নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯, এখনও নিখোঁজ ১ হাজার

 আন্তর্জাতিক ডেস্ক
আপডেট: ২০২৬-০৮-২৭ , ০৬:৩২ পিএম

নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫৯, এখনও নিখোঁজ ১ হাজার ছবি: আন্তর্জাল

তুষারধসের পর হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির ঢেউয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে নেপাল। চীনের তিব্বত অংশে তুষারধসের কারণে ভোটেকোশি নদীর একটি শাখা লহেন্দে নদীর প্রবাহ আটকে যায়।

পরে সেই বাধা ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি, বরফ, পাথর ও কাদা নেমে এসে তছনছ করে দিয়েছে নদীর তীরবর্তী জনপদ। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫৯ জন নিহত হয়েছেন এবং প্রায় ১ হাজারের মতো মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপাল পুলিশ।

নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি পর্যটক ও নিরাপত্তাকর্মীরাও রয়েছেন।

বুধবার (২৬ আগস্ট) সকালে নেপাল-চীন সীমান্তের রাসুওয়াগাড়ির কাছে তিমুরে প্রথম আঘাত হানে ভয়াবহ এই পানির স্রোত।

সেখানে শত শত মানুষের বসতি ছিল। কোনো বৃষ্টিপাত না থাকায় স্থানীয়রা এমন দুর্যোগের কোনো পূর্বাভাসও পাননি।ফলে মানুষ যখন নিজেদের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, তখনই উজান থেকে পানির বিশাল ঢেউ ধেয়ে আসে।

রাসুওয়ার প্রধান শুল্ক কর্মকর্তা রাজেন্দ্র ধুঙ্গানা জানান, সকালে মাটি কাঁপতে দেখে তিনি প্রথমে ভূমিকম্প হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু বাইরে বেরিয়ে তিনি দেখতে পান, উজান থেকে ধোঁয়ার মতো কিছু সঙ্গে নিয়ে প্রায় ১০০ মিটার উঁচু পানির দেয়াল বাজারের দিকে ধেয়ে আসছে। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তিমুরে বাজার এলাকা পানির নিচে চলে যায়।

পানির স্রোত থেকে বাঁচতে ধুঙ্গানা ও আরও কয়েকজন কাছের জঙ্গলে আশ্রয় নেন। এ সময় সীমান্তের শুল্ক চৌকিতে অপেক্ষমাণ তিন শতাধিক ট্রাক ও পণ্যবাহী যানও স্রোতে ভেসে যায়।

পরে স্রোত স্যাফ্রুবেশি ও ভাটির দিকে ছড়িয়ে পড়লে নদীর দুই তীরের প্রায় সবকিছুই এর পথে পড়ে। মানুষ, গবাদিপশু, বাড়িঘর, সড়ক, সেতু ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনা ভেসে যায়। নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ৩৯১ জন বিদেশি এবং ৪৪ জন নিরাপত্তাকর্মী রয়েছেন।

বন্যায় নয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের নয়টি শাখা ধ্বংস হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে ১৯টি যান চলাচলযোগ্য সেতু এবং প্রায় ৪০ কিলোমিটার মহাসড়ক পানির স্রোতে ভেসে গেছে। বেসরকারি ও সরকারি সম্পদের মোট ক্ষয়ক্ষতির হিসাব এখনো করা সম্ভব হয়নি।