মুরাদ হোসেন । মিশিগান প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র
আপডেট: ২০২৬-০৭-১৬ , ১০:২৩ এএম
ছবি: নাগরিক পত্রিকা
গতি, আবেগ এবং কর্ম—মানুষের জীবনে এই তিনটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজের কার্যকলাপ সম্পর্কে সঠিক চিন্তাভাবনা করতে না পারলে মানুষ অনেক সময় ভোগান্তির শিকার হয়। জীবনের ওপর এই তিনটি মাত্রার গভীর প্রভাব রয়েছে। যারা এগুলোর সঠিক ব্যবহার করতে পারে, তারা সফল হয়; আর যারা এগুলোর তাৎপর্য অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়, তারা ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়।
আবেগও এক ধরনের মানসিক ক্রিয়া, যা মানুষের জীবনকে সাফল্য কিংবা ব্যর্থতার দিকে পরিচালিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অষ্টাদশ ও ঊনবিংশ শতাব্দীতে মানুষের জীবনযাত্রা ছিল তুলনামূলক ধীরগতির। প্রকৃতি ও সামাজিক পরিবেশও ছিল দীর্ঘস্থায়ী অনুভূতি ও স্থিতিশীলতার অনুকূল। সে সময় মানুষকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিতে হতো না বা মুহূর্তের মধ্যে আবেগ প্রকাশের প্রয়োজন পড়ত না। ফলে আবেগের প্রকাশ ছিল সহজ, স্বাভাবিক এবং গভীর। এই কারণেই সে যুগে অসংখ্য কবিতা, লোকসংগীত, লোকগাথা, সাহিত্যকর্ম ও উপন্যাস রচিত হয়েছিল।
ঊনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগ এবং বিংশ শতাব্দীর শুরুতে চলচ্চিত্রের আবির্ভাব ঘটে। ধীরগতির দৃশ্যায়নসহ নানা নতুন উপস্থাপনা মানুষ সহজেই গ্রহণ করে এবং সেখান থেকে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
আজকাল সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। জীবন হয়ে উঠেছে কর্মব্যস্ত, প্রতিটি কাজের বিপরীতে আসছে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া, আর সাধারণ বিষয়গুলোও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। সমাজের প্রত্যাশা বেড়েছে এবং মানুষের ভূমিকা আগের তুলনায় অনেক বেশি কঠিন হয়ে পড়েছে। তবুও এক অদৃশ্য নিয়ম যেন সবকিছুকে ধরে রেখেছে।
একবিংশ শতাব্দীতে এসে মানুষ অনেকটাই ভুলে যাচ্ছে যে, মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই সাফল্যের অন্যতম প্রধান চাবিকাঠি। গানের জগতেও এসেছে ব্যাপক পরিবর্তন। মানুষের হাতে সময় কমে যাওয়ায় লোকসংগীতের জায়গায় রিমিক্স, হিপ-হপসহ বিভিন্ন আধুনিক ধারা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। স্মার্টফোন যোগাযোগের এক নতুন যুগের সূচনা করেছে। মানুষ প্রতিনিয়ত এটি ব্যবহার করছে, কিন্তু আত্মনিয়ন্ত্রণ না থাকলে এর নেতিবাচক প্রভাবও কম নয়।
প্রতিনিয়ত পরিবর্তনের এই পৃথিবীতে গতি ও আবেগের পাশাপাশি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়াও জরুরি। তাই ধৈর্য ও মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতাই সাফল্যের প্রকৃত ভিত্তি।
ধৈর্য কী? ধৈর্যকে একটি মূল্যবান অভ্যাস বলা যায়। এটি এমন একটি গুণ, যার মাধ্যমে মানুষ প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে চিন্তা করার সময় নেয়। অর্থাৎ, এক ধাপ পিছিয়ে এসে পরিস্থিতি বিবেচনা করে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করাই প্রকৃত ধৈর্য। এই গুণ একজন মানুষের ব্যক্তিত্বকে আরও পরিণত ও দৃঢ় করে তোলে।
বর্তমান বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা, মূল্যস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে বিপর্যস্ত। অনেক মানুষের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য নেই। ফলে মানুষ নানাভাবে সংকট থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে সাফল্য তখনই আসে, যখন কেউ পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারে এবং সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অন্যদিকে ধৈর্যের অভাবে মানুষ অনেক সময় হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের জীবন, কর্মজীবন ও ভবিষ্যৎকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরে সে ভাগ্য বা সৃষ্টিকর্তাকে দোষারোপ করে। অথচ প্রকৃত সত্য হলো—ধৈর্য ও মানসিক প্রশান্তিই সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।
ধৈর্যের চর্চা করা সম্ভব এবং তা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সৃষ্টিকর্তার প্রতি আস্থা মানুষের মানসিক দৃঢ়তা বাড়ায় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে। যোগব্যায়াম, নিয়মিত শরীরচর্চা ও সুস্থ জীবনযাপন মানসিক চাপ কমায়। উন্মুক্ত প্রকৃতি মানুষকে পরিবর্তনের শিক্ষা দেয়। প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে, আর মানুষও সেই প্রকৃতিরই অংশ। তাই সুস্থ মানসিকতা গড়ে তুলতে পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া অপরিহার্য।
অন্যদিকে, মানুষ যখন আশা হারিয়ে ফেলে, তখন তার আত্মবিশ্বাস ভেঙে পড়ে এবং জীবনের অগ্রযাত্রা থেমে যেতে পারে। তাই বর্তমান সময়ে অভিযোজন ক্ষমতা ও ইতিবাচক মানসিকতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব গুণের চর্চাই মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়।
উপসংহার
পরিশেষে, জীবনে সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ, কার্যকর যোগাযোগ, অতিরিক্ত আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং উত্তম আচরণ—এসবই একজন মানুষের সাফল্যের ভিত্তি। কেবল আবেগপ্রবণ হয়ে প্রতিক্রিয়া দেখানো নয়; বরং যুক্তি, ধৈর্য ও বিচক্ষণতার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়াই শ্রেয়। তাড়াহুড়ো না করে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে সঠিক ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি সৎ ও ভালো মানুষের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলা এবং এই বিশ্বাস রাখা উচিত যে, আমাদের প্রতিটি কাজই মহান সৃষ্টিকর্তার দৃষ্টির বাইরে নয়। এই মূল্যবোধগুলো অনুসরণ করতে পারলে আমাদের জীবন আরও সুন্দর, অর্থবহ ও সফল হয়ে উঠবে এবং আমরা একটি শক্তিশালী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম হব।
'মুক্তমত' বিভাগে প্রকাশিত লেখা লেখকের একান্তই নিজস্ব ।
Editor-in-Chief : Roman Sheikh
Telephone : +88 02-3333 98 040
Mobile : +88 017 111 43 818
Email Address :
news@nagorikpatrika.com.bd
editor@nagorikpatrika.com.bd
roman.nagorikpatrika@gmail.com
Address
Naya Nagar, Word-1, (KCC-Kotwali)
Uttara-12, Dhaka, Bangladesh.