ভিন্নমত যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী

 নাগরিক পত্রিকা ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০৯-১১ , ০৬:৩৫ এএম

ভিন্নমত যেন কোনোভাবেই শত্রুতায় রূপ না নেয়: প্রধানমন্ত্রী ছবি: নাগরিক পত্রিকা

গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে এর সুযোগ পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি নিতে পারে বলে সতর্ক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ‘গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, রাজনৈতিক প্রতিযোগিতাও থাকবে- এটাই গণতান্ত্রিক চর্চা। কিন্তু ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’ 

সংসদ নেতা আরও বলেন, রাজনৈতিক বিভেদ ও বিরোধ যদি গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোর মধ্যে এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যাতে পরাজিত ফ্যাসিস্ট শক্তি পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সুযোগ পায়, তাহলে গণতন্ত্রের জন্য তা হবে বড় বিপদ। তাই দলমত নির্বিশেষে দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ এবং পারস্পরিক সহনশীলতার মাধ্যমে সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ- এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি। 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় সংসদে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

সংসদে বাকস্বাধীনতা ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশে এখন গণতান্ত্রিক পরিবেশ বিরাজ করছে এবং বাকস্বাধীনতা রয়েছে। তবে বাকস্বাধীনতা যেন বাকশালীনতার সীমা লঙ্ঘন না করে, সেদিকেও সবাইকে খেয়াল রাখতে হবে। তারেক রহমান বলেন, কোনো বিবেকবান মানুষই চান না দেশে আবার ফ্যাসিবাদী বা স্বৈরাচারী শাসন ফিরে আসুক। একইভাবে রাজনৈতিক সংস্কৃতি যেন গালাগালিতে পরিণত না হয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। পারিবারিক পরিবেশে যে ধরনের শব্দ ব্যবহারে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে না, জনপরিসরেও সেসব শব্দ পরিহার করা উচিত।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আত্মত্যাগকারীদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে লাখো মানুষ জীবন দিয়েছেন। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানেও বহু মানুষ প্রাণ দিয়েছেন এবং অনেকে আহত ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। ন্যায়পরায়ণতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধ করা সবার পবিত্র দায়িত্ব।