, হেদায়তের পথে চির অটল অবিচল থাকতে পারাটাই সার্থকতা। বির্তকের বেড়াজাল ছিন্ন করতে পারলেই মুক্তি মিলবে শয়তানের দাসত্ব থেকে। আর তবেই তো পুরোপুরি ভাবে চির মহিমান্বিত মহান রবের দাসত্ব বরণ করে নেয়া যাবে।

"হে আমাদের রব! আপনি হিদায়াত দেয়ার পর আমাদের অন্তর সমূহকে বক্র করবেন না, আপনার পক্ষ থেকে আমাদেরকে রহমত দান করুন। নিশ্চয় আপনি মহান দাতা।" সুরা আলে ইমরানঃ ০৮

 

লিখক: মুহাম্মদ রেজাউল করিম

এম.এস(জৈব রসায়ন)বি.এসসি অর্নাস (রসায়ন)

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

'মুক্তমত' বিভাগে প্রকাশিত লেখা লেখকের একান্তই নিজস্ব ।